পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সোলার পাওয়ার প্লান্ট অনন্য ভূমিকা রাখবে–উপমন্ত্রী নাহার

40

মোঃ নূর আলমঃ ভাসমান ও পুকুরপাড়ে সোলার পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন প্রকল্প পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখবে। ভারতের সহযোগিতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে আমাদের মধ্যে ˆমত্রী ভাব আরো সুদৃঢ় হবে। এ ধরণের প্রকল্প বাংলাদেশে এই প্রথম। এই দৃষ্টান্ত সামনে রেখে ভাসমান সোলার পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন সারা বাংলাদেশে বৃদ্ধি পাবে আশা করি। সুন্দরবন সুরক্ষার কথা বিবেচনায় নিয়ে দেশের প্রথম ভাসমান সোলার বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপনের জন্য আজ রবিবার সকালে মোংলাপোর্ট পৌরসভার আয়োজনে বন্দর কর্তৃপক্ষের কনফারেন্স হলে ১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ভাসমান ও পুকুরধার সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনে ত্রি-পক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার এমপি এ কথা বলেন।

রবিবার সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোংলাপোর্ট পৌরসভার মেয়র মোঃ জুলফিকার আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইন্ডিয়া হাই কমিশন খুলনার সহকারি কমিশনার রাজেশ কুমার রায়না, নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহার এবং উনśয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক শেখ রিয়াজ আহমেদ, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আলতাপ হোসেন খান, প্রিমিয়ার সোলার পাওয়ারটেক প্রাঃ লিঃ ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহি সুধীর মুলা ও সোলার ইপিসি ডেভেলপমেন্ট লিঃ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ইজাজ আল কুদরত এ মজিদ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোংলা ইপিজেড’র জিএম মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক, মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন, মোংলা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু তাহের হ্ওালাদার, উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোঃ রাহাত মান্নান, মোংলা প্রেসক্লাব সভাপতি এইচ এম দুলাল, মোংলা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ইকবাল হোসেন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ নূর আলম শেখ, ইউপি চেয়ারম্যান ইস্রাফিল হোসেন হাওলাদার, মোল্লা মোঃ তারিকুল ইসলাম প্রমূখ।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় হাই কমিশন অব ইন্ডিয়ার সহকারী হাই কমিশনার রাজেশ কুমার রায়না বলেন সোলার পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন পরিবেশ বান্ধব এবং টেকসই উনśয়ন প্রকল্প। ঘনবসতি এবং এবং স্বল্প জায়গার বাংলাদেশে এই প্রকল্প বাস্তব সম্মত পদক্ষেপ। পরিবেশের ক্ষতু হলে বাংলাদেশ, ভারত, ইউরেপ-আমেরিকা সবাই সমান ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। সুন্দরবন এবং পরিবেশ রক্ষায় এই প্রকল্প’র বাস্তবায়ন হবে অনন্য দৃষ্টান্ত। নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহার এবং উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক শেখ রিয়াজ আহমেদ বলেন ফসিল ফুয়েল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। পরিবেশ বান্ধব ভাসমান সোলার পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের জন্য সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করায় মোংলাপোর্ট পৌরসভার নাম বাংলাদেশের ইতিহাসে বিদ্যুৎ জগতে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে মোংলার কুমারখালীতে ১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ভাসমান ও পুকুরধার সোলার পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্প স্থাপনে প্রিমিয়ার সোলার প্ওায়ারটেক প্রাঃ লিঃ ইন্ডিয়ার পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন প্রধান নির্বাহী সুধীর মুলা, সোলার ইপিসি ডেভেলপমেন্ট লিঃ বাংলাদেশ’র পক্ষে চেয়ারম্যান ইজাজ আল কুদরত এ মজিদ এবং মোংলা পোর্ট পৌরসভার পক্ষে মেয়র মোঃ জুলফিকার আলী। দুপুর আড়াইটায় উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার এবং ইন্ডিয়ান সহকারি হাই কমিশনার রাজেশ কুমার রায়না মোংলাপোর্ট পৌরসভার কুমারখালী প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।