‘প্রৌঢ়া’,আর ‘বৃদ্ধা’

‘’

শেখর বসু মল্লিকঃ এ রকম অসংগতি হামেশাই আমাদের চোখে পড়ে। আবার ‘মধ্য বয়স্ক’ বিশেষণটিও জুড়ে দেওয়া হয় মাঝে মধ্যে। কোনটি ঠিক? হরিচরণ বন্দোপাধ্যায়ের ‘বঙ্গীয় শব্দকোষ’-এ ‘প্রৌঢ়’ অর্থে ‘ত্রিংশদ্বর্ষ হইতে পঞ্চপঞ্চাশদ্‌বর্ষ বয়ঃক্রমযুক্ত, মধ্যবয়স্ক’ এবং ‘বৃদ্ধ’ বলতে ‘সপ্ততিবর্ষের ঊর্দ্ধ্ববয়স্ক’ বলা হয়েছে। এ ছাড়াও নানা অর্থ আছে। এটি অবশ্য অঙ্কের হিসেব, এতেও ৫৫ থেকে ৭০— এর মধ্যে যাঁদের বয়স, তাঁদের কী বলে ডাকা হবে, সে বিষয়ে কোনও দিকনির্দেশ নেই। তা ছাড়া সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থও পালটে যায়, আমরা জানি।
যারা ৬৫ ছুঁই-ছুঁই, অথচ পুরোদমে কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছি, নিজেদের বুড়ো বলে ভাবতে তাদের অস্বস্তি হয়। এ ব্যাপারটাকে একটা নির্দিষ্ট ঢালাও নিয়মে আনা অবশ্যই শক্ত। একই বয়সের মানুষ তো ভিন্ন ভিন্ন শারীরিক ও মানসিক অবস্থানে থাকেন। আগে লোকে যে বয়সে বুড়িয়ে যেতেন, বা নিজেকে প্রৌঢ় ভাবতেন, এখন সে বয়সে নিতান্তই জোয়ান ভাবেন, এমন উদাহরণও আমাদের চার পাশেই প্রচুর।
সামগ্রিক ভাবেই বোধহয় বয়স্ক মানুষ এখন আগের তুলনায় অনেক কর্মসক্ষম। চিন্তা-ভাবনার কথা তো বাদই দিলাম। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বা অমিতাভ বচ্চনকে বুড়োর ইমেজের সঙ্গে একেবারেই মেলানো যাবে না। প্রণব মুখোপ্যাধায়, অমর্ত্য সেন, মনমোহন সিংহের ক্ষেত্রেও সে কথা খাটে। বৃদ্ধ হওয়ার মাইলস্টোনটি প্রতিনিয়ত পিছিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে। কিছু দিন পর হয়তো অশীতিপরকেও বৃদ্ধ বলতে আমাদের দ্বিধা হবে। এই সে দিন, প্রায় সত্তর বছর বয়স্ক এক প্রৌঢ়া যেই না শশী কপূরের মৃত্যূসংবাদ শুনলেন, সখেদে বলে উঠলেন, ‘ইস! ঊনআশি একটা যাওয়ার বয়স হল!’