পরীক্ষার ফর্মফিলাপের টাকা দিতে না পারায় মাদ্রাসা সুপার পরীক্ষারত অবস্থায় কেড়ে নিলেন পরীক্ষার্থীর পবেশ পত্র!

14

বরিশাল অফিসঃ চলমান দাখিল পরীক্ষায় এক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষারত অবস্থায় মাদ্রাসার সুপার ফর্মফিলাপের টাকা বাকী থাকায় তার প্রবেশ পত্র কেড়ে নেওয়ায় ওই ছাত্রীর জীবন থেকে নষ্ট হয়ে গেল মূল্যবান একটি বছর। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার ভূক্তভোগী ছাত্রী ও তার দিনমজুর পিতা পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হাজির হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি অভিযোগ পত্র দিলে জেলা প্রশাসক আবু আলী মোঃ সাľাদ হোসেন আগামী তিন দিনের মধ্যে সুষ্ঠ তদন্তের জন্য ভান্ডারিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।
জানাযায়, জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার নদমূলা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের দিনমজুর মনির কবিরাজের মেয়ে সারমিন আক্তার (পরীক্ষার রোল নং-২৯৪৪১০) এ বছরের দাখিল পরীক্ষার্থী। ফর্মফিলাপের ২হাজার ৮শ’ টাকার মধ্যে পরীক্ষার্থী সারমিন ২ হাজার টাকা জমা দেয় এবং বাকী টাকা পরীক্ষার ১২ দিন পর দেওয়ার প্রতিশ্রæতি দেওয়ায় তাকে প্রবেশ পত্র দেওয়া হয়। কিন্তু নদমূলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ অলিউর রহমান পরীক্ষার্থীর ৪র্থ দিন রোববার আরবী ২য় পত্রের পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার্থী সারমিনের প্রবেশ পত্র কেড়ে নিয়ে বলে বকেয়া টাকা দিতে পারনাই, তোর আর জীবনে পরীক্ষা দেয়ার আর প্রয়োজন নেই; সোজা বাড়ি চেলে যা। ছাত্রী এসময় সুপারের পা জড়িয়ে কানśাকাটি করলেও সুপারের মন এতটুকু গলেনি। পরে ছাত্রী মর্মাহত হয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান খোকনের কাছে বিষয়টি খুলে বললে তিনিও পরীক্ষার্থীকে তীরষ্কার ও ভর্তসনা করে বাড়ি চলে যেতে বলে। ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য মোঃ জিয়াউল হক স¤্রাট বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, মাদ্রাসা সুপার টাকার লোভে এ ধরনের জঘন্য কাজ করায় তার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে দাবী জানান।