পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা ছাড়া মনুষ্যত্ব নিয়ে বাঁচা যাবে না

1

যুগবার্তা ডেস্কঃ মহান রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ১০২তম বার্ষিকী ও ৩৯তম পার্টি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল(মার্কসবাদী) ঢাকা মহানগর এক আলোচনা সভা আজ বিকালে রাজধানী তোপখানা রোডস্থ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে।

মহানগর নেতা নাঈমা খালেদ মনিকার সভাপতিত্বে ও মাসুদ রানার পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বাসদ(মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী এবং কেন্দ্রীয় কার্য পরিচালনা কমিটি সদস্য কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী। সভায় গণসংগীত ও কমিউনিস্ট ইন্টারন্যশনাল পরিবেশন করে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী বলেন, ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে দুনিয়ার ইতিহাসে প্রথম শ্রমিকশ্রেণীর রাষ্ট্র ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বলশেভিক পার্টির নেতৃত্বে রাশিয়ার শ্রমিকশ্রেণী দুনিয়ার বুকে এ সত্য প্রতিষ্ঠিত করে যে, শ্রমিক শ্রেণী রাষ্ট্র পরিচালনার সামর্থ্য রাখে। ব্যক্তি মালিকানার অবসান ঘটিয়ে সম্পত্তির সামাজিকীকরণ এবং ব্যক্তি মালিকের মুনাফার পরিবর্তে মানুষের প্রয়োজন মেটানোর লক্ষ্যে পরিচালিত পরিকল্পিত অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার ফলে মাত্র ২০ বছরের মধ্যে পশ্চাদপদ রাশিয়া অগ্রসর শিল্পোন্নত দেশে পরিণত হয়েছিল। কৃষিতে যৌথীকরণের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি ও সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হয়েছিল, সকলের জন্য রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কাজের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভিক্ষাবৃত্তি-পতিতাবৃত্তি-বেকারত্বের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা হয়েছিল। সামাজিক অপরাধ বহুলাংশে কমে এসেছিল, রাশিয়ায় দীর্ঘকালব্যাপী চলে আসা জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের অবসান ঘটিয়ে সকল জাতি-সম্প্রদায়-ভাষার গণতান্ত্রিক অধিকার ও বিকাশ নিশ্চিত করা হয়েছিল, জনসাধারণের সাংস্কৃতিক মানোন্নয়নের জন্য শিল্প-সাহিত্য-খেলাধুলার চর্চাকে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিল।নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও অবাধ বিকাশের রাস্তা খুলে গিয়েছিল। এসব দেখে রবীন্দ্রনাথের মতো মানবতাবাদী সাহিত্যিক বলেছিলেন, রাশিয়ায় না এলে আমার এ জন্মের তীর্থ দর্শন অসমাপ্ত থাকতো। শুধু তাই নয়, দুনিয়া জুড়ে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন-যুদ্ধের বিরুদ্ধে সাম্য-প্রগতি-গণতন্ত্র ও জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল রাশিয়া। কমরেড স্ট্যালিন ও কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে সোভিয়েত জনগণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অপরিসীম আত্মত্যাগের বিনিময়ে নাৎসি জার্মানিকে পরাজিত করে দুনিয়াকে ফ্যাসিবাদের বিপদ থেকে রক্ষা করেছিল। এভাবে, নভেম্বর বিপ্লব মানুষের মুক্তির সংগ্রামের ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা করেছিল।”