নেপালের ১৫ জেলা দখল করবে ভারত!

যুগবার্তা ডেস্কঃ ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির সংসদ সদস্য ও সাবেক ক্রিকেটার কীর্তি আজাদ নেপালের তরাই অঞ্চলের ১৫টি জেলাকে ভারতের মানচিত্রভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতীয় পত্রিকা জাগরণে তার এ বক্তব্য নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
কীর্তি আজাদ ভারতের দ্বারভাঙ্গায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন, ব্রিটিশ ভারতে তরাই অঞ্চলের ১৫টি জেলা নেপালকে প্রত্যর্পণ করার যে দাবি করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। এই ১৫ জেলা ভারতেরই অংশ। আজ পর্যন্ত কেউ ওই ইস্যু উত্থাপন না করলেও ভারতের কালবিলম্ব না করে এ দাবি করা উচিত। আর নেপালের উচিত অবিলম্বে এই ১৫ জেলা ভারতের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত হওয়া। এ নিয়ে নেপালে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ভারতের নেপালি দূতাবাসের এক কর্মকর্তা টুইটারে সংসদ সদস্য কীর্তি আজাদের এই বক্তব্যে ভারতের সরকারি মতের প্রতিফলন ঘটছে এমনটি নয়, বলে উল্লেখ করেছেন।
নেপালের নতুন সংবিধান অনুমোদন করার পর থেকেই সমতল অঞ্চলের মাধেসি ও থারু জনগোষ্ঠীর চলমান আন্দোলন আর ভারতের অঘোষিত অবরোধ প্রত্যাহার নিয়ে সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আলোচনা চলে আসছিল; কিন্তু এখনো পর্যন্ত এ আলোচনার বরফ গলেনি। এমনকি ভারতের অঘোষিত অবরোধে হিমালয়ান দেশটি নজিরবিহীন জ্বালানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সঙ্কটে পড়ে চীনের সাথে ভূমিকম্পে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়কগুলো জরুরি ভিত্তিতে সচল করার উদ্যোগ গ্রহণের পরও নয়াদিল্লির খুব একটা মাথাব্যথা লক্ষ করা যায়নি।
ভারতের অবরোধ ও মাধেসিদের প্রতি একতরফা সমর্থন জানানোর কারণে নেপালের মূল ধারার জনগণ ও দেশটির সুশীলসমাজ ইতোমধ্যে তীব্র ভারতবিরোধী হয়ে উঠেছে। তাতেও ভারতের নীতিনির্ধারকদের তেমন কোনো উৎকণ্ঠা অনুভব করা যায়নি। এ কারণে দক্ষিণ এশিয়ার এই বৃহত্তম দেশটি নেপালকে ঘিরে কোনো কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে কি না তা নিয়ে অনেক বিশ্লেষকের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়।
সংবিধানের সঙ্কট শুরু হওয়ার পর পরই এক লেখায় নেপাল সঙ্কটের অন্তর্নিহিত কিছু বিষয়ে আলোকপাত করেছিলাম। সেই লেখায় একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিশ্লেষকের একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি ছিল। তিনি নেপালের তরাই অঞ্চলের সাথে ১৯৭১ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে সৃষ্ট পরিস্থিতির সাথে তুলনা করেছিলেন।
ওই বিশ্লেষক বলেছিলেন, তরাই অঞ্চলে বসবাসরত নেপালের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশের ওপর কেন্দ্রীয় সরকার নিপীড়ন অব্যাহত রাখলে তা ভারতের ওপর শরণার্থীর চাপ ফেলতে পারে। ১৯৭১ সালে বিপুল পূর্ব পাকিস্তানি শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার পর বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যে সর্বাত্মক সমর্থন নিয়ে ভারতকে এগিয়ে যেতে হয়েছিল, তেমন পরিস্থিতি নেপালের ক্ষেত্রেও হতে পারে।
