ডাকসুর বক্তব্য অযৌক্তিক ও অগণতান্ত্রিক

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক প্রগতি বর্মণ তমা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, গত ৩০ এপ্রিল ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে যে বক্তব্য প্রকাশ হয় আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বক্তব্যে উল্লেখ ছিলো “দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে যে কোন অংশগ্রহণ এবং প্রতিযোগিতামূলক সহশিক্ষা কার্যক্রমে (বিতর্ক, নাটক, গান, নৃত্য, বক্তৃতা, আবৃত্তি, রচনা প্রভৃতি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি প্রেরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ একক এখতিয়ার রাখে। এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সংশ্লিষ্ট সম্পাদকগণ অতি দ্রুত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবেন।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো দীর্ঘ দিন ধরে স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের ফলে সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ ও ছাত্রদের অংশগ্রহণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্তমান সময়ে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরে ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতার প্রভাব প্রতিনিয়ত বাড়ছে। উপরন্তু এহেন সিদ্ধান্ত হবে কফিনে শেষ পেরেক ঠোকা!

ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের দৌরাত্ম্যে হল, বিভাগ ও টিএসসি ভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এমনিতেই স্বাধীনভাবে তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারছে না। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় কোন্ টিম অংশ গ্রহণ করবে বা কারা সেখানে থাকবে তা মেধার ভিত্তিতে নির্ধারিত না হয়ে ক্ষমতার রাজনীতির ভিত্তিতে নির্ধারিত হচ্ছে।

ডাকসুর মাধ্যমে ছাত্রলীগ ধীরে ধীরে ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো হরণ করার দিকে এগুচ্ছে। সকল গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে তাদের অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত ছাত্রদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করছে। ডাকসুকে আমরা ছাত্রদের অধিকার রক্ষার প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চাই – অধিকার হরণের নয়।

সাংস্কৃতিক চর্চার সামগ্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করবে এমন অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বয়কট করুন।