ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যে ধারা নিয়ে আপত্তি আছে তা সমাধান করা হবে–আইনমন্ত্রী

19

যুগবার্তা ডেস্কঃ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন শুধু সাইবার অপরাধ দমন করার জন্য করা হয়েছে। বাক স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ব্যাহত করার জন্য এটি প্রণয়ন করা হয়নি। মন্ত্রী বলেন, এই আইন প্রণয়নের সময় বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া প্রতিনিধি, সিভিল সোসাইটি সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। তারপরও আইনটির যে ধারা নিয়ে স্টেক হোল্ডারদের কিছু অংশ আপত্তি জানাচ্ছে তা ‘ট্রায়াল অ্যান্ড এর‌্যার’ এর ভিত্তিতে সমাধান করা হবে।

আজ বিকালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার Michelle Bachelet এর সঙ্গে আইনমন্ত্রীর মন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের দ্বিপাক্ষীক বৈঠকে ওই আশ্বাস দেয়া হয়।

জাতিসংঘ নির্যাতন বিরোধী কনভেশনের (ইউএনসিএটি) পর্যালোচনা সভায় (রিভিউ মিটিং) যোগদানের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এর নেতৃত্ব বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এখন জেনেভায় অবস্থান করছে। ৩০ ও ৩১ জুলাই সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। জাতিসংঘ নির্যাতন বিরোধী কমিটি এ সভার আয়োজন করেছে। সভায় বাংলাদেশ থেকে পাঠানো নির্যাতন বিরোধী প্রতিবেদন নিয়ে পর্যালোচনা হবে। বাংলাদেশ থেকে এবারই প্রথম নির্যাতন বিরোধী প্রতিবেদন জাতিসংঘের নির্যাতন বিরোধী কমিটিতে দাখিল করা হয়েছে।
বৈঠকে আইনমন্ত্রী হাইকমিশনারকে জানান, মানবাধিকার বাংলাদেশের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। বতর্মান সরকার মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত আন্তরিক এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সব রকম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালীকরণের বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।এর অংশ হিসেবে কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রে সিভিল স্যোসাইটির মতামতের সুযোগ রাখা হয়েছে।
রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনার শুরুতেই Michelle Bachelet রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান এবং তিনি বলেন, মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।এসময় আইনমন্ত্রী তাঁকে বলেন, মায়ানমার পরিদশর্নের পূবে© বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদশ©ন করলে রোহিঙ্গা সমস্যার প্রকৃত কারণ অনুধাবন করা সহজ হবে। তাই মায়ানমার পরিদশর্নের পূবে© হাইকমিশনারকে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদশ©ন করার আমন্ত্রণ জানান আইনমন্ত্রী।
আইনমন্ত্রী হাইকমিশনারকে আশ্বস্ত করে বলেন, মানবাধিকার বিষয়ে বাংলাদেশ সবসময় জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার সাথে পারষ্পরিক আলোচনা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক, সুইজারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শামীম আহসান অংশ নেন।