নাম খারিজের দাবীতে সরাইলে মানববন্ধন

8

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: সিটিজেন চার্টারে ৪৫কার্য দিবসে জায়গার নাম খারিজের আবেদনের নিস্পত্তি করার কথা। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ৬ মাস/ বছর দিন ঘুরেও সমাধান পাচ্ছেন না অনেকে। ফলে সহকারি কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে আবেদনের স্তুপ জমে আছে। সীমাহীন সমস্যায় ভুগছেন জায়গা-জমির মালিকরা। এরই প্রতিবাদে বুধবার সকালে সরাইল উপজেলা সদরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে মানববন্ধন করে ভুক্তভোগিরা। ঘটনাস্থলে এসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছেন। আশ্বাস দেন সমাধানের। ভুক্তভোগিরা জানায়, গত এক-দেড় বছর ধরে নাম খারিজের আবেদনের নিস্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা সরাইলের অতীতের সকল রেকর্ডকে পেছনে ফেলেছে। সরাইলে গত দেড় বছরেরও অধিক সময় ধরে খারিজে ধীরগতি। মধ্যে ২মাস বন্ধ ছিল। ফলে আটকে পড়ে জায়গা জমি ক্রয়-বিক্রয়। ঋণ পরিশোধ, জরুরী চিকিৎসা, বিদেশ যাওয়া, বিয়ে-শাদী, ছেলে মেয়ের স্কুলের বেতন প্রদান ও ব্যবসা-বাণিজ্য আটকে যাচ্ছে। টাকার অভাবে অনেক কৃষককে মহাজনী সুদে ইরি বোরো ধান চাষ করতে হচ্ছে। মানববন্ধনে অংশ নেয়া ভুক্তভোগি মো. মোস্তাক আহমেদ (৬০) বলেন, আমি হৃদরোগে ভুগছি। চিকিৎসার জন্য জায়গা বিক্রি করব। ২০২০সালের ১জুলাই সাড়ে দশ শতক জায়গা নাম খারিজের আবেদন করি। সদর ইউনিয়ন উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরকে ৮হাজার টাকা দেয়। এরপরও নানা তালবাহানা করে ৩-৪ মাস ঘুরিয়ে টাকা ফেরৎ দেন। ৭ জানুয়ারী পরিত্রাণ চেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) কাছে আবেদন করি। সমাধান পায়নি। সরাইল সদর ইউনিয়নের উচালিয়া পাড়ার আবু তাহেরের ছেলে প্রবাসী আব্দুল জব্বার (৩৫)। ২০২০ সালের ২৫মার্চ ৩শতক ভিটে বাড়ি খতিয়ান থেকে নাম খারিজের আবেদন করেছিলেন। ৩ মাস ঘুরে ওই আবেদনের কোন ফয়সালা পাননি তিনি। অবশেষে চলে গেছেন কর্মস্থলে। জব্বারের আপন বড় বোন হারিফা বেগম (৪০) গত বছরের ২২ডিসেম্বর এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। গত কোরবাণীর ঈদের আগে নাম খারিজের আবেদন করে সমাধান পাননি টিঘর গ্রামের গেদু মিয়ার ছেলে দিলু মিয়া (৫৫)। গত ২৮ডিসেম্বর তিনি এ বিষয়ে নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। আবেদনের ৫ মাস পর খারিজ না পেয়ে মৌখিক ভাবে নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন কালিকচ্ছ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য অরবিন্দ। গতকাল সকালে ভুক্তভোগিরা উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে মানববন্ধনে দাঁড়ায়। সেখানে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক মৃদুল। তিনি বিষয়টির সমঝোতার প্রস্তাব দেন। সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে বসে সমঝোতা সভায় উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার, থানার কর্মকর্তা এস. আই. মো. জাকির হোসেন খন্দকার, যুবলীগের সাবেক আহবায়ক মো. মাহফুজ আলী, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন, উপজেলা কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি ও সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা দেবদাস সিংহ রায় ও হৃদয়ে সরাইল সংগঠনের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ মৃধা দুলাল। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভুক্তভোগিদের সমস্যা সমাধানেরও আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে তিনি ভুক্তভোগি লোকজনকে মানববন্ধন না করার আহবান জানান।