পরিবহন খাত সংস্কার করা গেলে ভাড়া না বাড়িয়েও লাভজনক করা সম্ভব—-যাত্রী কল্যাণ সমিতি

নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রীসেবার পরিবর্তে বর্তমানে প্রচলিত গণপরিবহনের সেবার মান কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় দাবি করে বলা হয়, এত নিম্নমানের যাত্রীসেবার বিনিময়ে বর্তমানে যে ভাড়া নির্ধারণ করা আছে তা অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য । সোমবার(৩১ আগষ্ট ) বিকালে নগরীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক মানববন্ধন ও যাত্রী সমাবেশে বক্তারা উপরোক্ত দাবি জানান।

সংগঠনের চেয়ারম্যান শরীফ রফিকউজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, নিরাপদ সড়ক চাই এর যুগ্ম সম্পাদক লায়ন গণি মিয়া বাবুল, বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম-বোয়াফ এর সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময়, বিশ্ব বাঙালী সম্মেলের সভাপতি কবি আবদুল খালেক, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী, জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এম এ জলিল, আরেফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাজী মাসুদ আহমেদ, নদী সংস্কার পানি শাসন ও ব্যবহার সংগ্রাম পরিষদ বাংলাদেশ সভাপতি শাহাদৎ হোসেন হামজা, মিরপুর আওয়ামী লীগ নেতা আ ম স মোস্তফা কামাল, সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব এম মনিরুল হক,সমিতি নেতা আনোয়ার হোসেন, নায়ন মাহমুদুল হাসান রাসেল, আজহারুল আলম জিকু, কাজী আমান-উল্লাহ মাহফুজ প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, দেশের সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশ পথের যাত্রীদের সাথে বিভিন্ন সময়ে মত বিনিময় ও জরিপকালে দেশের যাত্রী সাধারণ এত নিম্নমানের সেবা দিয়ে গলাকাটা ভাড়া নির্ধারণে সরকারের সংশিষ্টদের প্রতি প্রচন্ড ক্ষোভ ব্যক্ত করেন। গণপরিবহনে ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে যাত্রী প্রতিনিধি বাদ দিয়ে শুধু মালিক শ্রমিকদের নিয়ে একচেটিয়া ভাবে ভাড়া নির্ধারণ করায় তারা অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে ব্যয় বিশেষণে ভুয়া ও অযৌক্তিক তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করে সরকারের সংশিষ্টদের ম্যানেজ করে বার বার গলা কাঁটা হারে ভাড়া নির্ধারণ করে নীরিহ যাত্রী সাধারণের কাঁধে চাপিয়ে দিচ্ছে। ফলে প্রায়শয়ই যাত্রীদের সাথে পরিবহন শ্রমিকদের (চালক, হেলপার, সুপারভাইজার) তর্কাতর্কি, ঝগড়া এমনকি হাতাহাতি-মারামারির ঘটনাও ঘটছে। বক্তারা বলেন, বিশ্ব বাজারে জ্বালানী তেলের মূল্য কয়েক দফা কমিয়ে সর্বনিম্ন রেটে পৌছানোর পর দেশের বাজারে তেলের মূল্য কমিয়ে গণপরিবহনের ভাড়া হ্রাসকৃত হারে নির্ধারণ করা সরকারের সংশ্লিষ্টদের উচিত ছিল। কিন্তু সেটি না করে উল্টো বার বার অযৌক্তিক হারে ভাড়া বাড়িয়ে নিম্ন আয়ের যাত্রী সাধারণের ব্যবহার্য গণপরিবহনের ভাড়া গণহারে বাড়িয়ে জনগণের নাভিশ্বাস তুলছে বলে অভিযোগ করে বক্তারা বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করার পাশাপাশি অনতিবিলম্বে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে।
বক্তারা বলেন, গণপরিবহন খাতকে শিল্প ঘোষনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি এই খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বন্ধ করে সংস্কার করা গেলে খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব। অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে দেশের নিম্ন আয়ের যাত্রী সাধারণের স্বার্থ বিবেচনায় ভাড়া না বাড়িয়েও গণপরিবহন খাতকে লাভজনক খাতে পরিণত করা যায় বলে বক্তারা মনে করেন।