নিরাপদ বছর পার করে বড় দুর্ঘটনায় বৈশ্বিক বিমানশিল্প

যুগবার্তা ডেস্কঃ ২০১৭ সালে বিশ্বে বাণিজ্যিক বিমান ভ্রমণে মাত্র ছয়টি বড় দুর্ঘটনা ঘটে। আর এতে ১৯ জন যাত্রী ও ক্রু নিহত হয়।

কিন্তু ২০১৮ সালের প্রথম তিন মাসেই তিনটি ভয়ানক দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। এতে যাত্রী, ক্রুসহ নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৮ জন। অনুমান করা কঠিন নয় যে তুলনামূলক একটি নিরাপদ বছর কাটিয়ে ভয়ানক একটি বছরে পা দিয়েছে বৈশ্বিক বিমানশিল্প।
অথচ গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ) জানায়, ২০১৭ সালে হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে এনে আইএটিএ পরিতৃপ্ত নয়। বরং নতুন বছরটিকে আরো নিরাপদ করা হবে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে। কিন্তু কার্যত ঘটল তার বিপরীতটি। ফলে সামনের মাসগুলো কেমন যাবে, তা নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

আইএটিএর সর্বশেষ নিরাপত্তা পারফরম্যান্স প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে ৯টি মারাত্মক দুর্ঘটনা এবং ২০২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু গত বছর তা অনেক কমে আসে।

২০১৭ সালে বিশ্বে বিমান ভ্রমণে মাত্র ছয়টি বড় দুর্ঘটনা ঘটে। আর এতে ১৯ জন যাত্রী ও ক্রু নিহত হয়।
আইএটিএর প্রধান নির্বাহী এবং মহাপরিচালক অ্যালেজেন্দ্রে দ্য জুনিয়াক বলেন, ‘বিমান ভ্রমণে গত বছরটি ছিল অত্যন্ত নিরাপদ বছর। বৈশ্বিকভাবে এবং বেশির ভাগ অঞ্চলে বিমান পরিচালনার প্রায় সব ক্ষেত্রেই আমরা উন্নতি লক্ষ করেছি। আমাদের প্রতিশ্রুতি হচ্ছে, এ শিল্পকে ভবিষ্যতে আরো নিরাপদ করা। ’

সার্বিক হিসাবে দেখা যায়, ২০১৭ সালে বিশ্বে বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছিল ৪৫টি। যেখানে আগের বছর ঘটেছিল ৬৭টি। গত বছর বিশ্বে প্রায় ৪০১ কোটি মানুষ নিরাপদে ভ্রমণ করে চার কোটি ১৮ লাখ ফ্লাইটে। আইএটিএর মতে, ২০১২-২০১৬ সালের মধ্যে পাঁচ বছরে গড় দুর্ঘটনার চেয়ে গত বছর দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যা ছিল কম। ২০১৭ সালে মাত্র চারটি জেট বিমান দুর্ঘটনায় পড়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। যেখানে আগের বছর ১৩টি বিমান দুর্ঘটনায় পড়ে ধ্বংস হয়।

এ ছাড়া ২০১৭ সালে ছয়টি ভয়ানক দুর্ঘটনার মধ্যে পাঁচটি ছিল টার্বোপ্রপ বিমান এবং একটি কার্গো জেট। গত বছর কোনো যাত্রীবাহী জেট বিমান দুর্ঘটনায় পড়েনি।

বিশ্বজুড়ে আইএটিএর সদস্যভুক্ত বিমান সংস্থা ২৮০টি। যারা মোট বিমান পরিবহনের প্রায় ৮৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের সদস্য সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে গত বছর বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। অথচ ২০১৮ সাল শুরু হতে না হতেই এরই মধ্যে তিনটি বড় দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে যাত্রীরা। ফেব্রুয়ারির শুরুতে রাশিয়াভিত্তিক সারাটোভ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৬ ডাব্লিউ ৭০৩ বড় দুর্ঘটনায় পড়ে দোমোদেদোভো বিমানবন্দর থেকে ওরসক বিমানবন্দরে যাত্রার পথে। তাতে ৭১ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়। ওই মাসেই আরেকটি বিমান দুর্ঘটনা ঘটে ইরানে। এতে ৬৬ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়। সর্বশেষ গত ১২ মার্চ নেপালে বাংলাদেশের ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিমান দুর্ঘটনায় ৫১ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়।

জুনিয়াক বলেন, ‘২০১৭ সালে কিছু ঘটনা ও দুর্ঘটনা ছিল, যা থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। কিন্তু আশা করছি, আমাদের সেই অভিজ্ঞতা নতুন বছরগুলোতে এ শিল্পকে আরো নিরাপদ করতে কাজে দেবে। ’

এদিকে নেপালের কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছে বিমানটির নির্মাত প্রতিষ্ঠান বোম্বারডিয়ার। কানাডীয় প্রতিষ্ঠানটি বিবৃতিতে জানায়, কিউ-৪০০ বিমানটির মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো বোম্বারডিয়ার পরিবার ব্যথিত। এ দুর্ঘটনায় যারা তাদের প্রিয়জন হারিয়েছে, সেসব পরিবারের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাই। একই সঙ্গে যারা বেঁচে আছে তাদের সঙ্গেও আমরা আছি। ঘটনার পর থেকেই বোম্বারডিয়ার বিমান নিরাপত্তা তদন্ত অফিস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তাই দেওয়া হবে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, কিউ-৪০০ বিমানটি যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য বিমান হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রয়োজনীয় মানদণ্ড অনুসরণ করে সব সার্টিফিকেটও নেওয়া হয়েছে। কিউ-৪০০ বিমানটি ৮.৫ মিলিয়ন ফ্লাইট ঘণ্টা অতিক্রম করেছে এবং প্রায় ১০ মিলিয়ন টেকঅফ ও ল্যান্ডিং হয়েছে। বোম্বারডিয়ার কিউ-৪০০ টার্বোপ্রপ ২০০০ সাল থেকে যাত্রীসেবা দিচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ান এভিয়েশন।-কালেরকন্ঠ