নুসরাতের দাফন সম্পন্ন

21

চট্টগ্রাম অফিসঃ অগ্নিকান্ডে নিহত মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি চির নিদ্রায় দাদীর কবরের পাশে। আজ সন্ধ্যা ৬টায় ফেনীর সোনাগাজী সাবের পাইলট হাইস্কুল মাঠে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ফেনী সদরসহ ৬টি উপজেলার ও পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী জেলা থেকেও শত শত লোক এ জানাজায় শরীক হন।

বিকাল সাড়ে ৫টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নুসরাতের মরদেহবাহী গাড়িটি তার গ্রামের বাড়ি চফেনীর ছান্দিয়া গ্রামে পৌঁছলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সেখানে লাশ কিছুক্ষণ রাখা হয়। পরে সাবের পাইলট হাইস্কুল মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। জানাজার সময় সোনাগাজী বাজারের সড়কগুলি ভিড়ে লোকারণ্য হয়ে উঠে। নুসরাতের জানাজা পড়ান তার বাবা মাওলানা আবুল কাশেম।

এ সময় কফিনের সামনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তার বাবা। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদীর পাশে নুসরাতকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

একই সঙ্গে খুনিদের ফাঁসির দাবিতে সোনগাজী শহর উত্তাল হয়ে উঠে। বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা খুনিদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করে।

উল্লেখ্য, ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় গেলে, বান্ধবীকে মারধর করা হচ্ছে বলে নুসরাত জাহান রাফিকে ছাদে নিয়ে বোরকা পরা চারজন কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

১০৮ ঘণ্টা ঢাকা মেডিকেলে আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় মারা যান নুসরাত।

এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

এর আগে গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজউদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন মেয়েটির মা। আর এ মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিয়ে আসছিল।