ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও নারী পুরুষের সমতা চাই

যুগবার্তা ডেস্কঃ ‘‘ লিভিং ওয়েজ –ন্যায্য মুল্য ’’ শিরোনামে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের র‌্যালী থেকে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধির ডাক দিয়েছে।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন এর ১৫ তম দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে আজ শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালীর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের ৪২ লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিকের জন্য জীবন-যাপন উপযোগী মজুরীর পাশা পাশি উন্নত মজুরী নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশী গার্মেন্টস পণ্যের ন্যায্য মুল্যও দাবী করেছেন।
র‌্যালী শুরুর আগে ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন এর সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক মিস সাফিয়া পারভিন, কেন্দ্রীয় নেতা মিস শিউলী আক্তার, মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক, নাসিমা আক্তার ও মোঃ সবুজ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ‘‘ গার্মেন্টস শিল্প বাংলাদেশের সবচাইতে বড় শিল্প যা দেশের রপ্তানীর ৮২ % পুরন করে। অথচ এই শিল্পের শ্রমিকদের মজুরী অত্যান্ত কম। চীন, থাইল্যান্ড তো দুরের কথা সাম্প্রতিক সময়ে শুরু করা দেশের তুলনায়ও বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরী কম। কম্বোডিয়ায় নিম্নতম মজুরী যেখানে ১৪০ ডলার, ভিয়েতনামে ১৫৫ ডলার, ইন্দোনিশিয়ায় ২০০ ডলার, এমনকি মাত্র শুরু করা মিয়ানমারে (বার্মা) ৮৫ ডলার – সেখানে বাংলাদেশে নিম্নতম মজুরী মাত্র ৫,৩০০ টাকা বা ৬৮ ডলার। তাই বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য এই অত্যান্ত স্বল্প মজুরী পরিবর্তন করে জীবন-যাপন উপযোগী মজুরী বা লিভিং ওয়েজ নিশ্চিত করা অত্যান্ত জরুরী ’’।
বক্তারা বলেন, ‘‘ লিভিং ওয়েজ নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশী গার্মেন্টস পণ্যের ন্যায্য মুল্য নিশ্চিত করাও অত্যান্ত জরুরী। পণ্যের ন্যায্য মুল্য ছাড়া শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরী নিশ্চিত করা দুঃসাধ্য। বাংলাদেশে প্রস্তুত ১ ডজন টি শার্টের জন্য বহুজাতিক কোম্পানী বা বায়াররা ক্রয় মুল্য দেয় মাত্র ১০ থেকে ১২ ডলার। অথচ এই টি শার্টি -ই তারা বিক্রি করে কমপক্ষে ৫ ডলার। বহুজাতিক কোম্পানী বা বায়ারদের এই বিক্রয় মুল্য এবং ক্রয় মুল্যের আকাশচুম্বী ব্যবধান কোন ভাবেই ন্যায্য মুল্য বা ন্যায্য বাণিজ্যের সংঙ্গায় পড়ে না। অন্যদিকে চীন, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া সহ অন্যান্য দেশের তুলনায় বায়াররা নানা অজুহাতে বাংলাদেশী পণ্যের মুল্য সব সময়ই কম দেয় — এটাও যুক্ত সংঙ্গত নয় ’’।
বক্তারা গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবন-যাপন উপযোগী বা লিভিং ওয়েজ নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশী গার্মেন্টস পণ্যের ন্যায্য মুল্য নিশ্চিত করার জন্য বহুজাতিক কোম্পানী, বায়ার, বাংলাদেশ সরকার, বিজিএম্ইএ, বিকেএমইএ এবং গার্মেন্টস মালিকদের প্রতি আহবান জানান।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে বাংলাদেশী পতাকা সহ বর্ণাঢ্য র‌্যালী পল্টন, প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট, তোপখানা রোড হয়ে ফেডারেশন কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। এতে কয়েক শত গার্মেন্টস শ্রমিক অংশ নেয় যাদের অধিকাংশই নারী শ্রমিক।