পথ কখনো ক্লান্ত হয়না

সাইফুল ইসলাম শিশিরঃ ২৭ এপ্রিল ২০১৯। ‘বঙ্গবন্ধু আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পস’ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজয়ীদের নাম মাইকে ঘোষণা হচ্ছে — প্রমীলা হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদলের নাম ঘোষণার সময় বড় ধরণের এক ব্যত্যয় ঘটে। বিজয়ীদল হিসেবে গণ বিশ্ববিদ্যালয়’র স্থলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’র নাম ঘোষিত হয় এবং যথারীতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সে পুরস্কার গ্রহণ করে। অথচ গণ বিশ্ববিদ্যায় ২৫ – ৯ বিশাল গোল ব্যবধানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।
জনমনে প্রশ্নঃ
১. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণে গণ বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন ভাবে বঞ্চিত করা হলো কেন ?
২. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে এমন ভূয়া চ্যাম্পিয়ন সাজিয়ে পুরস্কার বিতরণের সাহস আয়োজকবৃন্দ পেলেন কী করে?
৩. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ই বা এ পুরস্কার গ্রহণ করলো কী ভাবে?

স্মরণ করা যেতে পারে একবার প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে জাতীয়সঙ্গীত বাজানোর সময় প্রচারযন্ত্র বিভ্রাট, আরেকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সংগে সংগে সাসপেন্ড করা হয় এবং কৈফত তলব করা হয়। এবার কী হবে?

কেউকেউ বলছেন “গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র” নামের কারণে গণ বিশ্ববিদ্যালয়কে আড়াল করার একটা অপচেষ্টা থাকতে পারে। তাহলে বলতেই হয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এমন কোন ঠুনকো প্রতিষ্ঠান নয় যে সেটাকে এক টানে উপড়ে ফেলা যাবে বা টোপা দিয়ে ঢেকে আড়াল করা যাবে। এর শিকড় বহুদূর পর্যন্ত গ্রথিত।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে গড়ে উঠা একটি প্রতিষ্ঠান। যুদ্ধ ফ্রণ্টের একমাত্র “ফিল্ড হাসপাতাল” রূপান্তরিত রূপে আজকের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। সামনে পালিত হবে “স্বাধীনতার ৫০ বছর -গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৫০ বছর”।

স্বাধীনতা পুরস্কার প্রবর্তিত হলে প্রথমে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডাঃ জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শিল্পাচার্য জয়নুল আবদীন প্রমুখগণের সাথে তিনিও এ পুরস্কার অর্জন করেন।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রই বীরশ্রেষ্ঠদের দুর্লভ ছবি সংগ্রহ করে প্রথম পোস্টার বের করে। বীরশ্রেষ্ঠদের যে ছবি আজকে পত্র-পত্রিকায়, বই -পুস্তকে ছাপা হচ্ছে তার অধিকাংশ ঐ পোস্টার থেকে নেয়া।

“একাত্তরের ঘাতক দালাল কে কোথায়” বইটির প্রকাশক গণপ্রকাশনী।

‘বঙ্গবন্ধু আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পস’-এ এবার প্রমীলা ফুটবল, ক্রিকেট, হ্যান্ডবল তিনটা ইভেন্টেই গঃ বিঃ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ছেলেদের ফুটবলেও চ্যাম্পিয়ন গণ বিশ্ববিদ্যালয়। উল্লেখ্য যে ছেলেদের ফুটবলে টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়ার হয়েছেন মোঃ শামীম এবং প্রমীলা ফুটবলে সেরা হয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। দু’জনই গণ বিশ্ববিদ্যালয় টিমের সদস্য।

শেষ কথাঃ পথিকই ক্লান্ত হবে – – পথ কখনো ক্লান্ত হয়না।-লেখকঃ একজন সমাজকর্মী।