প্রাণচঞ্চল শেয়ারবাজার, ডিএসইর লেনদেন ৫শ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

8

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে কড়াকড়ি ও শেয়ারের দর লোভনীয় পর্যায়ে চলে আসায় বিনিয়োগকারীরা নতুন করে সক্রিয় হচ্ছেন। আস্তে আস্তে নতুন বিনিয়োগকারীদের আগমনে মুখর হচ্ছে ব্রোকারেজ হাউসগুলো। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে (বিডিবিএল) নতুন করে ঢেলে সাজার পরিকল্পনাও বিশেষ কাজে আসছে বলে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়ে চলছে তার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না শেয়ারবাজার। সেখানে দেশের অর্থনীতির প্রভাব নেই। বিশেষ করে অর্থনীতির সব সূচক যখন উর্ধমুখী ঠিক সেই সময় নিম্নমুখী শেয়ারবাজারের সূচক। তাই সরকারও আন্তরিক শেয়ারবাজারে দিকে নজর দিতে। এরই অংশ হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) পাশাপাশি বিডিবিএলকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে বিকল্প বিনিয়োগ সংস্থা হিসেবে। যাতে শেয়ারবাজার একক কোন প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল না থাকে। পাশাপাশি সম্প্রতি লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে বাংলা বন্ড নামের নতুন একটি বন্ড তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রবাসীরা এই বন্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে। মূলত সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই বার্তাই পৌঁছছে যে, সরকার শেয়ারবাজার উন্নয়নে আগ্রহী। এরই প্রতিফলন ঘটছে শেয়ারবাজারের সার্বিক লেনদেনে। গত কয়েকদিন ধরে শেয়ারবাজারের আকাশে কালো মেঘ কাটতে শুরু করেছে, দেখা দিচ্ছে নতুন আশার আলো। সেই আলোতেই আলোকিত হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের মুখ। সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নীরবতা ভেঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা লেনদেনে ফিরেছে। যার কারণে প্রায় দুই মাস পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন ৫শ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মা, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, ডাচ বাংলা ব্যাংকের মতো শেয়ার বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের তালিকায় চলে এসেছে। ফলে বিদেশী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মতো দেশের বাজারের বড় বিনিয়োগকারীরাও অংশগ্রহণ বাড়াচ্ছে। এছাড়া ডিসেম্বর ক্লোজিংকে কেন্দ্র করে পোর্টফলিও পুনর্বিন্যাস করার চাপও রয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্যাংকের পক্ষ থেকে। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিজেদের জন্যেও শেয়ারবাজারকে চাঙ্গা করার তাগিদ রয়েছে। সবমিলে শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ বিরাজ করছে। বিএসইসির এক উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া দুই স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তারা যেসব দাবি জানাচ্ছেন সেগুলোও পূরণ করা হচ্ছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন, এছাড়া ব্যাংকের সুদহার এবং সঞ্চয়পত্রের সুদের হারের কারণেও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, শেয়ারবাজারে এখন বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার লোভনীয় পর্যায়ে রয়েছে। আকর্ষণীয় মূল্য হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের জন্য অনেক বিনিয়োগকারী এখন বাজারমুখী হচ্ছে। আগামীতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। এক মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, শেয়ারবাজারের সব কিছুই এখন ইতিবাচক। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে অনেকেই এখন বাজারমুখী হচ্ছেন আগামীতে এই হার আরও বাড়বে। আগামী মাসে ডিএসইর লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ৫ দিনের মধ্যে ৪ দিন সূচক বেড়েছে। আর বাকি একদিন সূচক কমেছে। বাড়া-কমার হিসেবে সার্বিকভাবে ডিএসইতে সূচক বেড়েছে। গত সপ্তাহে ডিএসইর গড় লেনদেন হয়েছে ৪৮৫ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে সেখানে লেনদেন হয়েছে ৩৯৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সেখানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৯০ কোটি টাকা। সবমিলে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারে গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। একইসাথে সেখানে সূচকও আগের সপ্তাহের চেয়ে বেড়েছে দশমিক ৫৩ শতাংশ।-আমাদের সময়.কম