ঢাকা প্লাটুনের কাছে সিলেট থান্ডারের পরাজয়

6

কিরনঃ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০ ক্রিকেটে টানা দ্বিতীয় জয়ের স্বাদ নিলো মাশরাফি-তামিমের ঢাকা প্লাটুন। আজ ঢাকায় প্রথম পর্বে শেষ ও টুর্নামেন্টের অষ্টম ম্যাচে ঢাকা ২৪ রানে হারায় সিলেট থান্ডারকে। টসের বিপরীতে আগে ব্যাটিং করে এনামুল হকের ৪২ বলে ৬২ রানের সুবাদে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮২ রান করে ঢাকা। জবাবে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৮ রান করে ম্যাচ হারে সিলেট। এই নিয়ে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচই হারলো সিলেট।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিনের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বোলিং-এ নামে সিলেট। ব্যাট হাতে নেমে ঢাকাকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও এনামুল। ৯ দশমিক ৪ বলে ৮৫ রানের সূচনা আনেন তামিম ও এনামুল। তামিম সর্তকতার সাথে খেলতে থাকলেও মারমুখী মেজাজে ছিলেন এনামুল। তাই ঢাকার রান তোলার গতিও ছিলো গড়ে ৮এর উপর।
২৮ বলে ৫টি চারে ৩১ রান করে ঢাকার প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তামিম। গতকাল কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ৫৩ বলে ৭৪ রান করেছিলেন তামিম। তার বিদায়ের পর ইংল্যান্ডের লরি ইভান্সকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন এনামুল। হাফ-সেঞ্চুরিও তুলে নেন তিনি। ৪২ বল মোকাবেলায় ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ৬২ রান দেলোয়ার হোসেনের বলে মোসাদ্দে হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া এনামুল।
দলীয় ১১০ রানে এনামুল থামেন। ইভান্স ২১ বলে ২১ রানের ছোট ইনিংস খেলেন। মাঝে জাকের আলী ২টি ছক্কায় ১২ বলে ২০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। ১৭ দশমিক ২ ওভারে ৪ উইকেটে ১৫০ রানের কোটা স্পর্শ করে ঢাকা। এরপর জুটি বাঁধেন দুই বিদেশী শ্রীলংকার থিসারা পেরেরা ও পাকিস্তানের ওয়াহাব রিয়াজ। শেষ ১৬ বলে ৩২ রান যোগ করেন পেরেরা ও রিয়াজ।
গতকাল কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ১৭ বলে অপরাজিত ৪২ রান করেছিলেন ম্যাচের সেরা পেরেরা। আজ ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ১১ বলে ২২ রান করেন পেরেরা। ২টি ছক্কায় মাত্র ৭ বলে অপরাজিত ১৭ রান করেন রিয়াজ। সিলেটের নাইম-এবাদত-মোসাদ্দেক-দেলোয়ার ১টি করে উইকেট নেন।
জয়ের জন্য ওভারপ্রতি ৯ রানের বেশি টার্গেটে দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা খায় সিলেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আন্দ্রে ফ্লেচারকে ব্যক্তিগত ১০ রানে বিদায় দেন ডান-হাতি পেসার হাসান মাহমুদ। তিন নম্বরে নেমে আরেক ক্যারিবীয়ান খেলোয়াড় জনসন চার্লসও মারমুখী মেজাজে শুরু করেন। ৩টি চার ও ১টি ছক্কার পর রান আউটের ফাঁদে পড়েন তিনি। ৮ বলে ১৯ রান করেন র্চালস।
দুই বিদেশীর সাথে স্থানীয়রাও ব্যর্থতার পরিচয় দেন। ঢাকার বোলারদের বিপক্ষে অসহায়ত্ব দেখিয়ে ৬১ রানের মধ্যে প্যাভিলিয়নে ফিরেন রনি তালুকদার ও মোহাম্মদ মিঠুন। সাথে আফগানিস্তানের শফিকুল্লাহও। রনি ১৪, মিঠুন ৮ ও শফিকুল্লাহ ২ রান করেন।
৮ ওভারের মধ্যে পাঁচ ব্যাটসম্যানকে হারানোর পর দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন, নাইম হাসান ও দেলোয়ার হোসেন। ঢাকার বোলারদের উপর চড়াও হন মোসাদ্দেক। নাইমকে নিয়ে ৩৬ ও দেলোয়ারকে নিয়ে ৩৪ রান যোগ করেন মোসাদ্দেক। নাইম ১০ ও দেলোয়ার ১৭ রানে থামলেও হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান মোসাদ্দেক। শেষ পর্যন্ত ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪৪ বলে ৬০ রানে অপরাজিত থাকেন মোসাদ্দেক। এতে ৭ উইকেটে ১৫৮ রান করতে পারে সিলেট।
ঢাকার মাশরাফি-হাসান ২টি করে উইকেট নেন।