আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিদায়ের বেলায় ফের অভিশংসিত হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম কোন প্রেসিডেন্ট ২ বার অভিসংশনের মুখে পতিত হলেন। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ভোটাভুটিতে পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১১ রিপাবলিকান। বিবিসিসহ বিভিন্ন গনমাধ্যম এ সংবাদ প্রকাশ করেছে।

ক্যাপিটল হিলে সহিংস জনগণকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে বুধবার (১৩ জানুয়ারি) এই প্রস্তাব পাশ হয়। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের সদস্যরা ২৩২-১৯৭ ভোটে ট্রাম্পকে অভিশংসনের সিদ্ধান্ত দেন। ডেমোক্র্যাটদের আনা এই প্রস্তাবে ১১ জন রিপাবলিকান নেতাও ভোট দেন।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সোমবার ডেমোক্র্যাটদের আনা প্রস্তাবে অভিযোগ করেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অখণ্ডতাকে হুমকির মুখে ফেলেছেন। তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেননি। তাকে অফিসে থাকতে দিলে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা, গণতন্ত্র, এবং সংবিধানের জন্য হুমকিস্বরূপ।

এর আগে ২০২০ সালে ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে ট্রাম্পকে অভিশংসিত করা হয়। তখন ট্রাম্প সিনেটের ভোটাভুটিতে তার পদ রক্ষা করতে সক্ষম হন। দেশটির আইনে কোন প্রেসিডেন্ট অপরাধমূলক বা রাষ্ট্রদোহী কোনো কাজে যুক্ত হলে তাকে অব্যাহতির জন্য অভিশংসন প্রক্রিয়া চালানো হয়।

গত নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয় অনুমোদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা বুধবার কংগ্রেসের এক যৌথ অধিবেশনে বসেন। উভয় কক্ষের এই অধিবেশনে পপুলার ভোটের ভিত্তিতে ইলেকটোরাল কলেজের দেয়া ভোটগুলো গোনা হয় এবং তা চূড়ান্তভাবে প্রত্যয়ন করা হয়। অধিবেশনের কয়েক ঘন্টা আগে থেকেই এর বিরোধিতা করে ওয়াশিংটনে জড়ো হতে থাকেন কয়েক হাজার ট্রাম্প সমর্থক। সমাবেশে বক্তব্য দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে তিনি নভেম্বরের নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দেন।

কাছাকাছি সমাবেশ হওয়ায় ট্রাম্পের কয়েকশ উগ্র সমর্থক ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালায়। নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। ভবনে ঢুকে ভাঙচুরও চালান। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদুনে গ্যাস ও পেপার স্প্রে ব্যবহার করে পুলিশ। গোলাগুলি এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। ওয়াশিংটনে জারি করা হয় কারফিউ।