দুশ্চিন্তায় ঘুম নেই বানভাসিদের

4

ডেস্ক রিপোর্ট দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে। কোথাও নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। কোথাও হাজার হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দি। বন্যা ও আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্রের মতে, নদনদীর পানি কমতে থাকায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ এখনও কমেনি। এদিকে বন্যার রেশ না কাটতেই ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’র মতো দেখা দিয়েছে ব্যাপক নদীভাঙন। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই দেশের অন্তত ১৪ জেলায় এ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের তীব্রতায় অনেকে ভিটেমাটি সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু বাঁধের ওপর। হাজারো মানুষ ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। অথচ নদীভাঙন রোধে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই কার্যকর পদক্ষেপ। তীব্র নদীভাঙনের কবলে পড়া জেলাগুলো হলো- বরিশাল, পিরোজপুর, পাবনা, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর। ব্যুরো, অফিস, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর-

বরিশাল :মেঘনার তীরে অবস্থিত বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই দুই উপজেলায় ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। দুটি উপজেলা সদর ইউনিয়নে ভাঙন দেখা দেওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে সেখানকার সরকারি দপ্তরগুলোর ভবন। হিজলা উপজেলা সদর ইউনিয়নের বাউশিয়া গ্রাম তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে। গতবছর এখানে জিওব্যাগ ফেললেও তা এখন নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। সংলগ্ন টেকের বাজার বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পুরাতন হিজলা বন্দরের প্রায় অর্ধকিলোমিটার সড়ক গত এক মাসে নদীতে বিলীন হয়েছে। সেখানকার নৌ-টার্মিনাল সরিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে পুরাতন হিজলা বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোস্টগার্ডের দক্ষিণ জোনের পতিত জমি, মধ্য বাউশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দক্ষিণ বাউশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, মেঘনার ভাঙনে উপজেলা পরিষদ চত্বরও হুমকিতে রয়েছে। মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়নের রুকন্দি, সাদেকপুর, চাঁনপুর মেঘনার মোহনা ইলিশা নদীর ভাঙন চলছে। রুকুন্দি, বাহাদুরপুর, সাদেকপুর গ্রাম নদীর কাছাকাছি চলে এসেছে। এদিকে তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ও দুর্গাপাশা ইউনিয়ন।
পাবনা :জেলার চারটি উপজেলায় পদ্মা ও যমুনায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় নির্ঘুম দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের হাজারো মানুষ। চলতি বছর বন্যা শুরু হওয়ার সঙ্গে পাবনার নদনদীগুলোতে পানি বাড়তে শুরু করায় নদী-তীরবর্তী অঞ্চলে দেখা দিয়েছে প্রচণ্ড ভাঙন। ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে পাবনা সদর, সুজানগর, বেড়া ও ঈশ্বরদী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন। সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে জেলার অন্তত ৩২টি নদী-তীরবর্তী গ্রামের ৩০০ ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়া) আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির সমকালকে বলেন, এই এলাকার অন্তত ৫০ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত। এ ছাড়া নদীভাঙনে অনেক পরিবার দিশেহারা।
কিশোরগঞ্জ :গত এক সপ্তাহে হাওর এবং নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ছাতিরচর ইউনিয়ন ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। ঘোড়াউত্রা নদী প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে বিলীন হয়ে গেছে ছাতিরচরের জামে মসজিদ, রাস্তাসহ শতাধিক মানুষের বসতবাড়ি। ভাঙনের তীব্রতায় গ্রামের অসংখ্য মানুষ বসতবাড়ি হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন আশপাশের আত্মীয়স্বজনের ঘরবাড়িতে। আবার অনেকেই পরিত্যক্ত খোলা জায়গায় বসতঘরের চালা অস্থায়ীভাবে বসিয়ে রাত পার করছেন।
