ঢাকায় দুই বাংলার সাহিত্যমেলা উদ্বোধক হাসিনা, আসছেন প্রণব

সমীর দেঃ একমাত্র সাহিত্যই পারে সাম্প্রদায়িকতার জাল ছিন্ন করতে। সাহিত্যের চর্চা যত বেশি হবে ততই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর জায়গা সঙ্কুচিত হবে। ‘‌আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন ২০১৮’‌ উপলক্ষে রবিবার ঢাকায় আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন। ১৩ থেকে ১৫ জানুয়ারি ঢাকায় বসছে দুই বাংলার সাহিত্যিক–বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে এক মিলনমেলা। শুধু দুই বাংলা থেকে নয়, সারা বিশ্ব থেকে তিন শতাধিক সাহিত্যিক এই সম্মেলনে অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি।
উদ্বোধনী বা সমাপনী— যেকোন একটি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে। ওই সময় কলকাতায় ৩২ দেশের শিল্পপতি ও শিল্প–উদ্যোক্তাদের নিয়ে বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট থাকায় আসতে পারছেন না তিনি। পাশাপাশি ওই সময় কলকাতায় রয়েছে লাখো পুণ্যার্থীর অংশগ্রহণে গঙ্গাসাগর মেলা। ফলে আন্তরিক ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তিনি আসতে পারছেন না।
সাংবাদিক সম্মেলনে এই সাহিত্য সম্মেলনের যুগ্ম আহ্বায়ক, নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের প্রধান উপদেষ্টা ও ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের সহ–সভাপতি সত্যম রায়চৌধুরী বলেন, ‘এই সাহিত্য সম্মেলনে আমন্ত্রণ পেয়ে আপ্লুত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বিধানসভায় সকল মন্ত্রী, বিধায়কের সামনে বাংলাদেশের পাঠানো এই পত্র পড়ে শুনিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মূলত দু’টি কারণে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনে অংশ নিতে আসতে পারছেন না। একটি, ওই সময় রয়েছে গঙ্গাসাগর মেলা। যে মেলায় লাখ লাখ পুণ্যার্থী অংশ নেন। আর দ্বিতীয়ত, ১৬ এবং ১৭ জানুয়ারি দু’‌দিন ব্যাপী কলকাতায় অনুষ্ঠিত হবে বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট। ১৫ জানুয়ারি এই শিল্প উদ্যোক্তাদের সৌজন্যে তিনি ডিনার পার্টি দিয়েছেন। ফলে আন্তরিক ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তিনি আসতে পারছেন না। তবে তিনি আমাকে বলেছেন, এবার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল, তবে এরপর যদি কখনও এই ধরনের অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, তা হলে অবশ্যই তিনি সেখানে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করবেন।’
সাহিত্য সম্মেলন উপলক্ষে বাংলা একাডেমীতে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সম্মেলনের সভাপতি এমিরেটস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সম্মেলনের প্রধান সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। বক্তব্য পেশ করেন নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত ঘোষ, ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের কলকাতা চ্যাপ্টারের সমন্বয়ক তপশ্রী গুপ্ত, ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের ঢাকা চ্যাপ্টারের সহসভাপতি পঙ্কজ দেবনাথ, কবিতা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ ও সাধারণ সম্পাদক তারিক সুজাত প্রমুখ।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব এই সম্মেলন বারবার করতে। এবারের সম্মেলন সফল করতে সকলের সহযোগিতা চাই।’ জয়ন্ত ঘোষ বলেন, ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ভারতের বেনারসে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে প্রথম নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন শুরু হয়েছিল। এরপর ৯৪ বছরে ৮৯ বার এ সম্মেলন ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবার আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলনের প্রধান সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করছে নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন ও ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ। তিনি সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সমাজ গড়তে সাহিত্যচর্চা বাড়াতে গুরুত্ব দেন। তপশ্রী গুপ্ত বলেন, এই সম্মেলনে কীভাবে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা যায় সে–ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, ১৯৭৪ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এবারের সম্মেলনে ৬টি সেমিনার, দু’টি মঞ্চনাটক এবং সঙ্গীত, গল্প ও কবিতা পাঠ, চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। সম্মেলন উপলক্ষে ২০১ সদস্যবিশিষ্ট আয়োজক পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।‌‌-সূত্র: ফেইসবুক