“ধরায় এসেছে মা” শিরোনামে পূজার গান নিয়ে এলেন শিল্পী বিশ্বাস

জাকির হোসেন আজাদী: শরতের শান্ত নদীর চরে যখন সাদা কাশফুল নৃত্য করে, শেফালির শুভ্রতা ও মোহনীয় গন্ধে প্রকৃতি যখন আনন্দে আত্মহারা, যখন বিলের জলে পাখা মেলে লালপদ্ম, ঠিক তখনই মা দুর্গার আগমন ঘটে শস্যের সবুজ সংগীতে, বৃক্ষের বন্দনায়, ঢাকের শব্দে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোনার বাংলায়, নজরুলের বাংলাদেশ ও জীবনানন্দের রূপসী বাংলায়। সেই মা দূর্গা দেবীকে নিয়ে একটি অনবদ্য অসাধারণ গান নিয়ে এলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শিল্পী বিশ্বাস।

অসাধারণ এই গানটির কথা লিখেছেন ও মিষ্টি সুর করেছেন আশীশ দেব রায়। ক্লোজআপ তারকা পুতুল, হুমায়রা বশির, শিল্পী বিশ্বাস, পূজা সরকার, দিনাত জাহান মুন্নিসহ বাংলাদেশে অনেক শিল্পীর পাশাপাশি কলকাতায় রাগেশ্রীমিত্রসহ অনেকেই তাঁর লেখা ও সুর করা গান করেছেন। গানটির মিউজিক : রাজন সাহা। ভিডিও বাসেত বাবু। লেবেল : আশীশ মিউজিক রোম। গানটির কণ্ঠশিল্পী শিল্পী বিশ্বাস বলেন, “আমি গানটির ব‍্যাপারে খুব আশাবাদী আমার দর্শক শ্রোতারা গানটি পছন্দ করবে। একটি অসাধারণ কাজ হয়েছে। সবাইকে দূর্গা পুজার শুভেচ্ছা “

উল্লেখ্য যে, দুর্গা হিন্দুধর্মের জনপ্রিয় দেবী। মা দুর্গাকে হিন্দুধর্মে দেবী পার্বতী এবং মহাশক্তির এক অনন্য শক্তিরূপ হিসেবে মনে করা হয়। দুর্গা শব্দের অর্থ হলো যিনি দুর্গতি বা সংকট থেকে রক্ষা করেন। দেবী পার্বতীর নানা রূপ রয়েছে, তার মধ্যে দশভুজা অধিক জনপ্রিয়। সিংহকে দেবী দুর্গার বাহন হিসেবে মান্য করা হয়। দুর্গম নামে এক অসুরকে বধ করেছিলে পার্বতী— এজন্যই দেবী পার্বতীকে দেবী
দুর্গা নামে অভিহিত করা হয়। দেবী দুর্গার অস্ত্র হিসেবে ধরা হয় ত্রিশূল, চক্র, গদা, শঙ্খ, ধনুক ইত্যাদি। দেবী দুর্গার পিতা হলেন হিমালয় এবং মা হলেন মেনুকা রানী। কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও
সরস্বতী হলেন মা দুর্গার সন্তান।

দুর্গাপূজার নিয়ম অনুযায়ী, আশ্বিন মাসের প্রথমে যে অমাবস্যা হয় সেটি মহালয়া। এরপর যে চাঁদ ওঠে, সেই চাঁদের ষষ্ঠ দিনে দেবীর বোধন বা মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে দুর্গাপূজার শুরু হয়। পুরাণ অনুযায়ী, মহাষষ্ঠীর দিনে দেবী পৃথিবীতে নেমে আসেন। ব্রহ্মার বরে মহিষাসুর অমর হয়ে উঠেছিলেন। তবে সেই বরে বলা হয়েছিল, শুধু নারীশক্তির কাছে তার পরাজয় হবে। ফলে অসুরদের কারণে যখন দেবতারা অতিষ্ঠ, তখন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর মিলে দেবী দুর্গাকে সৃষ্টি করেন। দেবতার দেওয়া অস্ত্র দিয়ে তিনি অসুরকে বধ
করে স্বর্গে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন।

বাংলার কৃষির সঙ্গে দুর্গাপূজার রয়েছে এক নিবিড় সম্পর্ক। মন্ত্রে বলা আছে, বর্ষার শেষে কৃষক যখন নতুন শস্য উৎপাদন শুরু করেন, সেই শস্যের ওপর ভিত্তি করেই দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। কারণ, জগতের মা যিনি, তিনি শস্যরূপেই আমাদের জীবন রক্ষা
করেন। দুর্গাপূজা বাঙালি সনাতনী সমাজে একটি অন্যতম বিশেষ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। সাধারণত আশ্বিন মাসের শুল্কপক্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম দিন পর্যন্ত শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে ‘দুর্গা ষষ্ঠী’, ‘দুর্গা সপ্তমী’, ‘দুর্গাষ্টমী’, ‘মহানবমী’ ও ‘বিজয়া দশমী’। আশ্বিন মাসের শুল্কপক্ষটিকে বলা হয় ‘দেবীপক্ষ’ দেবীপক্ষের সূচনায় অমাবস্যারটির নাম মহালয়া। এই দিনে হিন্দুরা তর্পণ করে তাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।