ধর্ম ব্যবহার করে কেউ যেনো সাম্প্রদায়িকতা ছড়াতে না পারে–গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী

13

যুগবার্তা ডেস্কঃ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি বলেছেন, ধর্ম ব্যবহার করে কেউ যেনো সাম্প্রদায়িকতা ছড়াতে না পারে। ব্যবধানের দেয়াল তুলতে না পারে। সেজন্য ধর্মের মৌলিক অমৃতবাণী ছড়িয়ে দিতে হবে। হাজার হাজার বছর মন্দিরের পাশে মসজিদ, মন্দিরের পাশে গীর্জা, আযান, ঘন্টা, উলুধ্বনি আমাদের বিভাজন করতে পারেনি। সেই সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতার নিবিড় বন্ধন নানা কারণে কিছুটা ক্ষয়িষ্ণু হয়ে গেছে। আমরা সেখানে আবার ফিরে যেতে চাই।

আজ রাজধানীতে বাংলাদেশ বাহ্ম সমাজের ১৯০তম মাঘোৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। উৎসবে অন্যান্যের মধ্যে ব্রাহ্ম সমাজের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, চিত্তকে নির্মল করার আহ্বান ধারণ করতে পারলে বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে ধর্মের নামে উশৃঙ্খলতা, উগ্রতা ও সাম্প্রদায়িকতা থাকে না। সকল ধর্মের মর্মবাণী এক। মত ও পথের ভিন্নতা থাকলেও গন্তব্য সকলের একই। সকল ধর্মাবলম্বীদের উচ্ছ্বাসের শব্দ একইভাবে উচ্চারিত। বেদনার কষ্টে সকলের ক্রন্দনের ভাষাও একই। নৈবেদ্য লাভের প্রচেষ্টা সবার এক। সকল ধর্মগ্রন্থের মৌলিক কথাও একই। কোন ধর্ম অপরাধের কথা বলেনা, সাম্প্রদায়িকতার কথা বলেনা।

সমাজ সংস্কারে রাজা রামমোহন রায়ের অবদানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অন্য ধর্মাবলম্বীরাও তাঁর অবদান অস্বীকার করতে পারবেন না। তিনি তাঁর দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজ সংস্কারের জন্য যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছিলেন, ১৯০ বছরের দীর্ঘ ধারাবাহিকতায় আজ পর্যন্ত কেউ বলতে পারেনি যে তার উদ্যোগ কোনভাবে সঠিক ছিল না।

তিনি আরো যোগ করেন, ১৯৭১ সালে ইসলামের নামে অন্য ধর্মের নারীদের ধর্ষণ, তাদের সম্পদ লুন্ঠন, জোর করে ধর্মান্তরিত করা বা দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিলো। কিন্তু ইসলাম সেটা সমর্থন করেনা। আবার বিশ্বের কিছু অঞ্চলে সনাতন ধর্মের নাম নিয়ে কেউ কেউ উগ্রভাবে অপর ধর্মের মানুষের উপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। যারা একাজ করে তারা সঠিকভাবে সনাতন ধর্ম বা ইসলাম ধর্ম বোঝেনা। মিয়ানমারে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি শ্রেণি গেরুয়া পোশাক পরেও হিংস্র দানবের মতো আচরণ করে। এরা মনুষ্যত্বের নির্যাস সঠিকভাবে জীবনে প্রবেশ করাতে পারেনি।