তবে পার্থক্য হবে, ভারত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য সাহায্য করেছিল। দেশটির বেশির ভাগ জনগণ মুসলিম বলে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মবিশ্বাসের সাথে একটি ব্যবধান ছিল; কিন্তু নেপালের তরাই অঞ্চলের জনগোষ্ঠী সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী হিন্দু। তাদের আঞ্চলিক একাধিক ভাষা থাকলেও মতবিনিময়ের সাধারণ ভাষা হলো হিন্দি। তাদের সংস্কৃতির সাথে মিল রয়েছে সীমান্তের এপারের উত্তর প্রদেশ ও বিহারের সংস্কৃতির। ফলে বর্তমান নেপালের ক্ষেত্রে ভারত তরাই অঞ্চলকে স্বাধীন দেশে পরিণত করার জন্য সমর্থন দেবে না। এর পরিবর্তে এ অঞ্চলকে ভারতের মানচিত্রভুক্ত করার প্রচেষ্টা চালাবে। এতে ভারতের চিকেন নেকের করিডোরটি আরো প্রশস্ত হবে।
এত দিন পর্যন্ত বিশ্লেষকদের লেখালেখিতে তরাই অঞ্চল নিয়ে ভারতের যে মনোভাবের কথা প্রকাশ পাচ্ছিল বিজেপির এমপি কীর্তি আজাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে তা রাজনৈতিক রূপ বা মাত্রা লাভ করল। তরাইয়ের মাধেসিরা যেসব দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে তা এতই জটিল যে, সরকার বা নেপালের মূল ধারার রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষে এরই সাথে একমত হওয়া কঠিন। নেপাল ভূপ্রকৃতিগতভাবে তিনটি প্রধান অঞ্চলে বিভক্ত। হিমালয় পর্বতমালার সাথে যুক্ত পূর্ব ও পশ্চিম অংশটি হলো তুষারপড়া পর্বত এলাকা, এর পরের অংশ হলো পাহাড়ি নেপাল আর ভারত সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলটি হলো সমতল তরাই। ওই অঞ্চলটি হলো নেপালের সর্বাধিক উৎপাদনশীল এলাকা। ১৭৫৭ সালের পর ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও নেপাল ছিল বরাবরই স্বাধীন রাজতন্ত্র। ভারত ও চীনের সাথে নেপালের বিভিন্ন সময় সক্সঘাতের ঘটনা ঘটেছে; কিš‘ কোনো সময় স্বাধীনতা হারায়নি পৌনে তিন কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত হিমালয়ান দেশটি।
মাধেসিরা তরাই অঞ্চলটিকে অন্যান্য অঞ্চল থেকে পৃথক করে আলাদা প্রশাসনিক ইউনিট করতে চায়। সংবিধানে প্রস্তাবিত সাতটি প্রদেশকে যেভাবে উত্তর দক্ষিণ বিভাজন করা হয়েছে তাতে তরাই অঞ্চলের সব প্রদেশে মাধেসি বা থারু সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি হয় না। মাধেসিরা পূর্ব-পশ্চিম বিভাজনের মাধ্যমে তরাই অঞ্চলের পৃথক প্রশাসনিক ইউনিট করে তাতে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
নেপালের নতুন সংবিধানে জন্মসূত্রে নেপালের নাগরিক না হলে তাদের জন্য প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারসহ শীর্ষ স্থানীয় পদে নিযুক্তিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মাধেসিরা এটি মানতে চায় না। তারা মনে করে এর মাধ্যমে মাধেসিদের প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, নাগরিকত্ব প্রশ্ন।
১৯৫০ সালে নেপাল-ভারত মৈত্রী চুক্তি অনুসারে, নেপালি নাগরিকেরা নিজ দেশে বসবাস, লেখাপড়া ও ব্যবসায়ের যে সুবিধা ভোগ করে একই সুবিধা তারা ভারতেও পাবে। একইভাবে, ভারতীয়রা নিজ দেশে বসবাস ও ব্যবসা-বাণিজ্য করার যে সুবিধা পায় তা নেপালেও পাবে। এই চুক্তি বলে বিপুল নেপালি যেমন ভারতে বসবাস, লেখাপড়া ও চাকরি বাকরি করছে, তেমনিভাবে জনবহুল উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খন্ড ইত্যাদি রাজ্যের বিপুল ভারতীয় নেপালি মেয়েদের বিয়ে করে সেখানে বসতি স্থাপন ও নাগরিকত্ব লাভ করছে। নেপালি নাগরিকত্ব প্রদানের ব্যাপারে উদার মনোভাবের কারণে ভারতীয়দের জন্য নেপালি নাগরিকত্ব লাভ করা আগে কঠিন ছিল না। এভাবে তরাই অঞ্চলে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বিপুল গরিষ্ঠতা তৈরি হয়।
