ফ্রিডম পার্টির ১১ জনের যাবজ্জীবন

যুগবার্তা ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার দায়ে ফ্রিডম পার্টির ১১ নেতাকর্মীর সাজা হয়েছে। অন্য এক আসামি বেকসুর খালাস পেয়েছেন।

২৮ বছর আগের ওই ঘটনায় দায়ের করা এক মামলায় আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরেক মামলায় ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জাহিদুল কবির আলাদাভাবে দুই মামলার রায় ঘোষণা করেন। দুটি মামলায়ই ১১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
হত্যাচেষ্টার মামলায় বিচার চলে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ওই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হয় বিকেলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনে বিচারিক আদালতের নিজস্ব এজলাসে।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন গোলাম সারোয়ার ওরফে মামুন, জজ মিয়া, ফ্রিডম সোহেল, সৈয়দ নাজমুল মাকসুদ মুরাদ, গাজী ইমাম হোসেন, খন্দকার আমিরুল ইসলাম কাজল, মিজানুর রহমান, মো. শাহজাহান বালু, লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রশিদ, জাফর আহম্মদ ও এইচ কবির ওরফে হুমায়ুন কবির। খালাসপ্রাপ্ত আসামির নাম হুমায়ুন কবির।

বঙ্গবন্ধুর খুনি লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান ও মেজর (অব.) বজলুল হুদাও এ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এই মামলা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়। অপর আসামি গাজী লিয়াকত হোসেন ওরফে কালা লিয়াকত মামলা চলাকালে মৃত্যুবরণ করায় তাঁর নামও মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রশিদ, কবির ও জাফর আহম্মদ পলাতক। তাঁরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর অথবা আত্মসমর্পণের পর সাজা কার্যকর করা হবে।

আসামি গোলাম সারোয়ার মামুন, সৈয়দ নাজমুল মাকসুদ ওরফে মুরাদ, ফ্রিডম সোহেল ও জজ কারাগারে ছিলেন। রায় ঘোষণার পর হাজির থাকা সব আসামিকে সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত রায়ে বলেন, ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় তাঁদের শাস্তি দেওয়া হলো। একজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁকে বেকসুর খালাস দেওয়া হলো।

গত ১৫ অক্টোবর হত্যাচেষ্টার মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হওয়ার পর রায় ঘোষণার জন্য তারিখ ধার্য করেছিলেন আদালত। আর ১৬ অক্টোবর বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের জন্য একই তারিখ ধার্য করা হয়।

কারাগারে থাকা আসামিদের গতকাল সকালেই হাজির করা হয় বিশেষ এজলাস কক্ষে। ওই আদালতের রায় ঘোষণার পর আসামিদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনে হাজির করা হয়।

হত্যাচেষ্টা মামলার রায় : হত্যাচেষ্টা মামলার রায়ে দণ্ডবিধির দুটি ধারায় ১১ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডবিধির ৩০৭ (হত্যাচেষ্টা) ও ১২০বি (হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র) ধারায় এই শাস্তি দেওয়া হয়। তবে আদালত পর্যায়ক্রমে সাজা খাটার আদেশ দেওয়ায় প্রত্যেককে ২০ বছর করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলায় প্রত্যেক ধারায় আসামিদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে প্রত্যেক ধারায় ছয় মাস করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলার রায় : এই মামলায় ১১ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে আরো ছয় মাস করে আসামিদের কারাভোগ করতে হবে।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি সাইফুল ইসলাম হেলাল। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসানসহ কয়েকজন আইনজীবী।

জানা যায়, ১৯৮৯ সালের ১০ আগস্ট মধ্যরাতে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কে শেখ হাসিনার বাসভবনে ফ্রিডম পার্টির সদস্য কাজল ও কবিরের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল গুলি ও গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। শেখ হাসিনা তখন বাসায় ছিলেন। ফ্রিডম পার্টির ঊর্ধ্বতন নেতাদের নির্দেশে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ওই হামলা চালানো হয়েছিল। হামলায় বাড়ির দেয়াল ও জানালার কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিরাপত্তাকর্মী আহত হন। হামলাকারীরা ‘কর্নেল ফারুক-রশিদ জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে দিতে পালিয়ে যায়।

পরে ওই বাড়িতে নিরাপত্তার দায়িত্বে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ধানমণ্ডি থানায় মামলা দায়ের করেন। ১৯৯৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ওই মামলায় ১৫ আসামির বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০০৯ সালের ৫ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

এরশাদ সরকারের আমলে এই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ঘটনার সঙ্গে কারো জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলা পুনরুজ্জীবিত করা হয়।

এর আগে কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি বোমা পুঁতে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় হরকাতুল জিহাদের ১০ নেতাকর্মীকে গত ২০ আগস্ট মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার আরেকটি আদালত।-কালেরকন্ঠ