‘ফনী’ মোকাবেলায় প্রস্তুত বাংলাদেশ

মাহাবুবুর রহমানঃ বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’।আগামীকাল শুক্রবার বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে। মংলা ও পায়রা বন্দরকে ৭ নম্বর ও চট্টগ্রাম নদী বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেওয়া হয়েছে। সকল নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় সকল ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ ।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছেন, ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ এখন দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। ‘ফণী’ মোকাবেলায় নেওয়া হচ্ছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

আবহাওয়াআরও জানান, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ আরও সামান্য উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

আজ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১০২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৯২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ১৬০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে সকল যান চলাচলে নিষেধ করা হয়েছে।বরিশাল সহ সারাদেশে নৌযান চলাচলে নিষেধ করা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস আরও জানান, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা, মংলা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে এবং সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অফিস একই সাথে জানায়, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানতঃ শুষ্ক থাকতে পারে।

সর্বশেষ খবরে বলা হয়েছে, আগামীকাল সন্ধ্যায় মাঝারী বা বড় আকারে বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে।এ জন্য ১৯ জেলাকে বেশী সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। ৪১ হাজার খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সাইক্লোন সেন্টারসহ উপকূল অঞ্চলের সেন্টারগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে সতর্ক অবস্থা জারি করা হয়েছে ভারতে ওড়িশা, তামিলনাড়ু ও অন্ধ প্রদেশকে। এ অঞ্চলে ক্ষতির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী আশংকা করা হচ্ছে।