গাইবান্ধা : গাইবান্ধায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া, শ্রীপুর, হরিপুর, গাইবান্ধার সদরের কামারজানি, ফুলছড়ির কাতলামারি, সিংড়িয়া, কামারপাড়া এবং সাঘাটার গোবিন্দি ও হলদিয়ার বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক ভাঙনের ফলে গত তিনদিনে সাড়ে ৩শ’ ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে গাইবান্ধার সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩৩ পয়েন্টে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ১৪টি পয়েন্ট পরিদর্শন করা হয়েছে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) : মঠবাড়িয়ার বড়মাছুয়া মোহনায় বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এতে উল্লেখিত এলাকার বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট ও স্টিমারঘাটসহ বাজার ও বসত বাড়ি হুমকির মুখে আছে। স্থানীয়রা জানান, আম্পান পরবর্তী সম্প্রতি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক পরিদর্শনে এসে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের আশ্বাস দেন। তবে কাজ দ্রুত শুরু না করায় বড়মাছুয়ার লঞ্চঘাট ও স্টিমার ঘাট সম্পূর্ণ বিলীনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জামালপুর ও সরিষাবাড়ী : জামালপুরে নদনদীর পানি কমলেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীতে বিলীন হয়ে গেছে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প। বন্যার পানি কমতে না কমতেই জেলার কয়েকটি উপজেলার ব্যাপক নদীভাঙনে বানভাসি মানুষ দিশেহারা।
ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের কাজলা, কাঠমা, মাইজবাড়ী গ্রামসহ দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার নবনির্মিত নৌ-থানা, স্কুল, মাদ্রাসা ও খোলাবাড়ী বাজার যমুনা নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে। এ দিকে সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের ঝিনাই নদী রক্ষাবাঁধ সংস্কার না হওয়ায় চাপারকোনা পূর্বচর গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ৪শ’ পরিবারের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
নেত্রকোনা : সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের কালিকাবর বেড়িবাঁধ ভেঙে বেশকিছু বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আরও দুই শতাধিক বাড়িঘর বিলীন হওয়ার পথে। ইউনিয়নের কালিকাবর গ্রামের মকিম সরকারের বাড়ি থেকে নদীর বেড়িবাঁধের প্রায় ১১শ’ ফুটে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া কংশ নদীর পানি বেড়ে বারহাট্টা উপজেলার বায়পুর ইউনিয়নের ঠাকুরাকোনা- ফকিরের বাজার সড়কের চরপাড়া এলাকায় দেখা দিয়েছে নদীভাঙন।
এ ছাড়া জেলার কলমাকান্দায় উদ্ধাখালী ও গনেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে সীমান্তবর্তী খারনৈ, বড়খাপন, লেঙ্গুরাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ :সুনামগঞ্জে নদনদীর পানি কমায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও যোগাযোগ দুর্যোগে পড়েছেন জেলাবাসী। বন্যার পানি ও উজানের ঢলে সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ- দোয়ারা-ছাতক ও সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর সড়কের বেহাল অবস্থা। এই ৬ উপজেলার সড়কের একাধিক স্থানে কেবল খানখন্দ নয়, বানের তোড়ে ভেসে গেছে।
কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বলদিপাড়া আর গারুহারা গ্রামে আবারও দুধকুমার নদের ভাঙন শুরু হয়েছে। বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে এই ভাঙন শুরু হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে অর্ধশতাধিক পরিবার। দু’সপ্তাহ আগে পানি যখন বাড়ছিল তখন ভাঙন হয়েছে। সে সময় ভাঙনে ১০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন বলে জানালেন যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আরী সরকার।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সাহা জানান, গত এক মাসে নদনদীগুলোতে পানি বাড়ার সময় ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারের ভাঙনে জেলার সদর উপজেলায় ৯৬টি পরিবার, নাগেশ্বরীতে ২০৫টি পরিবার, রাজারহাটে ১০৯টি পরিবার এবং রৌমারীতে ৯০টি পরিবার মোট ৫০০ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে।
এদিকে এখন আবার পানি কমতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের কবলে পড়েছে ১৫টি গ্রাম। সেইসঙ্গে ১৪টি স্পটে ২৩ কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ, স্পার ও রিভেটমেন্ট ভাঙনের কবলে পড়েছে। এর মধ্যে দুধকুমারের ভাঙনের কবলে পড়েছে আন্ধারীরঝাড়, বামনডাঙ্গা, খেলারভিটা, নুনখাওয়া, ঘোগাদহ ও যাত্রাপুর এলাকায় সাড়ে ১৪ কিলোমিটার বাঁধ। ধরলার ভাঙনের কবলে পড়েছে বেগমগঞ্জ, পাঁচগাছি, ভোগডাঙ্গা ও সারডোব এলাকায় সাড়ে সাত কিলোমিটার বাঁধ। তিস্তার ভাঙনের কবলে পড়েছে কালিরমেলা, ডাংরারহাট, গাবুর হেলান, ঠুঠাপাইকর ও গতিয়াসাম এলাকায় দুই কিলোমিটার বাঁধ। এ ছাড়া ডাংরার হাটে স্পার এবং ঠুঠাপাইকড় এলাকায় রিভেটমেন্ট ভাঙনের কবলে পড়েছে।
