পশুর নদীতে ডুবন্ত জাহাজ বিলাস থেকে ১শ টন কয়লা তুলেছে

মোংলা থেকে মোঃ নূর আলমঃ সুন্দরবনের পশুর নদীতে ডুবন্ত জাহাজ এমভি বিলাস থেকে শনিবার ১শ মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছে। স্থানীয় হোসেন স্যালভেজ’র মাধ্যমে ডুবন্ত জাহাজের মালিক পক্ষ এই কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নিয়েছেন।
হোসেন স্যালভেজের পরিচালক মোঃ সোহরাব হোসেন জানান পাম্প মেশিন এবং ড্রেজিং মেশিন দিয়ে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। জোয়ারের সময় প্রবল স্রোত থাকায় কাজ করা যাচ্ছে না। এ পর্যন্ত ১শ মেট্রিক টন কয়লা তোলা হয়েছে। সব কয়লা তুলতে ৭দিন এবং ডুবন্ত জাহাজের বডি তুলতে ২০দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন মোঃ সোহরাব হোসেন। অন্যদিকে কাজ মনিটরিং করছে বন বিভাগ। সুন্দরবনের হারবারিয়া ফরেস্ট অফিসের অফিসার ইনচার্জ শামসুল হক জানান বন বিভাগের পক্ষ থেকে কয়লা ভর্তি জাহাজ ডুবির ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। সময় মতো ডুবন্ত জাহাজ তুলতে না পারলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে পরিবেশ আইনে মামলা করা হবে। আমরা প্রতিদিন এসে কয়লা উত্তোলন পর্যবেক্ষণ করছি। ডুবন্ত জাহাজ এমভি বিলাসের মাষ্টার ফরিদী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে কাজ তদারকি করছেন। এছাড়া শনিবার সকালে বন বিভাগ, কোস্ট গার্ড এবং কয়লা আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান সাহারা এন্টারপ্রাইজের কর্মকর্তাগণ জাহাজ ডুবির স্থান পরিদর্শন করেন। পরিদশনকারী কর্মকর্তাগণ আশা করছেন ১ সপ্তাহের মধ্যে কয়লা উত্তোলন এবং ২০/২৫ দিনের মধ্যে ডুবন্ত জাহাজ উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য গত ১৫ এপ্রিল ভোর রাতে ৭৭৫ টন মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে সুন্দরবনের পশুর নদীতে লাইটার ভ্যাসেল এমভি বিলাস ডুবে যায়। ২১ এপ্রিল শনিবার কয়লা উত্তোলনের ২য় দিনে আনুমানিক ১শ মেট্রিক টনের বেশী কয়লা উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার অপারেশন মোঃ লালন হ্ওালাদার। অন্যদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে পশুর নদীর চ্যানেলে বাণিশান্তার কাছে প্যাভলিনা-১ নামের একটি জাহাজ ২৫ বছর ধরে ডুবে আছে যা এখনো উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে পশুর চ্যানেলে আউটারবার চ্যানেলে এমভি আইচগাতি ১ হাজার টন কয়লা নিয়ে ডুবে যায়। এই লাইটার ভ্যাসেলটি তুলতে সময় লাগে প্রায় ১ বছর। এখনো পর্যন্ত উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি ২৩৫ মেঃ টন নিয়ে ২০১৬ সালের মার্চ মাসে সুন্দরবনের শেলা নদীতে ডুবে য্ওায়া সী হর্স লাইটার ভ্যাসেল। এছাড়্ওা ২০১৫ সালে পশুর নদীতে ৫১০ টন কয়লা নিয়ে ডুবে যায় এমভি জিয়ারাজ, ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর এমভি ওটি সেভেন সাড়ে তিন লাখ লিটার তেল নিয়ে ডুবে যায় শেলা নদীতে, এমভি বিপাশা ১শ টন টিএসপি সার নিয়ে ২০১৩ সালে ডুবে যায় পশুর নদীর বাণীশান্তা এলাকায়। ২০১৭ সালের জুন মাসে সিমেন্টের কাচামাল নিয়ে সুন্দরবনের হাড়বাড়িয়ায় এলাকায় ডুবে যায় এমভি শোভা। কয়লা, তেল, সার এবং সিমেন্টে’র কাচামাল ভর্তি লাইটার জাহাজ ডুবির ফলে পশুর চ্যানেল ঝুকিতে আছে, চ্যানেল সরু হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন এমভি নিউটেক-৩ লাইটার ভ্যাসেলের চালক মোঃ এনামুল হক। তিনি আরো জানিয়েছেন জাহাজ ডুবির ফলে নদীতে চর পড়ে যাচ্ছে এবং যে কোন সময়ে ডুবন্ত জাহাজে ধাক্কা লেগে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাদের দাবী দ্রুত ডুবন্ত জাহাজ উত্তোলন করা হোক। অন্যদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিন’র অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুন বলেন এসব জাহাজ ডুবির ফলে সুন্দরবনের জলজ প্রাণী খাদ্য সংকটে পড়ছে। তাদের প্রজননে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে ডলফিন এবং কুমির এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। এছাড়া জোয়ার-ভাটার কারনে দুষিত পানি সুন্দরবনের মধ্যে প্রবেশ করে উদ্ভিদ এবং জীব-বৈচিত্র’রও ক্ষতি সাধিত হয়।