নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে ২০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হচ্ছে

7

ডেস্ক রিপোর্ট: অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতেও অন্যতম প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। সরকারও এখন দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক উন্নয়নকে আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে রূপ দেয়া হয়েছে। বাহিনীটিকে আরো শক্তিশালী ও আধুনিক করে তুলতে হাতে নেয়া হয়েছে ২৫০ কোটি ডলারের (বাংলাদেশী মুদ্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি) ফ্রিগেট প্রোগ্রাম।

প্রকল্পটির আওতায় চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেডে (সিডিডিএল) বহুমাত্রিক গাইডেড মিসাইল ফ্রিগেট নির্মাণের কথা রয়েছে। বিদেশী যুদ্ধজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি সহায়তার ভিত্তিতে ফ্রিগেটগুলো নির্মাণ করা হবে। বেশ কয়েকটি দেশ এ প্রকল্প নিয়ে এরই মধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

২৫০ কোটি ডলারের এ ফ্রিগেট প্রকল্পের কাজ পেতে শুরুর দিকে বেশ কয়েকটি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছিল। তালিকার উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর মধ্যে ছিল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, চীন, নেদারল্যান্ডস ও ইতালি। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে তুরস্ক, চীন, নেদারল্যান্ডস ও ইতালির দেয়া প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে বলে তুর্কি সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহতে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বাংলাদেশী এক প্রতিরক্ষা সাইটের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

এর মধ্যে চীনের প্রস্তাবে রয়েছে টাইপ ০৫৪ ফ্রিগেট। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি ২০০৭ সাল থেকে এ ধরনের ফ্রিগেট ব্যবহার করছে। এসব ফ্রিগেট সব মিলিয়ে চার হাজার টন ওজন নিয়ে ছুটতে সক্ষম। যুদ্ধজাহাজগুলো মাঝারি পাল্লার এয়ার ডিফেন্স মিসাইল, জাহাজ বিধ্বংসী মিসাইল, ৩০ মিলিমিটারের টাইপ ৭৩০ স্বল্পপাল্লার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, টর্পেডো টিউব, অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার (এএসডব্লিউ) রকেট লঞ্চার সিস্টেম ইত্যাদি দিয়ে সজ্জিত। আপগ্রেডিংয়ের মাধ্যমে যুদ্ধজাহাজটির এ অস্ত্রসজ্জায়ও পরিবর্তন আনা সম্ভব।

চীনের প্রস্তাবে এসব ফ্রিগেটের প্রতিটির মূল্য ধরা হয়েছে ৩৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার করে। এজন্য চায়না শিপ বিল্ডিং অ্যান্ড অফশোর ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেডের (সিএসওসি) নামে সিডিডিএলের অধিকাংশ শেয়ার হস্তান্তরের বিনিময়ে ফ্রিগেটগুলোর সার্বিক ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্নের প্রস্তাব দিয়েছে চীন। তবে অগ্রহণযোগ্য হওয়ায় বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষ চীনের এ প্রস্তাব বিবেচনায় আনবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।-আমাদের সময় কম