তেল-বিদ্যুৎ ও বাস ভাড়া কমানোর দাবি সিপিবির

যুগবার্তা ডেস্কঃ বিদ্যুৎ-গ্যাস এর মূল্য বৃদ্ধির তৎপরতার প্রতিবাদে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) পল্টন শাখা আয়োজিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, বিশ্ব বাজারে জ্বালানী তেলের দাম এক চতুর্থাংশে নেমে আসলেও দেশে না কমিয়ে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা মুনাফা করে ব্যবসায়ীর ভূমিকা পালন করছে।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জ্বালানী তেলের দাম কমিয়ে বাস ভাড়া ও বিদ্যুৎ এর দাম কমানোর উদ্যোগ নিয়ে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।
আজ বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পল্টন শাখার সম্পাদক মুর্শিকুল ইসলাম শিমুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, ঢাকা কমিটির সদস্য সেকেন্দার হায়াৎ, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের আহ্বায়ক আব্দুল হাশেম কবীর ও মীরপুর জোনের সম্পাদকম-লীর সদস্য রাসেল ইসলাম সুজন।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ঢাকা শহর সহ বিভিন্ন এলাকার বাসা-বাড়ীর গ্যাসের গ্রাহকদের জন্য ব্যবহার্য গ্যাসের হিসেব করে যে দাম ধরা হয় তার থেকে কম ব্যবহার করেন। এজন্য গ্যাসের দূর্নীতি অপচয় এরপরও বিভিন্ন গ্যাস কোম্পানীর হিসেবে ‘সিস্টেম গেইন’ নামক অদ্ভুদ শব্দ যুক্ত হয়েছে। তাই গ্যাস ক্ষেত্রের দূর্নীতি অপচয় বন্ধ করে বাসা-বাড়ীতে মিটার স্থাপন না করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনগণ মানবে না।
নেতৃবৃন্দ বলেন তেলের দাম বাড়ানোর আগে সরকার বাস মালিকদের সাথে কথা বলে ভাড়া বৃদ্ধি করে, তাহলে তেলের দাম কমানোর আগেই ভাড়া কমানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘সরকার আপতকালীন সময়ে জরুরী ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির জন্য দাম বাড়িয়ে খরচ কমলে ২০১৪ সাল থেকে দাম কমানোর কথা বলেছিল। এখন উৎপাদন খরচ কমেছে। জ্বালানী তেলের দাম কমলে খরচ আরও কমবে।’ বিদ্যুৎ এর দাম বৃদ্ধি নয়, কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে আনতে দ্রুত গণশুনানীর আয়োজনের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার গণশুনানীতে দাম বৃদ্ধির যুক্তি হাজির করতে পারে না তাই গণশুনানী বন্ধের পথ খুজছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশবাসী সরকারকে ব্যবসায়ী আর দূর্নীতিবাজদের পাহারাদার হিসেবে নয় জনবান্ধব হিসেবে দেখতে চায়। এমনিতে গরমে অতিষ্ট মানুষ আর মূল্য বৃদ্ধির নামে ‘পকেট কাটা’ আর ‘নতুন গরম’-এ অতিষ্ট হতে চায় না। নেতৃবৃন্দ পানি সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান।
সমাবেশে সভাপতি মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল বিভিন্ন ব্যাংক ও সংস্থার লুটপাটকৃত হাজার হাজার কোটি টাকা উদ্ধার এর দাবি জানিয়ে বলেন, এদেশে ১০ টাকা চুরির জন্য পিটিয়ে মানুষ মারা হয় অথচ হাজার কোটি টাকা চুরির জন্য বিচার হয়নি।
নেতৃবৃন্দ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়তে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি প্রতিরোধ, হত্যা, লুটপাট বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ সার্বিক সংকট থেকে দেশ-মানুষকে মুক্ত করে এগিয়ে নিতে দুবৃত্তায়িত রাজনীতির বাইরে আদর্শনীষ্ঠ রাজনৈতিক শক্তির বিকল্প শক্তি সমাবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সমাবেশের আগে পুরানা পল্টনের সিপিবি কার্যালয় থেকে মিছিল ও সমাবেশ করেও এসব দাবিতে মিছিল বের করা হয়।