ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন: রোগ নির্ণয়ের সব পরীক্ষা এক ছাদের নিচে

26

রাশেদ রাব্বিঃ এ মাসেই কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার। যেখানে এক ছাদের নিচে রোগ নির্ণয়ের সব ধরনের পরীক্ষা হবে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে গড়ে ওঠা এ প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে দেশের সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সব ডায়াগনস্টিক ও ল্যাবরেটরির গুণগত মান নিশ্চিত হবে।

পাশাপাশি দেশের দরিদ্র মানুষের জন্য এখানে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকবে। এছাড়া নতুন নতুন গবেষণার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে প্রতিষ্ঠানটি।

ইন্সটিটিউট সূত্রে জানা গেছে, এ প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অ্যাক্রেডিটেশন প্রদান করবে। অর্থাৎ ল্যাবরেটরি মেডিসিনের ক্ষেত্রে এ প্রতিষ্ঠানটিই মান নিয়ন্ত্রকারীর ভূমিকা পালন করবে। চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ধরনের পরীক্ষার মূল্যায়ন করা হবে এখানেই। এটিই হবে জাতীয় পর্যায়ের রেফারেন্স ল্যাবরেটরি। এর পাশাপাশি ল্যাবরেটরি মেডিসিনের বিভিন্ন শাখায়

স্নাতক/স্নাতকোত্তর বিষয়ে শিক্ষা কোর্স পরিচালনা ও গবেষণা পরিচালনা করা হবে এখান থেকে।

জানা গেছে, দেশে সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সেবামূল্য নির্ধারিত থাকলেও, বেসরকারি পর্যায়ে তেমনটি নেই। ফলে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক ও ল্যাবরেটরিগুলো তাদের ইচ্ছামতো সেবামূল্য নিয়ে থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে চলে যায়। তাছাড়া প্রায়ই দেখা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠান অধিক সেবামূল্য নিয়েও মানহীন যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট দিয়ে পরীক্ষা করে থাকে। এতে পরীক্ষার ফল সঠিক না হওয়ায় রোগীদের বিপাকে পড়তে হয়। এমনকি একজন রোগীর একই পরীক্ষার ফল একেক ল্যাবে একেক রকম পাওয়া যায়। যা রোগ নির্ণয় ও সুচিকিৎসার পথে অন্তরায়। তাছাড়া সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের ল্যাবগুলোর মান যাচাইয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই সামগ্রিক দিক চিন্তা করেই এ ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

সম্প্রতি ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের কার্যক্রম চালু করতে প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। চলতি বছরের ২ ডিসেম্বর উপসচিব আবু রায়হান মিঞা স্বাক্ষরিত এক স্মারকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) ইন্সটিটিউটের জন্য মোট ৭০৭ জন জনবল প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু জনপ্রাশাসন মন্ত্রণালয় ২০৬টি পদ অনুমোদন করে। পরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পায় মাত্র ১০৫টি পদ। যেখানে রাজস্ব খাতে ক্যাডার পদের মঞ্জুরি করা হয়েছে ২৬টি। ইতিমধ্যে ইন্সটিটিউট পরিচালনায় ১৮টি ক্যাডার পদ রাজস্ব খাতে স্থায়ীভাবে সৃজন করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন পরিচালক, একজন সহকারী পরিচালক, দু’জন অধ্যাপক, ৬ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৬ জন সহকারী অধ্যাপক এবং দু’জন মেডিকেল অফিসার রয়েছেন। এছাড়া স্ট্রেচার বেয়ারার, নিরাপত্তা প্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ইলেকট্রিশিয়ান, লিফটম্যান, অফিসসহায়ক ও মালী পদে ২৪ জন নিয়োগের অনুমোদন করেছে মন্ত্রণালয়। এসব পদে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ করতে বলা হয়েছে।

জনা গেছে, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করতে এর আগে ৩৬ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র কেনা হয়েছে। আরও প্রায় ৭৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য মালামাল কেনার অপেক্ষায় রয়েছে। এর আগে ২০১০ সালের ১ জুন একনেক বৈঠকে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। ওই বছর ২৭ সেপ্টেম্বর নির্মান কাজ শুরুর প্রশাসনিক অনুমোদ দেয়া হয়। এরপর গণপূর্ত অধিদফতর জমির মূল্য পুনর্নির্ধারণ, পাইলিং বন্ধে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন ইত্যাদির কারণে ১২ তলা বিশিষ্ট ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী এটি উদ্বোধন করেন। তবে অভ্যন্তরীণ সিভিল ও ইলেকট্রিক কাজ শেষ না হওয়ায় ওই সময় এটি চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজ প্রায় সম্পন্ন।

এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. একেএম শামছুজ্জামান বলেন, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার দেশের রেফারেল ইন্সটিটিউট হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত মূল্যে দেশের দরিদ্র সাধারণ মানুষের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকবে। এখানে প্যাথলজি, ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, ভাইরোলজি, হেমাটোলজি ও রেডিওলজির সব ধরনের পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি এসব বিভাগের যত নতুন নতুন পরীক্ষা উন্নত বিশ্বে চালু হবে, তার সবই এখানে চালু করা হবে।

তিনি বলেন, দেশের সব ল্যাবের মান নির্ধারণের পাশাপাশি এখান থেকে বিভিন্ন পরীক্ষার ফিও নির্ধারণ করার ব্যবস্থা নেয়া হবে। যাতে কেউ অস্বাভাবিক ফি নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলতে না পারে।-যুগান্তর