ডেস্ক রিপোর্ট : তদ্বিরবাজদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। সচিবালয়সহ বিভিন্ন স্থানে এটি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। দর্শনার্থী পাস প্রদান বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন কায়দায় তদ্বিরবাজরা সচিবালয়ে প্রবেশ করছে। ভিড় জমাচ্ছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে। নাম ভাঙ্গাচ্ছে সমাজের নামী-দামী লোকের। সচিবালয়ের বাইরেও এদের দাপট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ভূমি অফিস, ডিসি অফিস, এজি অফিস, পাসপোর্ট অফিসসহ বিভিন্ন অফিসে এ কারণে সাধারণ মানুষ দিশাহারা।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ করে সরকার। এখনও মন্ত্রী, সচিবের রুমে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত রয়েছে। সচিবালয়ে প্রবেশ পাস নিষিদ্ধ থাকলেও তদ্বিরবাজদের কিছুতেই আটকে রাখা যাচ্ছে না। জানা গেছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশে এদের সচিবালয়ে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। দর্শনার্থী পাস বন্ধ থাকায় বিশেষ প্রয়োজনে সচিবালয়ে প্রবেশের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন শত শত তদ্বিরবাজ সচিবালয়ে প্রবেশ করছে। প্রতিদিন এরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ভিড় জমাচ্ছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা, জনপ্রশাসন, ভূমিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রতিদিন তদ্বিরবাজদের ভিড় দেখা যাচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাস এবং সচিবালয়ে প্রবেশ কার্ডবিহীন লোকের সচিবালয়ে ঢোকার লাইন। এই লাইনে দাঁড়িয়ে আছে ৬০ থেকে ৭০ ব্যক্তি। বিভিন্ন লোকের রেফারেন্সে তারা সচিবালয়ে ঢুকবে বলে লাইনে দাঁড়িয়েছে বলে গেটে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য জানান। এদের ঢোকানোর জন্য সচিবালয়ের গেটে রেজিস্টার খাতা রাখা হয়েছে। এই খাতায় এন্ট্রি করে তারা সচিবালয়ে প্রবেশ করছে। মূলত এরা বিভিন্ন ব্যক্তির সুপারিশে সচিবালয়ে ঢুকে যার যার তদ্বিরে ব্যস্ত রয়েছে। এদের বিভিন্ন মন্ত্রীর রুমে ঢোকার জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে। আবার কেউ বা বিভিন্ন সচিবের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় থাকছে। কেউ সাক্ষাত পাচ্ছেন, কাজ হচ্ছে বা হচ্ছে না। আবার কখনও বা কাক্সিক্ষত কর্তাব্যক্তির সাক্ষাত না পেয়ে ফেরত আসছেন। মঙ্গলবার দুপুর তিনটার দিকে দেখা গেছে সচিবালয়ের ৬ নং ভবন থেকে একদল তদ্বিরবাজ এক সঙ্গে লিফটে করে নিচে নামছে।

রাজধানীতে তালাকপ্রাপ্ত স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন, আদাবরে শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার
সচিবালয়ের বাইরের চিত্র আরও ভয়াবহ। বিভিন্ন এসি ল্যান্ড অফিসে গেলে চোখে পড়ে তদ্বিরবাজদের ভিড়। পাশাপাশি ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার, কাননগো, সহকারী ও উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তারাও বেপরোয়া। ঘুষ না দিলে এরা বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল আটকে দেয়। এমনকি সব কিছু ঠিক থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ একটি কাগজ সরিয়ে ফাইলকে ত্রুটিপূর্ণ করে তা আটকে দেয়। জানা গেছে, ঢাকা কোতোয়ালি এসি ল্যান্ড অফিসের কাননগো অশোক ম-ল সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা ঘটিয়েছেন। জামাল চৌধুরী নামের এই লোকটি বিষয়টি নিয়ে এসিল্যান্ডের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বিষয়টি ভূমি সচিবকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মতিঝিলের এসি ল্যান্ড অফিসের অবস্থায় ভয়াবহ। কাননগো আমিনুল নিজেকে এখানে সর্বেসর্বা বলে মনে করেন। তাকে খুশি না করলে কোন নামজারি হবে না বলে তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন। সবকিছু ঠিক থাকার পরও আগস্ট মাসে ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার আত্মীয়ের নামজারি আটকে দেন এই আমিনুল। শেষ পর্যন্ত বেশি টাকা দিয়ে তা সম্পন্ন করতে হয়।

ভূমি অফিস সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার ভূমিমন্ত্রীর দফতরের এক কর্মকর্তা মঙ্গলবারকে বলেন, তার নাম ভাঙ্গিয়ে উত্তরবঙ্গের এক এসি ল্যান্ড অফিস থেকে সাতটি তদ্বির করে নিয়েছেন তদ্বিরবাজরা। অষ্টম তদ্বিরে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে ওই কর্মকর্তাকে ফোন করে জানতে পারেন তিনি কোন তদ্বির করেননি। পরে অষ্টম তদ্বির আটকে দেন। এছাড়া অন্য এক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও ওই কর্মকর্তাকে ফোন করে জানতে চান তিনি কোন তদ্বির করেছেন কি না। তখন তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি কোন তদ্বির করেন না। যদি কখনও তদ্বির করা প্রয়োজন হয়, তা হলে সরাসরি ফোন করবেন।আমাদের সময়.কম