বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২০২৩ইং অর্থ বছরের জন্য ৭১৭ কোটি ৯০ লক্ষ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২১-২০২২ইং অর্থ বছরে সংশোধিত বাজেটের পরিমাণ ছিল ৫৪৪ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা। আজ ২৯ জুন বুধবার বিশ্ববিদ্যায়ের বি ব্লকের নীচ তলায় ডা. মিল্টন হলে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাজেট সম্পর্কিত এ তথ্য জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ। বাজেট বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। এর আগে একই স্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৬তম সিন্ডিকেট সভায় সিন্ডিকেটের মাননীয় সভাপতি ও অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সিন্ডিকেটের সম্মানিত সকল সদস্যবৃন্দের সর্বসম্মতিক্রমে এই বাজেট অনুমোদিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল আজিজ, মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ, সম্মানিত সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, সম্মানিত উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, সম্মানিত সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল, অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. এএইচ এম জহিরুল হক সাচ্চু, বিশিষ্ট সাংবাদিক ওমর ফারুক, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবুর রহমান দুলাল, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা.স্বপন কুমার তপাদার, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) জনাব গৌর কুমার মিত্র প্রমুখসহ সম্মানিত ডীনবৃন্দ ও বিভিন্ন বিভাগের অফিস প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ঘোষণা করা হয় পরিচালন, প্রকল্পসহ উন্নয়ন বাজেট ও গবেষণা বাজেট।

সংবাদ সম্মেলনে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলেই স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন হয়েছে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর স্বপ্নও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাস্তবায়ন হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ অবশ্যই উন্নত দেশে পরিণত হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কোভিডকালীন পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে করোনার প্রাদুর্ভাব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক্ষেত্রে করোনা মোকাবিলায় জাতির পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত এই মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে দেশের সব রোগীরা যাতে দেশেই সর্বাধুনিক চিকিৎসা সেবা পান তা নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ধরে শীঘ্রই সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সম্মানিত কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এ দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এসব লক্ষ্য পূরণেই যতটা সম্ভব ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিনিয়ত বিশে^ নতুন নতুন বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে, যার মোকাবেলার জন্য গবেষণা অপরিহার্য। বর্তমান বাজেটে গবেষণা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। করোনা কালীন সময়ে জরুরী ভিত্তিতে অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং বর্তমান বাজেটে অক্সিজেন বাবদ পৃথক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কোভিড-১৯ মোকাবিলাতেও বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যক্রম, ভ্যাকসিন প্রদান, চিকিৎসাসেবা প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালু রয়েছে।

এবছর ঘোষিত বাজেটে ৭১৭ কোটি ৯০ লক্ষ টাকার মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (শিক্ষা মন্ত্রণালয়) থেকে প্রাপ্ত (৩২০.০০+১৪৪.৪৪)=৪৬৪.৪৪ (চারশত চৌষট্টি দশমিক চৌচল্লিশ) কোটি টাকা এবং বিশ^বিদ্যালয় নিজস্ব আয় থেকে (৬০.০০+২০)=৮০ (আশি) কোটি টাকাসহ, মোট =৫৪৪.৪৪ ( পাঁচশত চৌচল্লিশ দশমিক চৌচল্লিশ) কোটি টাকা সংগ্রহ হবে। মোট ঘাটতি =(১১২.৫৬ +৩৩.৯০+২৭)= ১৭৩.৪৬ (একশত ছয়চল্লিশ দশমিক ছয়চল্লিশ এক) কোটি টাকা যা সংশোধিত বাজেট সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে চাওয়া হবে। এবছর গবেষণা ও প্রশিক্ষণ খাতে ২৫ কোটি ১২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বৃত্তি ও মেধা বৃত্তিতে রাখা হয়েছে ৩৯ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। পথ্যতে রাখা হয়েছে ১০ কোটি টাকা। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন খাতে রাখা হয়েছে ১১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা। চিকিৎসা ও শৈল্য সরঞ্জামাদিতে রাখা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। অক্সিজেনের জন্য রাখা হয়েছে ১১ কোটি টাকা। ডেভলপমেন্ট ও বিবিধ খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৫ কোটি টাকা। বাজেটে বেতন ভাতা খাতে মোট ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে ৩৭৬ কোটি ৯ লক্ষ টাকা রাখা হয়েছে। বাকি টাকা পেনশন মঞ্জুরীসহ বিভিন্ন খাত ও উপখাতে ব্যয় করা হবে।