নোয়াখালী :নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। চার দিন ধরে উপজেলার মেঘনা নদীর কোলঘেঁষা চর ঈশ্বর, সুখ চর, নলচিরা ও নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে ভাঙা বেড়ী বাঁধ দিয়ে আকস্মিকভাবে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে ১৫ গ্রামের ১০ হাজার লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাছির উদ্দিন বলেন, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পূর্ণিমার প্রভাবে মেঘনা নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে হাতিয়া উপজেলার ৩-৪টি ইউনিয়নের লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
সিরাজগঞ্জ ও শাহজাদপুর :যমুনায় পানি বাড়ায় সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের ঘাটাবাড়ি ও পাকুরতলায় ভাঙনের মাত্রা বেড়েছে। পাউবো থেকে সেখানে অস্থায়ী জরুরি প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ভাঙন কোনোভাবেই থামছে না। থেমে থেমে ভাঙনে মানুষজন ক্রমশ বসতভিটা, ঘরবাড়ি ও কৃষিজমিও হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন।
এদিকে শাহজাদপুরে বন্যার পানি কিছুটা কমলেও পানিবন্দি নয় হাজার পরিবারের দুর্ভোগ বেড়েছে। সেইসঙ্গে গত এক সপ্তাহে উপজেলার জালালপুর ও সোনাতনী ইউনিয়নের ছয় গ্রামে যমুনার ভাঙনে প্রায় ৫০০ ঘরবাড়ি যমুনায় বিলীন হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ :গত শনিবার রাতে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার হাসাইল-কামারখাড়া সড়কের ভাঙ্গানীয়া কবরস্থান এলাকায় সড়কের একটি অংশ ভেঙে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। সড়কটির যে স্থানে পদ্মার পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, মূলত সে স্থানটিতেই ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া টঙ্গিবাড়ীর দিঘিরপাড় ইউনিয়নের হাইয়ারপাড় গ্রামে মসজিদটি পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়েছে। অন্যদিকে পদ্মাতীরে বাঁধ না থাকায় মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের মেদিনীম ছ। সেইসঙ্গে মাওয়া থেকে চলাচলের কান্দিপাড়া ও যশলদিয়া বিকল্প সড়কটি ভাঙতে শুরু করেছে।
লক্ষ্মীপুর :মেঘনার ভাঙনে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরে অনেক মানুষ বসতভিটাসহ শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে এখন রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছেন।
রামগতি চরগাজী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রব বেপারী জানান, এক সপ্তাহে লক্ষ্মীপুরের ৯৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের রামগতি টাংকির বাজার, সুজন গ্রাম, বড়খেরী, চরআলগীসহ কমলনগরের সাহেবেরহাট, নাসিরগঞ্জ, কাদের পি তের হাট, পাটওয়ারীরহাট, চরফলকন, মাতব্বরহাট, লুধুয়া বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
কমলনগরের চরকালকিনি ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ জানান, কমলনগর উপজেলার নাছিরগঞ্জ বাজারে প্রতিদিন কয়েকশ’ মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ করছেন।
নীলফামারী :নীলফামারীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার।
গত ২৬ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত টানা তিন দিন জেলার নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী ও গয়াবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীবেষ্টিত প্রায় ১৫টি গ্রামের পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। নদীভাঙনের শিকার হন ৬৯টি পরিবার।
সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) :সাটুরিয়ার তিল্লি ও বরাইদ ইউনিয়নের তিন গ্রামে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়িসহ আবাদি ফসল ধলেশ্বরী নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে আরও তিনটি গ্রাম। সরেজমিন বরাইদ ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, এবার নতুন করে তিনটি গ্রামে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
এদিকে ছনকা গ্রামের একটি মসজিদ ও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যে কোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। বিলীন হয়ে যাবে আরও শতাধিক ঘরবাড়ি।