ত্রাণদাতাদের সম্মানে ওয়াশিংটনে জলাঙ্গী অনুষ্ঠিত

ত্রাণদাতাদের সম্মানে ওয়াশিংটনে জলাঙ্গী অনুষ্ঠিত

দস্তগির জাহাঙ্গীর ,ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র:

‌আমরা বাঙালী ফাউন্ডেশনের বন্যাত্রাণ তহবিলে অনুদান দাতাদের সম্মানে আয়োজিত সঙ্গীত সন্ধ্যা “জলাঙ্গী” অনুষ্ঠিত হয়েছে । যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ২২ অক্টোবর রবিবার সন্ধ্যায় আমেরিকান বাঙালী সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী আনিস খানের হোটেল হলিডে ইন এক্সপ্রেস বল রুমে এ কর্মসূচি আয়োজন করে সংগঠনটি।

“জলাঙ্গী” তে গান করেন দুই বাংলায় সমান ভাবে জনপ্রিয় রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী শ্রেয়া গুহঠাকুরতা ও বৃহত্তর ওয়াশিংটন এলাকার জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী দিনার মণি।
সঙ্গীত ও শ্রেয়া, মিলেমিশে একাকার। রবীন্দ্রসঙ্গীতের এক অস্তিত্বের নামই যেনো শ্রেয়া গুহঠাকুরতা।

শ্রেয়া গুহঠাকুরতা এক ঘন্টা ব্যাপী তাঁর কন্ঠের সুরের মাদকতায় ডুবিয়ে রাখেন সকল শ্রোতাদের।
শরতের বিকেল গড়িয়ে বাহিরে যখন আলো আধারী খেলা, হোটেল বলরুমে তখন “জলাঙ্গী”র আয়োজন প্রস্তুতি সম্পাদন শেষ করেন আমরা বাঙালীর ফাউন্ডেশনের প্রধান জীবক বড়ুয়ার নেতৃত্বে আমান উল্লাহ আমান, দেওয়ান আরশাদ আলী বিজয়, ফজলুর চৌধুরী, মোঃ আলতাফ হোসেন। মোস্তাফিজুর রহমান পরিচালকগন। শ্রোতাদের সামাজিকতার সব কথা সুরের ছন্দে হারিয়ে যাবে এইক্ষনে।

চিত্রকর, কবি সামিনা আমিনের কণ্ঠে ভেসে আসে তাঁর নিজের কবিতা খানি …”ভাসিল বাংলা হায়, ভেসে যায় দেশ/ভাসিল গফুর আর ভাসিল মহেশ/কত গেরামের কত শত শত ঘর/নিশ্চিহ্ন আজি দেখ বানের কবর/প্রাণহীন মানুষ আর গোবাদির স্তুপ/ জমে জমে পাহাড়, এ কি তার রূপ! /জলের ডাকে শোন মরণের গান/কে যেন গাইলো, জাগি উঠিল শশ্মান!/দুর্ভাগা বাঙালির কান্নার রোল/কে মোছাবে অশ্রু, দুখের কাজল,/ কে দেবে ঠাঁই তোরে, তৃষ্ণায় জল/ ক্ষুধায় অন্ন আর কিছু সম্বলমাথা নত করিবার আছে অবকাশ?/ ভুলে গেলি সহজেই তোর ইতিহাস?/এত সহজেই হার মেনে নিবি তোরা / মা’কে হারাবি আজ বিশ্বজোড়া ?/ শোন হতভাগ্য, হতোষ্মির দল/ ঘুরে দাঁড়ানোর সময় হইল কেবল……….

এরপর পিনপতন নীরবতায় সাদা পর্দায় ভেসে উঠে ” আমরা বাঙালী ফাউন্ডেশন” এর ত্রাণ বিতরণ কার্যের ছায়াচিত্র। কর্ম সক্ষমতার ছবি। করতালিতে ভেসে উঠে সুসজ্জিত হল রুম খানি।
সামিনা আমীন একে একে সাত পরিচালকের সবাইকে সাবার মাঝে পরিচয় করিয়ে দিবার ফাঁকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সভাপতি জীবক কুমার বড়ুয়া, সাথে উপস্থিত ছিলেন সকল পরিচালকবৃন্দ।

বাংলাদেশ দূতাবাসের উপপ্রধান, কবিতার প্রেমিক কবি মাহবুব হাসান সালেহ তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে সাত পরিচালকদের কর্মবীর বলে অভিহিত করেন।

ভক্ত শ্রোতাদের সরগরব উপস্থিতি শিল্পী শ্রেয়াকে বেশ উৎফুল্ল করে তুলে আর তাই শিল্পী নিজে তাঁর বাংলাদেশের শিকড়ের কথা, বাঙালীর কথা ও হৃদয়ের কথা তুলে ধরেন। এ সময় শিল্পীকে করতালিতে অভিন্দন জানায় দর্শক শ্রোতাগণ। মিসেস খান ” আমারা বাঙালী ফাউন্ডেশনে”এর পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন শ্রেয়া গুহঠাকুরতা কে।
মঞ্চে তখন সকলই প্রস্তুত, কীবোর্ড নিয়ে হীরন চৌধুরী, তবলায় দেবু নায়ক, বাঁশিতে মোহাম্মদ মজিদ, মন্দিরায় জয় দত্ত বড়ুয়া ও শিল্পী দিনার মনী ও শব্দ নিয়ন্ত্রক শিশির।
“জলাঙ্গী” সঙ্গীত সন্ধ্যা সুরের ঢেও নিয়ে আসে শ্রেয়ার কণ্ঠে “তোমায় গান শুনাবো” গানের সূরে। তিনি একটানা ঘন্টাধিক সময় ধরে রবির গানে বিমোহিত করেন সকল শ্রোতাদের। আর মোহ ভাঙ্গে তখন যখন সন্ধ্যার তাঁর শেষ গানটি গাইলেন ” চিরসখা হে ছেড়ো না মোরে”

অত্রাঞ্চলের জনপ্রিয় শিল্পী দিনার মণি সঙ্গীত সন্ধ্যার দ্বিতীয় পর্ব সুরের ঢেও তুলেন রবিঠাকুরের গান “কৃষ্ণ কলি আমি তারেই বলি”। তার পর একে একে জনপ্রিয় নজরুল গীতি, রাধারমনের গান, এসডি বর্মন ও লালনের গানে মুগ্ধ করেন শ্রোতাদের। দিনার মণি শেষ করেন লালনের গান ” জাত গেল জাত গেল বলে” পরিবেশনার মাঝে।
রাতের খাবার ও ছবি তোলার মাঝে ধীরে ধীরে ভেঙ্গে যেতে থাকে “জলাঙ্গী” র ঢেও যেমন আছড়ে পরে নদী কিনারে। এক রাশ আনন্দ নিয়ে শেষ হল আয়োজন “জলাঙ্গী”।