দীর্ঘমেয়াদি বন্যার কবলে দেশ

5

ডেস্ক রিপোর্টঃ চলতি মৌসুমের চলমান দ্বিতীয় দফার বন্যা আরও ১৫ দিন স্থায়ী হতে পারে। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় বৃষ্টির প্রবণতা কমছে। এতে কাল শুক্রবার বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করবে। কিন্তু রোববারের দিকে ফের বাড়তে শুরু করবে বানের পানি। আর সেই পানিতে সৃষ্ট বন্যা চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত চলতে পারে। এবার একসঙ্গে দেশের চার অঞ্চলে বন্যা হতে পারে। বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি রূপ লাভ করতে পারে। এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে খোদ সরকারি সংস্থা বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। ইতঃপূর্বে ২৭ জুন প্রথম দফার বন্যা শুরু হয়।

এদিকে বন্যাকবলিত এলাকায় কারও কারও ঘরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে। নাটোরের সিংড়ায় পানির সে াতে ভেঙে গেছে নাটোর তেমুখ-নওগাঁ সড়কটি। এতে করে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে নাটোর সিংড়ার সঙ্গে নওগাঁর গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। কুড়িগ্রামে বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুসহ ৩ জন ও গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে ইসলামপুর-দেওয়ানগঞ্জ রেল রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ইসলামপুর-ঢাকা ট্রেন চলাচল অব্যাহত রেখেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল বলেন, দেশের চারটি নদী অববাহিকার মধ্যে গঙ্গা-পদ্মা এবং ব্রহ্মপুত্র-যমুনা একসঙ্গে সক্রিয় হলে ‘বড়’ বন্যা দেখা দেয়। এর আগে ১৯৯৮ সালে একসঙ্গে এ দুই অববাহিকা সক্রিয় হয়ে দীর্ঘমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি করেছিল। সেই বন্যার মেয়াদ ছিল ৩৩ দিন। তাতে ঢাকা শহরও তলিয়ে গিয়েছিল। রাজধানীমুখী নদনদী অনেকই ভরাট হয়ে গেছে। এ কারণে এবার হয়তো ঢাকা শহরে বন্যা হবে না।

কিন্তু পূর্বাঞ্চলসহ রাজধানীর নিম্নাঞ্চলে বন্যা হতে পারে। তিনি আরও বলেন, উপমহাদেশ বিশেষ করে ভারতের পূর্বাঞ্চলের সাত রাজ্য, পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম ও বাংলাদেশ এবারে যে বৃষ্টি পাচ্ছে, তা নজিরবিহীন। এই নজিরবিহীন বন্যা এবার রেকর্ড পানিপ্রবাহ নিয়ে আসতে পারে। এ কারণে চলতি মাসের শেষের দিকে উত্তর, উত্তর-পূর্ব, উত্তর-মধ্য এবং মধ্যাঞ্চলে বন্যা দেখে দিতে পারে। এই চার অঞ্চলের মধ্যে আবার উত্তর এবং উত্তর-মধ্যাঞ্চলে বন্যা ভয়ানক রূপ লাভ করতে পারে।

দেশের চারটি নদী অববাহিকা হচ্ছে- ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা, মেঘনা এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকা। এগুলোর মধ্যে প্রথম তিনটি অববাহিকায় হতে পারে বন্যা। বৃষ্টিপাতের বিভিন্ন মডেল বিশ্লেষণ করে এফএফডব্লিউসি দেশের প্রধান নদনদীর জন্য ২ সপ্তাহের অববাহিকাভিত্তিক বন্যার ধারণাগত পূর্বাভাস দিয়েছে। বুধবার এই পূর্বাভাসসহ বন্যা সংক্রান্ত আগাম প্রতিবেদন সব জেলা প্রশাসককে পাঠানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী ২৩ জেলায় বন্যা হতে পারে।

এফএফডব্লিউসির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় আছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশ ও উজানের অববাহিকাগুলোর অনেক স্থানে বৃষ্টিপাতসহ কতিপয় স্থানে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে দেশের সব প্রধান নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্তত ১৩ নদী ২১ স্থানে বইছে বিপদসীমার উপরে।

এফএফডব্লিউসির পূর্বাভাসে সতর্ক করে বলা হয়, ১৭ জুলাইয়ের পর ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদনদীর পানি কমতে পারে। কিন্তু ১৯-২০ জুলাইয়ের দিকে ভারি বৃষ্টিপাত ফের বাড়তে পারে। এ অবস্থায় ২০-২১ জুলাই থেকে অন্তত ৫ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে পানির সমতল। এ কারণে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, পাবনা, নওগা, নাটোর জেলার নিম্নাঞ্চল বন্যাকবলিত হতে পারে। এছাড়া বর্তমানে যেখানে বন্যা চলছে, সেখানে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে। বৃষ্টিপাত পরিস্থিতির ওপর এটা চলতি মাসের চতুর্থ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে ২৫ জুলাই থেকে পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হবে।