নতুন সংবিধানে শুধু নেপালে বিয়ে বা বসবাস করলেই ভারতীয়দের নেপালি নাগরিকত্ব দেয়া হবে না। এ জন্য আইনিপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করতে হবে। নেপালের মূল ধারার নেতারা দেশটির জনবিন্যাসে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের প্রভাব সীমিত রাখতে এটি করে থাকতে পারেন। মাধেসিরা এটাকে ভালোভাবে নেয়নি। ভারতের সরকারও এসব বিধান পাল্টাতে মাধেসিদের সাথে একাত্ম হয়ে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখছে।
সংবিধান প্রণয়নের আগে ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব জয়শঙ্কর নেপালি নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করে মাধেসিদের দাবি না মেনে যেন সংবিধান গ্রহণ করা না হয়, এ ব্যাপারে সতর্ক করে দেন। তিনি মাওবাদী নেতা পুষ্পকমল দহল প্রচন্দকে বলেন, ‘বিশ্বের সব দেশ স্বীকৃতি দেয়ার পরও ভারত তা গ্রহণ না করলে সেই সংবিধান নেপালে কার্যকর করা যাবে না।’ শেষ পর্যন্ত সংবিধান পাস হলেও ভারত এটাকে গ্রহণ করেনি এবং স্থলবেষ্টিত নেপালে অঘোষিত অবরোধ আরোপ করেছে।
সর্বশেষ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরজ্য সফরকালে দুই প্রধানমন্ত্রীর যৌথ বিবৃতিতেও নেপালে সৃষ্ট সঙ্কটের সমাধানের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে। এর অর্থ হলো, মাধেসিদের সাথে সমঝোতায় আসা; কিন্তু মাধেসি রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দাবি মানার বাইরে কোনো সমঝোতায় আসতে রাজি হচ্ছে না। এতে এক ধরনের অচলাবস্থাই সৃষ্টি হয়ে আছে।
নেপালের বর্তমান পরিস্থিতি দেশটির নেতৃবৃন্দের অজানা নয়। নেপালে তিন-তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বপালনকারী নবতীপর কীর্তি নিধি বিস্তা ভারতের মানসিকতাকে খুব কাছ থেকে অবলোকন করেছেন। অতি সম্পতি নেপালি পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘১৯৫০ সাল থেকে ভারত আমাদের সাথে সমান মর্যাদার আচরণ করছে না। ভারত প্রায় ২০০ বছর ব্রিটেনের উপনিবেশ ছিল। আমরা সব সময় ছিলাম স্বাধীন দেশ। ভারত এখন মুক্ত; কিš‘ সে চায় নেপালকে উপনিবেশ বানাতে। তাকে এই ঔপনিবেশিক মানসিকতা ঝেড়ে ফেলতে হবে। ভারত চায় আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা তার নিয়ন্ত্রণে নিতে, আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ তার কাজে ব্যবহার করতে। তরাই অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা অনেক প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। আমাদের ভুলে যাওয়া চলবে না যে, মাধেসিরা নেপালি।
হয়তো গুটিকতেক বদখেয়ালি নেতা আছেন, যারা এই দেশের ক্ষতি করতে চান। তবে সাধারণভাবে মাধেসিরা নেপালকে ভালোবাসেন। অনেকে সন্দেহ করলেও সত্যিকার অর্থে তারা মাধেসিকে ভারতের সাথে বিলীন করতে চান না। এ কারণে ভারতের নেপালে সম্প্রসারণের ভয়টি অমূলক।
বর্তমান কাল ও সময়ে কোন দেশ অন্য কোনো দেশ দখল করতে পারে না। ভারত যদি তেমন কিছু করার চেষ্টা করে, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নীরব থাকবে না। ভারত চায়, নেপালের পুরো নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং পানিসম্পদের ওপর নিরঙ্কুশ প্রাধান্য। আমার মনে হয়, সপ্তকোশির ওপর তার নজর রয়েছে। এই অবরোধ হলো, এই দু’টি লক্ষ্য অর্জনের একটি কৌশল। আমার ভয় হচ্ছে, ভারত তা পেয়ে যাবে। ভারত চায় নেপালের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কেবল নামেই থাকুক, আর প্রতিটি খাতের নিয়ন্ত্রণ থাকুক তার হাতে।’
