নরসিংদীতে টেঁটাযুদ্ধে নিহত ৪, ওসিসহ আহত ২৫

যুগবার্তা ডেস্কঃ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় নীলক্ষা ইউনিয়নে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছে। রায়পুরা থানার ওসিসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। সোমবার দুপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ সংঘর্ষ হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন- মোমেন মিয়া, মানিক মিয়া ও খোকন সরকার। তারা সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হক সরকারের লোক বলে পরিচিত। নরসিংদীর পুলিশ সুপার (এসপি) আমেনা বেগম বলেন, চারজনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রায়পুরা থানার ওসি আজহারুল ইসলামসহ পুলিশের ছয় সদস্যও আহত হয়েছেন। রায়পুরা থানার এসআই মোজাম্মেল হোসেন জানিয়েছেন, ওসিসহ পুলিশের ছয় সদস্যকে রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নীলক্ষা চরাঞ্চল। ব্যক্তির কিংবা গোষ্ঠীর প্রভাবে চরাঞ্চল নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে। বেশ কয়েক বছর ধরে নীলক্ষা ইউনিয়নটিতে তাজুল ইসলাম ও আবদুল হক প্রভাব বিস্তার করে আছেন। তাজুল নীলক্ষা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান। আর আবদুল হক সাবেক চেয়ারম্যান। প্রভাব বিস্তার করা নিয়ে কয়েক বছর আগে থেকে পক্ষ দুটির মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুই পক্ষের বিরোধ চরমে ওঠে। এর জের ধরে সম্প্রতি পক্ষ দুটির মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার সূত্র ধরে একে অপরের বিপক্ষে একাধিক মামলা করেন। পাঁচ দিন আগে নতুন করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। শনিবার সন্ধ্যায় নীলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়। ওই সংঘর্ষের জের ধরে রোববার দুপুরে টেঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ নীলক্ষা, বীরগাঁও, দড়িগাঁও, হরিপুর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের অর্ধশত লোক আহত হন। ওই ঘটনার ধারাবাহিতার অংশ হিসেবে আজ সোমবার সকাল থেকে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। দুপুরের দিকে চার ব্যক্তি টেঁটাবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ওই সময় রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহার উদ্দিনসহ পুলিশের আরও তিন সদস্য আহত হন। উভয় পক্ষের আরও অন্তত ২১ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।