পরিবেশ এর ভারসাম্য নষ্ট করে কুকুর অপসারণ করার কর্মসূচি বাতিল করতে হবে –পরিবেশ বীক্ষণ

4

ডেস্ক রিপোর্ট: পরিবেশ বীক্ষণ এর সমন্বয়ক ঐশ্বর্য আহম্মেদ আজ (২২ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে কুকুর অপসারণ কর্মসূচিকে পরিবেশ এর ভারসাম্য নষ্টকারী এবং অবৈজ্ঞানিক হিসেবে উল্লেখ করে কুকুর অপসরণ না করে নিয়মিত ভ্যাকসিন প্রদান ও তাদের জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি গ্রহণ করার দাবি জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কাছে। বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, পৃথিবী জন্মলগ্ন থেকেই প্রকৃতি নির্ভর। গাছপালা, জীবজন্তু, মানুষ প্রভৃতি সকলেই একে অপরের পরিপূরক। প্রত্যেকেই কোনো না কোনো ভাবে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।

“আমরা মানুষ, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ” এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বুলিখানা শুধুমাত্র যে বাক্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ তা বোধকরি এই করোনা এসে বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। বিজ্ঞানের বদৌলতে আমরা নিজেদের সর্বসর্বা ভেবে যে অহংকারের মধ্যে বেড়ে উঠেছিলাম তা নিমিষেই ঘর বন্দী হয়ে গেল। কিন্তু তা থেকে শিক্ষা পেলাম কোথায়?

এখন আমরা উঠেপড়ে লেগেছি অবৈজ্ঞানিক উপায়ে বেআইনি ভাবে কুকুর নিধনের কাজে। কারণ হিসেবে যা বলা হচ্ছে তা অত্যন্ত হাস্যকর। ব্যাপারটা এমন হয়েছে যে হাত ব্যথা তো হাত কেটে ফেলো সমস্যা সমাধান। আদতে কি তা সমাধান?
সাত কোটি থেকে সতেরো কোটির দুর্নীতিগ্রস্ত দেশে রাস্তার বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ে পরে আছেন। কুকুর অপসারণের সিদ্ধান্তের ফলে কুকুরের কামড় ও রেবিস ভাইরাস বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

‘যেখানে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘ব্যাঙ না থাকার কারণে, ফড়িং না থাকার কারণে, গাপ্পি মাছ না থাকার কারণে মশা নিয়ে আমাদের উৎপাত শুরু হয়েছে। এর জন্য ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া হচ্ছে। তেমনি কুকুর না থাকতে আমরা বুঝতে পারব কি কি রোগ আমাদের পোহাতে হয়’’।

“একবার নিউইয়র্কে যখন কুকুরদের ধরে সেল্টার হোমে পাঠানো হলো তখন সেখানে ইঁদুরের উৎপাত বেড়ে গেল। আমাদের শহরেও ড্রেন ও ম্যানহলে লাখ লাখ ইঁদুর আছে। তাদের বংশ বিস্তার কুকুরের চাইতেও অনেক দ্রুত হয়। কুকুরগুলো যখন রাতের বেলায় রাস্তা ঘাটে ঘুরে বেড়ায় তখন কিন্তু ইঁদুরগুলো বাইরে বের হতে পারে না। ইঁদুর প্রায় ১৪ থেকে ১৫টা রোগের বাহক।”
তাই অবিলম্বে কুকুর অপসারণ এর সিদ্বান্ত বাতিল করে কুকুরকে নিয়মিত ভ্যাকসিন প্রদান ও কুকুরের জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।