পুকুর খনন করে সূপেয় পানি সমস্যার সমাধান করা হবে–মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন

মোঃ নূর আলমঃ উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় পুকুর খনন করে সর্বাগ্রে সুপেয় পানির সমস্যার সমাধান করা হবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রয়েছে। তাদের সাথে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা হবে। এছাড়া সকল সংসদীয় নির্বাচনি এলাকায় পুকুর এবং খাল খনন প্রকল্প সরকার বাস্তবায়ন করছে। আজ সকালে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আয়োজিত ”জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে” স্থানীয় পর্যায়ে মতবিনিময় সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন এমপি প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

শনিবার সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার এমপি, সচিব আব্দুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীপক কান্তি পাল, অতিরিক্তি সচিব ( জলবায়ু পরিবর্তন ) ড. নুরুল কাদির, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর এ কে এম ফারুক হাসান ও বাগেরহাটর জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস।

এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পĽজ চন্দ্র রায়, কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন মোংলার কমান্ডার ক্যাপ্টেন মিনারুল হক, উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হ্ওালাদার, উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম, উপজেলা আ্ওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ সুনিল কুমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার বাগেরহাট জেলা সমন্বয়কারি সাংবাদিক মোঃ নূর আলম শেখ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট’র অধ্যাপক ড. নাজমুস সাদাত, পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক সালমা বেগম, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মনজুর মোর্শেদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্ববায়ন কর্মকর্তা মোঃ নাহিদুজ্জামান নাহিদ, ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আকবর হোসেন, সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি গাজী জহুর হোসেন প্রমূখ।

মতবিনিময় সভা সঞ্চলনা করেন খুলনা সার্কেলের বনসংরক্ষক মোঃ আমীর হোসেন চৌধুরী।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার এমপি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকার নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। সব সমস্যার সমাধান এক সাথে করা সম্ভব না। নিরাপদ পানির সমস্যার সমাধান পুকর খনন এবং পরিচর্যার মাধ্যমে করতে হবে। এছাড়া বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য হতদরিদ্র মানুষের মাঝে ট্যাংকি বিতরণ করতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী বলেন নদী ভাঙ্গন এবং সুপেয় পানির সংকট সকলের আলোচনায় উঠে এসেছে। নিরাপদ পানির সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। বিষ বছর ধরে এই সংকট চলছে যা এখনো সমাধান হয়নি।

সভাপতির বক্তৃতায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া বলেন জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। সুন্দরবন এবং দুবলা চরে কিছু সাইক্লোন নির্মানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বাংলাদেশ এক সময় খরা, দুর্ভিক্ষ, বন্যা, মঙ্গার দেশ ছিলো। ২০০৯ সালের বাংলাদেশ এখনকার বাংলাদেশ এক না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এখনকার বাংলাদেশ হলো স্বপেśর বাংলাদেশ। মতবিনিময় সভায় উপকূলীয় মোংলা-রামপাল অঞ্চলের জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, বন বিভাগের কর্মকর্তা, সুন্দরবন সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতৃবৃন্দ, পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীসহ সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।