পারভেজ মোশাররফের সাথে সাক্ষাতের প্রচারণা অসত্য

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশের জেলে থাকাকালীন তার সঙ্গে বাংলাদেশ সফররত পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি বলে দাবি করে আসামের স্বাধীনতাকামী সংগঠন ইউনাটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়া বলেছেন, এটা ছিল আমার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা। একজন বন্দী কীভাবে একজন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। একি সম্ভব? প্রশ্ন রাখেন অনুপ চেটিয়া।
দীর্ঘ ১৮ বছর বাংলাদেশের কারাগারে বন্দিত্ব জীবন শেষে গতবছর ১১ নভেম্বর দেশে ফেরার পর গত ২৬ জানুয়ারি আসামের ডিব্রুগড় জেলার জেরাইগাঁওয়ে নিজ বাড়িতে আমাদের অর্থনীতিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এ কথা বলেন অনুপ চেটিয়া।
অনুপ চেটিয়া বলেন, আমি জেলে থাকার সময় আওয়ামী লীগের কিছু নেতা এই অভিযোগ করেছিল। আমি নাকি সোনারগাঁও হোটেলে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের সঙ্গে মিটিং করেছি। এটা সম্পূর্ণ অসত্য কথা। কারণ জেলখানা থেকে একজন লোক যখন বের হয়ে যাবে সেখানে নথিভুক্ত থাকে। তারপরে সে সময় সার্ক সম্মেলন হ”িছল। আর সোনারগাঁও হোটেলে আমার মতো লোক। বাংলাদেশে আমার মুখ পরিচিত ছিল। প্রচারমাধ্যম আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছে। আমার ফেস তো বাংলাদেশে পপুলার ছিল। আমি গেলে যেভাবে হউক পাবলিক তো দেখবে। পুলিশ দেখবে। গেলে তো দিনে যেতে হবে। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আমি কখনই যায়নি, দেখা করিনি।
তিনি বলেন, আমার একটা অনুমান যখন সার্ক সম্মেলন চলছিল। সে সময় আমি দাঁতের চিকিৎসার জন্য পিজিতে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) গিয়েছিলাম। ওখান থেকে আমাকে মুখের এক্সরে করানোর জন্য নিয়ে গিয়েছিল ইবনে সিনা হাসপাতালে। কারণ পিজিতে ফুল এক্সরে ছিল না। তো আমাকে ইবনে সিনা নিল। ইবনে সিনাতে যাওয়ার সময় আমার সঙ্গে যারা এসকর্ট সিকিউরিটি ছিল তাদেরকে আমি বললাম, ভাই আমি জেলখানায় বসে বসে বোর হয়ে গেছি, আমাকে একটু ঢাকা শহর ঘুরে দেখান। তারা আমার কথামতে পাš’পথ দিয়ে ধানমন্ডি নিয়ে গিয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই আমার ফিরতে একটু দেরি হয়েছিল। অনেকদিন পরে একটু বেশি সময় ঢাকা শহরে ঘুরতে পেরে ভালো লাগছিল। আমার মধ্যেও আনন্দ আনন্দ ভাব ছিল। জেলখানায় সেসময় আওয়ামী লীগের কিছু নেতা ছিল। তারা আমার মধ্যে আনন্দভাব দেখে সন্দেহ করেছে। আমি তাদের নাম বলব না। তাদের মধ্যে একজন আমাকে বলেছিল দাদা আপনার আনন্দের কারণ কী?
আমি তাকে বললাম, অনেকদিন পর ঢাকা শহর ঘুরলাম এই জন্য ভালো লাগছে। সেই সময় সার্ক সম্মেলন চলছিল। আওয়ামী লীগের নেতাদের মনে হয়তো সন্দেহ হয়েছে আমার এত আনন্দ ভাব দেখে। তারা হয়তো ভেবেছে, আমি পারভেজ মোশাররফের সঙ্গে দেখা করে এসেছি। এটা আমার অনুমান। এ কথাটাই পরে প্রচার হয়েছে। এটা মিথ্যা কথা। একজন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আমার দেখা হবে আর প্রচারমাধ্যম জানবে না তা হয় না। আর বাংলাদেশের প্রচারমাধ্যম তো অনেক শক্তিশালী। তারপরে ধরেন, আমাদের লোক তো আরও ছিল। তার সঙ্গে তো আমার দেখা করার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশে তখন আমাদের লোকতো আরও ছিল। প্রয়োজন থাকলে তাদের মাধ্যমেই তো কাজ করতে পারে। সে সময় বাংলাদেশে উলফার কমান্ডার ইন চিফ ছিল, চেয়ারম্যান ছিল। তাছাড়াও উলফার সেন্ট্রাল কমিটির অনেক নেতা ছিল।মাছুম বিল্লাহ,আমাদের সময়.কম