নারী শান্তিরক্ষীর সংখ্যা বাড়াচ্ছে জাতিসংঘ

মেহেদী হাসানঃ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ। এ লক্ষ্যে ২০১৮ থেকে ২০২৮ সাল মেয়াদি একটি কৌশলপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।

এর আওতায় আগামী ২০২৮ সাল নাগাদ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, শান্তি মিশনগুলোতে সামরিক পর্যবেক্ষক ও স্টাফ অফিসার, সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।
কৌশলপত্র থেকে জানা যায়, গত বছর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সামরিক কর্মকর্তার পদগুলোতে নারীর সংখ্যা ছিল ২০ জন, যা মোট সংখ্যার ২২ শতাংশ। আগামী ২০২৮ সালে তা ২৩ জনে (২৫ শতাংশ) উন্নীত করা হবে।

শান্তি মিশনগুলোতে সামরিক পর্যবেক্ষক ও স্টাফ অফিসার পদে গত বছর ৪১০ জন নারী (১২ শতাংশ) কর্মরত ছিলেন। এ বছর তা ৫৩২ জন (১৬ শতাংশ) এবং ২০২৮ সাল নাগাদ ৮৩১ জনে (২৫ শতাংশ) উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এ ছাড়া শান্তি মিশনগুলোতে ২০১৮ সালে কর্মরত ছিল দুই হাজার ৯১২ জন নারী (৪ শতাংশ)। ২০২৮ সাল নাগাদ এই সংখ্যা ১১ হাজার ৪১১ জনে (১৫ শতাংশ) উন্নীত করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পুলিশ পেশাজীবী হিসেবে কর্মরত নারীর সংখ্যা ২০১৮ সালে ছিল ১০ জন (২০ শতাংশ)। ২০২০ সালে এ সংখ্যা ১৩ (২৫ শতাংশ) এবং ২০২৮ সালে ১৮ জনে (৩০ শতাংশ) উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

এ ছাড়া শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে পুলিশ পেশাজীবীর সংখ্যা ১৪ থেকে ২০২৮ সাল নাগাদ ২৩ জন, পুলিশ ইউনিটগুলোতে নারীর সংখ্যা ৬৮৪ জন (৯ শতাংশ) থেকে বাড়িয়ে ২০২৮ সালে এক হাজার ৫০৯ জনে (৩০ শতাংশ) উন্নীত করার চেষ্টা শুরু হয়েছে।
শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সরকারগুলোর দেওয়া জনবলের মধ্যে ২০১৮ সালে নারীর সংখ্যা ছিল ৮৮ জন। এটি মোট জনবলের ২৫ শতাংশ। এ বছর তা ৯১ জন (২৬ শতাংশ), ২০২০ সালে ৯৫ জন (২৭ শতাংশ) এবং ২০২৮ সাল নাগাদ ১০৫ জনে (৩০ শতাংশ) উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত মাসের শেষ সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের চূড়ান্ত অঙ্গীকারের তালিকায় দেখা গেছে, সেখানে বাংলাদেশসহ ৪৬টি দেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করেছে। ওই তালিকায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার হিসেবে আছে ‘নারী শান্তিরক্ষীর সংখ্যা বৃদ্ধি’।

এ ছাড়া বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করেছে। চূড়ান্ত অঙ্গীকারের তালিকায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের জন্য মানুষবিহীন এয়ারক্রাফট ব্যবস্থা (ড্রোন) সম্পর্কিত প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশকে এক কোটি ৩০ লাখ ডলার অনুদান দেবে। আর শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগে যুক্তরাজ্য ১০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে গত ২৯ মার্চ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহিরয়ার আলমের নেতৃত্বে এ দেশের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, পুলিশ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল এতে অংশ নেয়। ওই বৈঠকের পর জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জানায়, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জাতিসংঘের চাহিদা অনুযায়ী নারী শান্তিরক্ষী বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, বসনিয়া হার্জেগোভিনা, কানাডা, জিবুতি, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জাপান, মেক্সিকো, মঙ্গোলিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, সিয়েরা লিওন, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, মরক্কো ও যুক্তরাজ্য নারী শান্তিরক্ষীর সংখ্যা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাস শেষে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ছয় হাজার ৩৪৫ জন পুরুষ ও ২০৫ জন নারী কর্মরত।-কালেরকন্ঠ