নিজস্ব সংস্কৃতি লালনের দায়িত্ব নিজেদেরই : রাষ্ট্রপতি

7

অন্তু আহমেদ, জবি প্রতিনিধি: বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ধুপখোলায় অনুষ্ঠিত সমাবর্তনে প্রায় ১৮ হাজারের ও বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের উদ্বোধনের মাধ্যমে সমাবর্তন অনুষ্ঠান শুরু হয়।

সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন পদার্থবিজ্ঞানে একমাত্র এমিরিটাস অধ্যাপক অরুন কুমার বসাক ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড.কামাল উদ্দীন আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বলেন, “গ্রাজুয়েটদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে দেশের সকল কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সময়ের চাহিদা ও জাতির আশা আকাঙ্ক্ষার নিরিখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সুখ সগৌরবে এগিয়ে যাবে এমনটি সকলের প্রত্যাশা। দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি তোমাদের মাঝে লালন করবে। বর্তমান সমাজে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে রুখে দিতে হবে।”

গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দেশে বর্তমান সড়ক দুর্ঘটনা মারাত্নক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দেশের মানুষ যেন সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন মেনে চলে, ফুট ওভার ব্রীজ ব্যবহার করে সেজন্য দেশের মানুষদের সচেতন করতে হবে তোমাদেরকেই।”

তিনি বলেন, “বর্তমান সমাজের স্কুল-কলেজ সহ বিভিন্ন পরীক্ষাগুলোতে নকল এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি শিক্ষকরা নকল করতে সহযোগিতা করছে। তোমাদেরকে এই সকল অন্যায়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলোকে রুখে দিতে হবে এবং নকল দূরীকরণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।”

শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কান্ডারি গ্রাজুয়েট তৈরীর ক্ষেত্রে আপনাদের অবদান অনস্বীকার্য। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরী করেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। বিভিন্ন লোভ-লালসা ও মোহ থেকে দূরে থাকবেন এবং পেশার মর্যাদাকে সমুন্নত রাখবেন। তাহলেই শিক্ষার্থীরা আপনাদেরকে আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করবে।”

এরপর ১ম সমাবর্তনে স্নাতক ১১ হাজার ৮৭৭ জন, স্নাতকোত্তর ৪ হাজার ৮২৯ জন, এম.ফিল ১১ জন, পিএইচডি ৬ জন, ইভিনিংয়ের ১ হাজার ৫৯৪ জন শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

পদক প্রদানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান ও সমাবর্তন বক্তা এমিরিটাস অধ্যাপক অরুন কুমার বসাক বক্তব্য রাখেন।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবর্তনী শিক্ষার্থীরা বলেন, দেরিতে হলেও সমাবর্তনে অংশ নিতে পেরে তাঁরা সম্মানিত বোধ করছেন। এটা ছিল তাঁদের অন্যতম চাওয়া। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ সে চাওয়া পূরণ করার জন্য। তাঁরা আশা করেন, এখন থেকে প্রতিবছর সমাবর্তনের আয়োজন করবে কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য মীজানুর রহমান বলেন, স্থান সংকুলান না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সমাবর্তন আয়োজন করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এখন আমাদের একটি অভিজ্ঞতা হচ্ছে। এটি কাজে লাগিয়ে আশা করি প্রতিবছর সমাবর্তন আয়োজন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে সমাবর্তনে অভিভাবকদের আনার চেষ্টা করা হবে।

দিনব্যাপী আয়োজন: বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের নিচতলায় চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রদর্শনী, কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় পাঁচটি নাটক (দ্য ম্যারেজ প্রপোজাল, মৃৎপাত্র, দুই জল্লাদ, সোয়ান সং ও দ্য গেম) পরিবেশনা, সংগীত বিভাগের উদ্যোগে সংগীতানুষ্ঠান ও শিল্পী বাপ্পা মজুমদারের কনসার্ট।