প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস, আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবেন শিক্ষকরা

যুগবার্তা ডেস্কঃ আন্দোলনের বিষয়ে ফেডারেশনের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতারা।
সোমবার সন্ধ্যায় গণভবন থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।
শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবিগুলো বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ্যা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন তারা সাধারণ সভা করে আন্দোলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে সাধারণ সভাটি কবে হবে তা এখন ঠিক হয়নি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শিক্ষক নেতাদের বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব।
এরআগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সন্ধ্যায় গণভবনে এ বৈঠক হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, জনপ্রশাসন সচিব ও অর্থ সচিবও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে তারা তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে খুব ইতিবাচক মনে হয়েছে। তিনি বলেছেন, তিনি শিক্ষকদের দাবিগুলো বিষয়ে দেখবেন। এ জন্য তিনি শিক্ষকদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সাধারণ সভা করে এখন তারা আন্দোলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
জানা গেছে, মোট পাঁচ জন শিক্ষক নেতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও মহাসচিব এএসএম মাকসুদ কামালসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির কয়েকজন নেতা ছিলেন। গণভবনে পিঠা উৎসব উপলক্ষে শিশুদের নৃত্য পরিবেশনার আয়োজন করা হয়।
গণভবনে আজকের পিঠা উৎসব উপলক্ষে গত রোববার তাদের নিমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখনই ধারণা করা হচ্ছিল শিক্ষকদের কথা শুনতে চান প্রধানমন্ত্রী। তবে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছিল না। আজকের অনুষ্ঠানে শিক্ষক নেতারা যোগ দিলে তাদের সঙ্গে শুভে”ছা বিনিময়ের পর তাৎক্ষণিক ভাবেই তাদের কথা শুনতে রাজি হন প্রধানমন্ত্রী। তার পরিপ্রেক্ষিতে এ বৈঠক শুরু হয়।
গণভবনে পিঠা উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।
এর আগে পিঠা উৎসব উপলক্ষে নিমন্ত্রিত শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী-রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকরা একে একে গণভবনে এসে পৌঁছান। ‘নতুন ধানের চিড়া’ গান দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী একে একে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
উল্লেখ্য, মর্যাদা ও বেতন প্রশ্নে বিভিন্ন পর্যায়ে আন্দোলনের পর ১১ জানুয়ারি থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে আসছেন দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। গত ২ জানুয়ারি এই লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সবকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা এ কর্মসূচি পালন করছেন। এ সমস্যা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছাও পোষণ করেছিলেন তারা।এম এ আহাদ শাহীন, আমাদের সময়.কম