এছাড়া দেশের উত্তরের নদী তিস্তা এবং ধরলার পানির সমতল একই সময়ে বা ২০-২১ জুলাই থেকে দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ৩-৪ দিন স্থায়ী হতে পারে বৃষ্টিপাত। এই সময়ে অববাহিকাভুক্ত লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুর জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে।

এদিকে গঙ্গা-পদ্মা (রাজবাড়ীর উপরের অংশ) অববাহিকায় পানির সমতল বর্তমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পদ্মার (রাজবাড়ির নীচের দিকে) পানি কিছু স্থানে বিপদসীমার উপরে আছে। ২০ জুলাই পর্যন্ত এই বৃদ্ধির প্রবণতা স্থায়ী হতে পারে। কিন্তু ১৯-২০ জুলাই পুনরায় মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ায় এবং উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে ভারি বৃষ্টিপাতের প্রবণতা থাকায় গঙ্গা নদীর পানির সমতল ২০-২১ জুলাই থেকে ধারাবাহিকভাবে ৫ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।

যদিও এ সময়ে গঙ্গা (রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের উপরের অংশ) বিপদসীমা পার করার আশঙ্কা নেই। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সমতল বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকায় একদিকে পশ্চিমবঙ্গ-বিহার থেকে আসা গঙ্গার পানি এবং আরেকদিকে আসাম-মেঘালয়-সিকিম থেকে আসা ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সম্মিলিতভাবে পদ্মা নদীতে বন্যার সৃষ্টি করতে পারে, যা জুলাইয়ে০র শেষ সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যেতে পারে। এতে দেশের মধ্যাঞ্চলের জেলা রাজবাড়ী, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও চাঁদপুরে বন্যা হতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা হতে পারে।

এছাড়া মেঘনা অববাহিকায় বর্তমানে বন্যা চললেও কিছু স্থান থেকে পানি কমছে। যদিও কিছু স্থানে নদী বিপদসীমার উপরে বইছে। পানি হ্রাসের প্রবণতা ১৯ জুলাই পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে ভারতের উজানে আসাম-মেঘালয় অংশে মৌসুমি বায়ু বিস্তারের আশঙ্কার কারণে ২০-২১ জুলাই থেকে পুনরায় পানির সমতল বাড়তে পারে। ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলেও বন্যা দেখা দিতে পারে। সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী, ভুগাই, কংস, মনু ও খোয়াই নদীর সমতল বেড়ে গিয়ে পরে বিপদসীমা পার করতে পারে। এতে নতুন করে আবারও বন্যা হতে পারে। আর দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য জেলাগুলোর নদী হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানির পানিও বেড়ে যেতে পারে।

স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

সুনামগঞ্জ, ছাতক, দোয়ারাবাজার ও জগন্নাথপুর : সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার নিচে নামলেও জেলার হাওরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। বুধবার বিকালে সুনামগঞ্জ শহরের ষোলোঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া হাওরে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকায় এখন সুনামগঞ্জ জেলা শহরের সঙ্গে বিশ্বম্ভপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আছে।

সুনামগঞ্জ শহর ও শহরতলির অন্তত ১০ হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দি অবস্থায় বসবাস করছেন। বুধবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় ৩৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে। ছাতকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। দোয়ারাবাজারে সুরমাসহ সব নদী-নালা, হাওর, খাল-বিলের পানি ধীরগতিতে হ্রাস পেলেও দুর্ভোগ বাড়ছে। জগন্নাথপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রাম বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ পড়েছেন দুর্ভোগে।

নাটোর ও সিংড়া : রাস্তা ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় বিভিন্ন গ্রামে বাড়িঘরে প্রবেশ করছে। বালির বস্তা দিয়ে নাটোর তেমুখ-নওগাঁ সড়কটির বাকি অংশটুকু বাঁচানোর চেষ্টা করছে এলজিইডি। দুই মাস আগেই নির্মাণ করা হয় নাটোর-সিংড়া-নওগাঁর রাস্তাটি। কিন্তু গত রাত ৩টার দিকে বন্যার পানির তীব্র স্রোতের কারণে সড়কটির ভাগ নাগরকান্দি এলাকার দুটি স্থানে ভেঙে যায়। দুটি স্থানে অন্তত ১০ মিটার করে রাস্তা ভেঙে গেছে তীব্র পানির স্রোতে। সিংড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাসান আলী সড়ক ভেঙে যাওয়ার কথা শুনে অবাক হন। দ্রুতই লোক পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও শোনান।

কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরী, চিলমারী : কুড়িগ্রাম জেলায় বন্যায় পানিতে ডুবে দু’জন শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর বন্যার পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৩ জনে। এর মধ্যে বুধবার সকালে চিলমারীতে বন্যার পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে রাকু মিয়া (২০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নাগেশ্বরীতে মঙ্গলবার বিকালে মাদারগঞ্জ গ্রামের আলমগীর হোসেনের মেয়ে লামিয়া খাতুন (২) ও ব্রহ্মতর গ্রামের আবদুল কাইয়ুমের মেয়ে মিমি খাতুন (৭) নামে দুই শিশুর বন্যার পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। নাগেশ্বরীতে অপরিবর্তিত রয়েছে বন্যাপরিস্থিতি।

এখনও পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষ। উপজেলার ১০ ইউনিয়নের ৪৮টি গ্রাম সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। চিলমারীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১০৩ সেমি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নিম্নাঞ্চলগুলোর প্রায় ৪২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে অষ্টমীরচর, চিলমারী, রানীগঞ্জ ও নয়ারহাট ইউনিয়নে বেশকিছু এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের হবিবুল্যাপুর গ্রামে বুধবার বেলা ১১টার দিকে বন্যার পানিতে ডুবে হাসান মোল্লা নামে দেড় বছরের এক শিশু মারা গেছে। হাসান মোল্লা ওই গ্রামের মহব্বর মোল্লার ছেলে।

দেওয়ানগঞ্জ, সরিষাবাড়ী, ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জ (জামালপুর) : দেওয়ানগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানিতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বেলতলী বাজার, গো-হাটি সড়ক,উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ প্রধান প্রধান সড়ক পানিতে থইথই করছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ঘুরে দেখা যায়, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করছে বানভাসি মানুষ।

অধিকাংশ টিউবওয়েলই তলিয়ে রয়েছে। ইসলামপুরে বন্যার চরম অবনতি হয়েছে। যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ইসলামপুর উপজেলার ১২টি ইউনয়ন ও ১টি পৌরসভার সিংহভাগ এলাকা তলিয়ে গেছে। বুধবার বিকাল ৩টা নাগাদ ২৪ ঘণ্টায় ১৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ইসলামপুরে যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১২৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে ইসলামপুর-দেওয়ানগঞ্জ রেল রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে ইসলামপুর -ঢাকা ট্রেন চলাচল অব্যাহত রেখেছে রেল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেওয়ানগঞ্জ বাজার স্টেশন মাস্টার আবদুল বাতেন।

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) : ফুলপুরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ছনধরা, সিংহেশ্বর ও ফুলপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা এবং রামভদ্রপুর, বওলা, রূপসী ও ভাইটকান্দি ইউনিয়নের আংশিক বন্যায় তলিয়ে গেছে।

শেরপুর : শেরপুরে পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বৃদ্ধি আবারও অব্যাহত রয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় শেরপুর ব্রহ্মপুত্র সেতু পয়েন্টে ২৮ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে শেরপুর সদর উপজেলার অনেক জায়গা ফের প্লাবিত হয়েছে। বাড়ি-ঘরে পানি ওঠায় কুলুরচর-বেপারিপাড়া গ্রামের ১০০ পরিবার রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বগুড়া : বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় দ্বিতীয় দফা বন্যা দেখা দিয়েছে। যমুনা ও বাঙালি নদীতে প্রতিদিনই পানি বাড়ছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক পরিবার আতঙ্কে দিন অতিবাহিত করছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, বুধবার বিকাল ৩টায় যমুনা নদীতে পানি বিপদসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীতে নৌকাডুবিতে শাহজাহান শেখ নামে এক ব্যক্তির চারটি গরুর মৃত্যু ও আসবাবপত্র ভেসে গেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার শিমুলতাইড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নওগাঁ : নওগাঁর আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মান্দা উপজেলার আত্রাই নদীর জোতবাজার পয়েন্টে বিপদসীমার ১২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় আত্রাই ও ফকিরনি নদীর উভয় তীরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ৫০টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বুধবার সকালে নদীর উভয় তীরের চারটি বেড়িবাঁধ ও জোকাহাট দাসপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে মান্দা-আত্রাই আঞ্চলিক সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।ইত্তেফাক