নিবন্ধনহীন জামাতের কোনো সদস্যের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপের আহ্বান-ওয়ার্কার্স পার্টি

যুগবার্তা ডেস্কঃ সোমবার বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা এমপি’র নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রাকিবউদ্দীন আহমেদ এর সাথে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সাক্ষাত করেন। প্রতিনিধি দলে ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য ও নির্বাচন কমিটির আহ্বায়ক কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক, কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক, কমরেড কামরূল আহসান উপস্থিত ছিলেন। ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিনিধিগণ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিকট তুলে ধরা বক্তব্য। নির্বাচন কমিশন আগামী ৩০ ডিসেম্বর মেয়াদ উত্তীর্ণ পৌরসভা সমূহের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছেন এবং সেই প্রেক্ষিতে নির্বাচনের তফসিলও ঘোষিত হয়েছে। ,পৌরসভা আইনের সংশোধন করে এই প্রথমবারের মতো মেয়র পদসমূহের দলীয় ভিত্তিতে ও দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে তার সুফল জনগণের মাঝে পৌঁছে দিতে হবে। এ সম্পর্কে কোন প্রকার বিভ্রান্তি এবং এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোন প্রকার অসঙ্গতি স্বাভাবিকভাবেই একে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ,বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে নির্বাচন কমিশন আইনী বাধ্যবাধকতার কথা বলে অত্যন্ত তাড়াহুড়োর মধ্যদিয়ে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকে তাদের মনোনয়নে প্রার্থীদের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারকে জানাতে হবে। কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী দলের মনোনয়ন পত্র প্রদর্শন করতে না পারলে তাদের প্রার্থীতা বাতিলের কথা বলা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক প্রদানের সময়ই কেবলমাত্র মনোনয়ন সম্পর্কিত দলের সিদ্ধান্ত জানাতে হয়। অথচ পৌরসভা নির্বাচনে তার ব্যতয় হচ্ছে। এর ফলে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করতে যেয়ে কোন দলের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলে সেই দলের আর কোনো প্রার্থী থাকার সুযোগ থাকছে না।
তদপুরি তফসিল ঘোষণার ৫ দিনের মধ্যেই রাজনৈতিক দলসমূহের মনোনয়ন প্রদানের দায়িত্বশীল ব্যক্তির নাম জানাতে হবে এর ফলে তৃণমূলে গণতন্ত্র বিস্তৃত করার জন্য দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচনের যে সিদ্ধান্ত সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলসমূহকে তাড়াহুড়ার মধ্যেই পড়তে হয়েছে।,এছাড়া নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত আচরণ বিধি সম্পর্কে রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে কোনো প্রকার আলোচনা করা হয় নাই। এই অল্প সময়ের মধ্যে প্রার্থীদের আচরণ বিধি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো সেভাবে সম্ভব হবে না।, আচরণ বিধিতে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের সাথে এমপিদেরও নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটা কোনো ক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমপিদের কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নাই, এবং কোনো ভাবেই তাদের নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিলে তাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ক্ষুন্ন হবে, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা যেভাবে বলা হয়ে থাকে এখানে তা ব্যাহত হবে।
ক) এমতাবস্থায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে পুনঃতফসিল ঘোষণা এবং তার পূর্বে নির্বাচনী আচরণ বিধি নিয়ে রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে আলোচনা, নির্বাচনকে স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ করতে নির্বাচনের ওপর টাকার প্রভাব, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, ভোট প্রদানে বাধা প্রদান এবং ভোটের ফলাফল পাল্টে দেয়ার যে কোনো প্রচেষ্টা বন্ধ করা।
খ) সর্বোপরি নির্বাচনে নিবন্ধনহীন জামাতসহ গত ৫ জানুয়ারি ২০১৪ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন বিরোধীতাকারী চিহ্নিত সন্ত্রাসী তৎপরতার সাথে যুক্ত ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেয়া এবং নিবন্ধনহীন কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য ও স্বীকৃত কোন পদধারী নেতাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনে অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপ করাÑ এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন জামাত ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে তারা দলগতভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবে।
উপরোল্লিখিত বিষয়ের প্রতি নির্বাচন কমিশনের যথাযথ মনোযোগ প্রদান এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত বিধির যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি জনগণের ভোট প্রদানের অধিকারকে সর্বোচ্চ স্থান প্রদান করে। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি মনে করে ভোট প্রদানের অধিকার নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব, এর যে কোন ব্যতয় নির্বাচন এবং নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে জনগণের আস্থা নষ্ট করবে। ওয়ার্কার্স পার্টি আশা করে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং জনগণের সতস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে উৎসবে পরিণত হবে। এ ব্যাপারে ওয়ার্কার্স পার্টি নির্বাচন কমিশনকে সর্বপ্রকার সহযোগিতা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।