পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর দাবি

যুগবার্তা ডেস্কঃ পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি হকার্স ইউনিয়নের। আজ বেলা ১২ টায় পল্টনের মুক্তিভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন নেতৃবৃন্দ। এ সময় তারা ১০ দাবি তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেট উত্তর দেন সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হাশেম কবীর, কার্যকরি সভাপতি মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, সহ-সভাপতি আবুল কালাম, শহীদুল ইসলাম, আহমেদ আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিমউদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেত্রী শাহিনা আক্তার, কেন্দ্রীয় নেতা মো. মনজু, মোঃ মজিদ, আজিজুল ইসলাম প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২২ জানুয়ারি পুলিশ সপ্তাহ পালনকালে হকারদেরকে ফুটপাত ছেড়ে দিতে বলে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, প্রশাসন তাদেরকে এই বলে আশ্বস্ত করে যে, তারা পুলিশ সপ্তাহ শেষ হলে আবারও ফুটপাতে ব্যবসা করতে পারবে। কিন্তু ইতিমধ্যে প্রায় আড়াই মাস অতিবাহিত হয়েছে, শেষ হয়েছে পুলিশ সপ্তাহ। কিন্তু হকারদের আর ফুটপাতে প্রশাসন বসতে দিচ্ছে না। এই অবস্থায় হকারি পেশা ও তাদের জীবন ধারণের পথ অনিশ্চয়তার দিকে চলে যাচ্ছে। ঢাকা মহানগরীর ৪ লাখ হকার বেকারে পরিণত হয়েছে। এই ৪ লাখ বেকার মানুষ তাদের পরিবারের সদস্য নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তাদের ছেলে মেয়েদের লেখা-পড়া বন্ধ হয়ে গেছে। কেউ কেউ পেটের তাগিদে বিপথে চলে যেতে পারে। এতে আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটবে।

মহানগরীর লোকাল গার্মেন্টসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প যাদের উৎপাদিত মালামাল হকাররা বিক্রি করে তারা ও কর্মহীন হয়ে যাচ্ছে। হকারি পেশা বন্ধ থাকার করণে অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। এই সুযোগে অশুভ মহল রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের সুযোগ পাচ্ছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ৭০/৮০ লক্ষ স্বল্প আয়ের মানুষ যারা ফুটপাতের কেনাকাটার উপর নির্ভরশীল। একদিকে যেমন এই মানুষগুলো ব্যবসা করতে না পেরে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তী, বাড়ী ভাড়া বকেয়া পড়ছে। ফলে তাদের পিঠ এখন দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছে। এই দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষগুলো নিরুপায় হয়ে প্রতিরোধ সংগ্রামে নেমেছে। প্রতিদিন বিক্ষোভ সমাবেশ, রাজনৈতিক নেতাদের বাড়ী এবং অফিসে ধর্নাসহ নানা ধরনের কর্মকান্ড পরিচালনা করছে জীবনের তাগিদে।