নেপালে জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান প্রেসিডেন্টের

নতুন সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর এক সপ্তাহের মধ্যে নেপালে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের জন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রাম বরণ যাদব। প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা শুক্রবার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অনুরোধ জানানোর পর এ আহ্বান জানান তিনি।
গত ২০ সেপ্টেম্বর গৃহীত সংবিধান অনুযায়ী নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ জানান কৈরালা।
এর আগে সকালে পার্লামেন্টে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং তিনি সে পথ করে দিয়েছেন।
নেপালে নতুন সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর শুক্রবার প্রথম পার্লামেন্ট অধিবেশন বসে। এই সংবিধানে পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার সাত দিনের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী, ২০ দিনের মধ্যে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার এবং এক মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কৈরালা এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকেও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করে তাকে সংবিধান অনুযায়ী নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে অনুরোধ করবেন বলে জানিয়েছিলেন বলে শুক্রবার নেপালের মন্ত্রী লাল বাবু পণ্ডিত আইএএনএসকে বলেন।
প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো মতৈক্যে পৌঁছালে নেপালে এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আর রাজনৈতিক দলগুলো মতৈক্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টে ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার পার্লামেন্টে তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট রাম বরন যাদবের কাছে তিনি পদত্যাগ পত্র জমা দেবেন। তিনি বলেছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য সুযোগ তৈরি করতেই তিন পদত্যাগ করছেন। কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের চেয়ারম্যান খাজা প্রসাদ শর্মা ওলি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যোগ দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি নেপালে যে নতুন সংবিধান অনুমোদিত হয়েছে, তার মাধ্যমে হিন্দু রাজতন্ত্র থেকে দেশটি সেকুলার ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকে পরিণত হয়েছে। ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন নেপালী কংগ্রেস প্রধান কৈরালা। একই বছরের ১৪ মার্চ ঘোষণা করেন, নতুন সংবিধান পাস হলেই তিনি পদত্যাগ করবেন।
নতুন সংবিধান অনুযায়ী দেশটিতে নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগ করতে হবে। প্রেসিডেন্ট রাম বরন যাদব পদত্যাগ করলে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য চেষ্টা করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।