তৃণমূলে গণতান্ত্রিক রাজনীতির বিকাশ ঘটাতে ইউপি নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে হবে-ওয়ার্কার্স পার্টি

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির শুক্রবার ও শনিবার দু’দিনের সভার প্রথমদিনে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পর্কে নিমোক্ত প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। আজ রাজধানীর শহীদ আসাদ মিলনায়তনে পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কমিটির সভার কাজ শুরু হয়েছে।
“নির্বাচন কমিশন সারা দেশব্যাপী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। ২২ মার্চ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত ৬ দফায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন জাতীয় জীবনে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তৃণমূলে গণতন্ত্রকে বিকশিত করা ও জনগণের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন মূল ভূমিকা পালন করে থাকে। দলীয় প্রতীকে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচন এই নির্বাচনকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। দলীয় পরিচয়ে নির্বাচন তৃণমূলে গণতান্ত্রিক রাজনীতির বিকাশ ঘটাবে। কিন্তু ঐ নির্বাচনের ওপর প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, প্রশাসনের সহায়তায় পূর্ব রাতেই ফলাফল নির্ধারণ, বুথ দখল, নমিনেশন ও নির্বাচন বাণিজ্য, অবাধ অর্থের ব্যবহার, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা-গণতান্ত্রিক রাজনীতির বিকাশকে বাধাগ্রস্তই করবে না কেবল, তাকে সমূলে ধ্বংস করবে। কেবল তাই নয়, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ১৪ দলসহ যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে তাকেও ক্ষুণœ করবে। এ অবস্থায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে অবাধ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করা জাতীয় কর্তব্য। নির্বাচন কমিশনকে এটা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তিকে এই প্রশ্নে এগিয়ে আসতে হবে। পুনরায় আওয়াজ তুলতে হবে, ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশী তাকে দেব’। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার পাশাপাশি এই শ্লোগানে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে ইউপি নির্বাচনকে অবাধ, স্বচ্ছ নিরপেক্ষ করার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করছে।”
সভার শুরুতে দুই কেন্দ্রীয় কমিটির সভার মধ্যবর্তী সময়ে যারা প্রয়াত হয়েছেনÑ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড সোহরাব হোসেন, দিনাজপুর জেলা কমিটির সদস্য কমরেড আফসার আলী, সাতক্ষীরা জেলা পার্টির সদস্য কমরেড দরবেশ আলী ও সন্ত্রাসবাদীদের হাতে নিহত পাবনার আটঘরিয়া শাখা সম্পাদক আবদুর রশীদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এছাড়া সভায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও এদেশের কমিউনিস্ট ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে মাতৃসম ¯েœহছায়া প্রদানকারী পার্টির সাবেক সদস্য কমরেড হায়দার আকবর খান রনোর মা কানিজ ফাতিমা মোহসীনার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। এছাড়াও মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তি কর্তৃক ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে উপমহাদেশের বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ ওস্তাদ আলাউদ্দিন খা স্মৃতি জাদুঘর ধ্বংসের তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
সভায় পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা রাজনৈতিক রিপোর্ট প্রদান করেন ও কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ, জ্যোতি শংকর ঝন্টু, কমরেড শরীফ শমশির, কমরেড নজরুল ইসলাম হক্কানী, কমরেড আলী আহমেদ এমরান, কমরেড নজরুল হক নীলু, কমরেড হবিবুর রহমান, কমরেড অনিল বিশ্বাস, কমরেড সালেহা সুলতানা, কমরেড নজরুল ইসলাম, কমরেড আনোয়ারুল হক বাবলু, কমরেড দিপংকর সাহা দিপু, কমরেড এ্যাড. আকসির এম চৌধুরী, কমরেড এ্যাড. ফিরোজ চৌধুরী, কমরেড সেকান্দর আলী, কমরেড এ্যাড. এন্তাজ বাবু, কমরেড মাসুদুর রহমান, কমরেড জাকির হোসেন রাজু, কমরেড সাব্বাহ আলী খান কলিন্স আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।