ঝুলে গেল চট্টগ্রাম সিটিসহ প্রায় ২শ’ নির্বাচন

2

কাজী জেবেলঃ করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ঝুলে গেল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুইশ’ নির্বাচন। আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত কোনো ধরনের নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ওই সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ না কমলে ওই নির্বাচনগুলো আরও পেছানো হবে।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে আজ বা কালের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিতে যাচ্ছে ইসি। অপর দিকে জাতীয় সংসদের শূন্য হওয়া আসনগুলোর মধ্যে যেগুলোতে প্রথম ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হচ্ছে না, সেগুলোতে পরবর্তী ৯০ দিনে নির্বাচন করার বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার পাবনা-৪ আসনের প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কোনো নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। আমরা ২০ জুলাই পর্যন্ত নির্বাচন না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ না কমলে স্থগিতের সময় আরও বাড়ানো হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের শূন্য আসনে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব হবে না সেগুলো পরবর্তী ৯০ দিনে করা হবে। পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যেও নির্বাচন করা সম্ভব না হলে রাষ্ট্রপতির কাছে পরামর্শ চাইব। রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মাধ্যমে যে পরামর্শ দেবেন সে অনুসারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ইসির কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, যশোর-৬ ও বগুড়া-১ সংসদীয় আসন ও অন্তত ৯২টি পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন পদের নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। গত ২৯ মার্চ এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

স্থগিত হওয়া নির্বাচনগুলোর মধ্যে চাঁদপুর ও সুনামগঞ্জ পৌরসভা এবং ৮২টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোট হওয়ার কথা ছিল। আরও জানা গেছে, বগুড়া-১ আসন শূন্য হয় গত ১৮ জানুয়ারি এবং যশোর-৬ শূন্য হয় গত ২১ জানুয়ারি। ইতোমধ্যে আসন দুটির উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের ৯০ দিন পার হয়ে গেছে।

সংবিধান প্রদত্ত সিইসির হাতে থাকা পরবর্তী ৯০ দিন পার হবে যথাক্রমে আগাগমী ১৫ ও ১৮ জুলাই। ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০ জুলাই পর্যন্ত কোনো নির্বাচন না হলে এ দু’টির ভোটের সময় শেষ হয়ে যাবে। তখন এ দু’টি আসনে নির্বাচনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পরামর্শ চাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।

এছাড়া করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর চাল চুরি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা কারণে উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার অন্তত ৮৫ জন জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর মধ্যে অনেককে অপসারণ করায় তাদের আসন শূন্য হয়ে গেছে। পাশাপাশি কয়েকটি পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এগুলোর নির্বাচনও সামনে রয়েছে।

আরও জানা গেছে, পাবনা-৪ আসনটি গত ২ এপ্রিল শূন্য হলেও এখনও তফসিল ঘোষণা করেনি ইসি। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৩ এর দফা (৪) অনুযায়ী ওই পদে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার পাবনা-৪ আসনে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে ইসি।

এতে বলা হয়েছে- সংবিধানের ১২৩(৪) অনুচ্ছেদ এর শর্তানুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণজনিত দৈব-দুর্বিপাকের কারণে এই দফার নির্ধারিত মেয়াদ অর্থাৎ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উল্লেখিত আসনে নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। এমন অবস্থায় পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের সময়সূচি পরবর্তীতে যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে। একইভাবে ঢাকা-৫ আসনের বিষয়েও প্রজ্ঞাপন জারি করবে ইসি।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৫ আগস্ট। ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত রাখা হলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে আপাতত আইনি জটিলতা দেখা দেবে না। তবে ওই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করা না গেলে কী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একজন যুগ্ম-সচিব বলেন, সিটি কর্পোরেশন ও উপজেলা পরিষদ আইনে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে না পারলে কী হবে- তা সিটি কর্পোরেশন আইনে বলা নেই।

তবে উপজেলা পরিষদ আইনে সরকার আইনে দৈবদুর্বিপাকজনিত বা অন্যবিধ অনিবার্য্য কারণে ওই সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন করতে না পারলে সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে ওই সময়ের পরে যেকোনো সময়ে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করার সুযোগ রয়েছে। এটিকে রেফারেন্স ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হচ্ছে। ওই চিঠিতে বলা হচ্ছে, যেসব নির্বাচনের তফসিল ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে, ইতোমধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধির পদ শূন্য হয়েছে এবং সামনে যেগুলো শূন্য হবে সেসব নির্বাচন আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে করা সম্ভব নয়।যুগান্তর