ডেঙ্গু থেকে শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে ক্যাম্পাস বন্ধের দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি

7

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ ঢাকাসহ সারাদেশে ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্যাম্পাস বন্ধের দাবিতে ঢাবি উপচার্য বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করেছে আজ।

এ সময় সংগঠনটি বলেছেন, রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের স্থান সংকুলান করা সম্ভব হচ্ছে না। ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও মুক্ত নয়। গত ২৬ জুলাই, ২০১৯ ফিন্যান্স বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থী ফিরোজ কবীর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার জানাজা ক্যাম্পাসে না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মাঝে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। এই ঘটনায় বোঝা যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীবান্ধব নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের হলসমূহে প্রচুর শিক্ষার্থী গণরুমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করে। গণরুমে বাস করা প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের এই বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থী ডেঙ্গু ঝুঁকিতে আছে। তাছাড়া হলের পরিবেশও যথেষ্ট স্বাস্থ্যকর না হওয়ায় হলে অবস্থানরত অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও ডেঙ্গু ঝুঁকিতে অবস্থান করছে। মেডিকেল সেন্টারে শয্যা ও ডেঙ্গু চিকিৎসার অপর্যাপ্ততা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক-অনাবাসিক সকল শিক্ষার্থীর জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। এমন জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশাসন চাইলেও এক মুহূর্তেই ক্যাম্পাসকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে পুরোপুরি মুক্ত করা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহে অবস্থানরত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। এমতাবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও হল বন্ধ ঘোষণার দাবি জানিয়ে স্মারক লিপি প্রধান করেছে।
উপচার্যকে দেওয়া স্মারক লিপিতে পাঁচ দফা দাবি করেন।দাবি গুলো হলো: জরুরি ভিত্তিতে ক্যাম্পাস ও হল বন্ধ ঘোষণা করতে হবে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা, হলের প্রতি কক্ষে ওডোমস ক্রিম ও মশা দূর করার স্প্রে সরবরাহ করতে হবে। ক্যাম্পাসে নিয়মিত মশার ওষুধ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে ও এডিস মশার সকল বিস্তারস্থল ধ্বংস করতে হবে। ফিরোজ কবিরের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
চিকিৎসক, ওষুধ ও যন্ত্রপাতির অপর্যাপ্ততা জরুরি ভিত্তিতে দূর করতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে চিকিৎসাকেন্দ্র আধুনিকায়ণ ও সম্প্রসারণ করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সকল স্বাস্থ্য সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।