ট্রাম্পের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করলে আমেরিকা ধ্বংস হবে

40

যুগবার্তা ডেস্কঃ সকল বাধা উতরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ নিয়ে হোয়াইটে হাউসে প্রবেশর মধ্য দিয়ে তিনি হবেন বিশ্বের সবচেয়ে দাপুটে প্রেসিডেন্ট।
তিনি চাইলে নিজেকে বিশ্ববাসীর কাছে নিজেকে রুদ্রমূর্তির প্রতীক হিসেবেও দাঁড় করাতে পারবেন। আবার যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের স্মরণীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবেও নিজেকে উপস্থাপন করতে পারবেন, যেমনটি তিনি বিজয়ী ভাষণে উল্লেখ করেছিলেন যে, আমি সব মার্কিনির প্রেসিডেন্ট হতে চাই।
কিন্তু আসলেইকি তিনি তার বলা পথে যাবেন? নাকি আমেরিকাকে ধ্বংস করবেন? এই প্রশ্নগুলো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকদের মাথায় এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।
অনেকের মধ্যেদ্য দ্য নিউ ইয়র্কারের সম্পাদক ডেভিট রেমনিক টুইটে লিখেছেন, ট্রাম্পের জয় আমেরিকা প্রজাতন্ত্রের জন্য একটি ট্রাজেডি (বিয়োগগাথা)। দেশের সংবিধানের জন্য ট্রাজেডি। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস এবং উদার গণতন্ত্রের জন্য একটি গভীর ক্ষত। এটিকে অস্বস্তিকর ও উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে অভিহিত না করে পারা যায় না।
ট্রাম্পকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সচেতন মহলের এমন উদ্বেগের বেশ কিছু কারণ আছে। এর একটি হচ্ছে- গত ১৮ মাসের প্রচারণায় ট্রাম্প যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেগুলো যদি ট্রাম্প বাস্তবায়নে উদ্যোগী হন তবে সেটি অনেকেরই জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠবে।
ট্রাম্প অঙ্গীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে বসবাস করা ১১ মিলিয়নেরও বেশি অবৈধ অভিবাসী বের করে দেবেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করবেন। তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন, অস্ত্রের লাইসেন্স আরও সহজিকরণ করবেন, এমনকি স্কুলশিক্ষকদেরও অস্ত্রের লাইসেন্স দিয়ে দেবেন।
বলেছিলেন, গর্ভপাত বন্ধ করবেন। হিলারির ব্যক্তিগত ই-মেইল থেকে রাষ্ট্রীয় নথি চালাচালির দায়ে তাকে জেলে ঢুকাবেন এবং যেসব মিডিয়া তার সমালোচনা-বিরোধিতা করছে সেগুলোর লাগাম টেনে ধরবেন।
তাই মার্কিনিদের আশঙ্কা, ট্রাম্প যদি এসব ক্ষেপটে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে হাঁটেন তবে উদার গণতান্ত্রিক আমেরিকার ধ্বংস বাকি থাকবে না।
সদ্যসমাপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটে, কংগ্রেসের সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এই অবিশ্বাস্য জয়ে রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে ক্ষমতা পেতে যা”েছন তাতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই বলছেন, মার্কিনিরা যুগ যুগ ধরে বহু কিছুই দেখেছে তবে ভীতিকর অনেক কিছু দেখা এখনও বাকি রয়েছে।
তবে পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ আবার বলছেন, ট্রাম্প যদি তার প্রোগ্রামগুলো সত্যিই সুচিন্তিতভাবে বাস্তবায়নে উদ্যোগী হন তবে তিনি সত্যিকারার্থে একটি ভিন্ন আমেরিকা নির্মাণ করবেন। তিনি যদি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধর্মীয় সমতা-বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং তার পূর্বসূরির চালু করা স্বাস্থ্যসেবা নীতি (ওবামাকেয়ার) এগিয়ে নিয়ে যান তবে তিনি প্রশংসিত হবেন।
এখন শুধু অপেক্ষার পালা, নতুন বছরের ২০ জানুয়ারি শপথ নেয়ার পর তিনি কোন পথে হাটেন।-আমাদের সময়.কম