নেপালের সর্বশেষ যে পরিস্থি’তি, তার সাথে কি ভারতের ভূ-কৌশলগত কোনো ডকট্রিনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে? এ প্রশ্নটি এখনকার পরিপ্রেক্ষিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর বহু দশক ধরে ভারতের ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস সরকার। এ সময় পররাষ্ট্র কৌশলের ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হতো ‘নেহরু ডকট্রিন’।
ভারতের প্রতিষ্ঠাতা প্রধানমন্ত্রী জওয়াহের লাল নেহরু বিশ্বাস করতেন, ভারত হবে দক্ষিণ এশিয়ার একক প্রধান শক্তি। ভারতের চার পাশে ভৌগোলিকভাবে ছোট বড় স্বাধীন দেশ থাকবে; কিš‘ তাদের অর্থনীতি ও পররাষ্ট্র সম্পর্কের ওপর থাকবে ভারতের নিয়ন্ত্রণ বা নিরঙ্কুশ প্রাধান্য। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই এ নীতি অনুসরণ করে এসেছে। হায়দারাবাদ-জুনাগড়, সিকিম বা কাশ্মিরে ভারত দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করলেও ১৯৭১ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানকে ভারত তার নিজ মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত না করে স্বাধীন হতে সহায়তা করেছে। তবে নেহরু ডকট্রিন অনুসারে স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পররাষ্ট্র সম্পর্কের ওপর দিল্লি নিয়ন্ত্রণ আরোপ বা প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট হয়েছে।
ভারতে কংগ্রেসের বিপরীতে এখন বিজেপি বা সক্সঘ পরিবারের যে বিকল্প সর্বভারতীয় রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটেছে, তারা নেহরু ডকট্রিনে বিশ্বাস করে না। সক্সঘ পরিবারের অন্তর্নিহিত মূল দর্শন হলো হিন্দুত্ববাদী, অখ- ভারত প্রতিষ্ঠা করা। বিজেপি ও সক্সঘ পরিবারের তাত্ত্বিক নেতাদের বক্তব্যে প্রায়ই এর প্রতিধ্বনি শুনতে পাওয়া যায়। এ দর্শন অনুসারে ভারত ক্রমেই তার প্রতিবেশী দেশগুলোকে সুবিধামতো সময়ে নিজের মানচিত্রভুক্ত করে নেবে, এমন আশঙ্কা রয়েছে অনেকের।
২০০৫ সালে বিজেপি বলয়ের তাত্ত্বিকদের একজন একটি বই প্রকাশ করেন দিল্লি থেকে। ইংরেজিতে লেখা বইটিতে প্রতিবেশী দেশগুলোকে একে একে কিভাবে ভারতের সাথে একীভূত করে অখ- ভারত তৈরি করা হচ্ছে তার একটি কল্পিত চিত্র এঁকেছেন সাংবাদিকের সংবাদ প্রেরণের অবয়বে। এ বইটি পড়লে বিজেপির অন্তর্র্দশন বা মূল ডকট্রিনের ধারণা স্পষ্ট হয়।
নেপালে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেপালিদের নিয়ে আজ যে সঙ্কট, তাকে ভারতীয় স্বার্থে একটি বড় রকমের আঘাত হিসেবে মনে হতে পারে। তবে ভারত তরাই অঞ্চলকে যদি নিজের মানচিত্রভুক্ত করে নিতে চায় তাহলে এই সঙ্কট সৃষ্টির মধ্যে তার কৌশলগত স্বার্থের বাস্তবায়ন দেখতে পারে। এ বিষয়টি নিয়ে নেপালি নেতৃবৃন্দের উদ্বেগ উৎকণ্ঠা নেই, তা নয়। নতুন করে জন্ম নেয়া গণতান্ত্রিক নেপালের নেতারা চাপের কাছে রাষ্ট্রের অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিতে রাজি নন।

বলার অপেক্ষা রাখে না, নেপালে আজ যে সঙ্কট দেখা দিয়েছে, একই সঙ্কট ভারতের অন্য প্রতিবেশী দেশগুলোতেও দেখা দিতে পারে। এখন এসব দেশে নানা ধরনের অস্বাভাবিক পরি¯ি’তি বিরাজ করছে। এটি ভবিষ্যৎ বড় কোনো অস্তিরতার ইঙ্গিত দেয়। বিজেপির সংসদ সদস্য কীর্তি আজাদের বক্তব্যের বিশেষ তাৎপর্যকে এ কারণে হালকাভাবে নেয়া যায় না।-নয়াদিগন্ত।