জয়ী হতেই সিটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি: মির্জা ফখরুল

7

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্যই বিএনপি অংশগ্রহণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আমরা যদি জনগণকে একত্রিত করতে পারি তাহলে অবশ্যই নির্বাচনে জয়ী হতে পারব। সুতরাং আমরা হেরে যাব- এ কথা বলতে রাজি নই। ঢাকা সিটি নির্বাচনে যে মিছিল হচ্ছে সেখানে অনেক বেশি মানুষ অংশ নিচ্ছে। আমরা হারব না, অবশ্যই এখানে বিজয় লাভ করব।

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে শুক্রবার এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। ‘নির্বাচনে আস্থাহীনতা, ইভিএমের ব্যবহার : বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এ বৈঠকের আয়োজন করে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি একটি উদারপন্থী দল। এর কাছে কেউ বিপ্লব আশা করলে হবে না। এই দল তার নিজস্ব চরিত্র নিয়ে এগিয়ে যাবে। আমরা প্রতি মুহূর্তে আন্দোলনের মধ্যে আছি। আমরা কোর্টে যাই, আলোচনা করি, নির্বাচনে যাই- সবই আন্দোলনের অংশ। এই আন্দোলনগুলোকে একসঙ্গে করে আমরা বড় আন্দোলনের দিকে এগিয়ে যাব।

হঠাৎ কিছু করে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে চান না মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমাদের অভিজ্ঞতা আছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় এবং ২০১৫-তে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে আমাদের এখনও অনেক বেগ পেতে হচ্ছে।

বিএনপির বিভিন্ন মিছিল বা র‌্যালিতে জনসমাগম হলেও আন্দোলনে নামতে গেলে রাস্তায় লোক কম হচ্ছে কেন- এ সমালোচনার জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক কর্মী নির্যাতনের শিকার হলে, গুম-হত্যার শিকার হলে তখন তার মধ্যে হতাশা কাজ করতে পারে। তাদের অনুপ্রাণিত করেই এগিয়ে যেতে হবে। রাজনৈতিক নেতাদের কাজ তাদের অনুপ্রাণিত করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পরিবেশ এবং ক্ষেত্র তৈরি হলে কর্মীরা উঠে আসে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সংকটই সংকট নয়। সংকট সামগ্রিকভাবে সারা দেশের। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একে একে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত সুকৌশলে, সুপরিকল্পিতভাবে, সুচিন্তিতভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ৩০ জানুয়ারির ভোট কোনো ভোট নয়। ওই তারিখে ধানের শীষ জিততে পারবে না। ওরা জিততে দেবে না। যদি ভোট হতো তাহলে নৌকারই খবর থাকত না। সেই জন্যই সমস্ত বুদ্ধিশুদ্ধি কাজ করছেন তারা। তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ভাইয়ের সঙ্গে কর্মী হিসেবে কাজ করতে রাজি আছি। কিন্তু পুতুপুতু করে কোনো রাজনীতি হবে না। ২০১৮ সালে ভোট চুরি করেছে, ডাকাতি করেছে, ছেড়ে দিয়েছি। এবার কিন্তু ছাড়ব না।

ইভিএম প্রসঙ্গে মান্না বলেন, ইভিএম যে একটা গজব, এটা আমরা সবাই বুঝি। মানুষ যা তৈরি করে তার নিজের জন্য তৈরি করে। নির্বাচন কমিশনকে পেছন থেকে কেউ ইভিএম আমদানি করিয়েছে। ওদের নিজেদের জন্য। ২০১৮ সালের ভোটের নামে যে ডাকাতি হয়েছে আর এখন যে ভোট হচ্ছে- একই কায়দায় করার সুযোগ নেই। অতএব তারা ভিন্ন একটা পথ নিয়েছে। ওইভাবে যদি তারা ভোট করতে যেত তাহলে পুলিশকে ম্যানেজ করতে হয়, বিজিবি-আর্মি যা যা আছে সবাইকে টাকা-পয়সা দিতে হয়, রাতের বেলা বিরিয়ানি খাওয়াতে হয়। এটা লজ্জার ব্যাপার। তাই তারা একটি মেশিন বের করেছে। এটা দিয়ে তারা সমস্ত দায় মেশিনের ওপরে দেবে। আপনি বলতে পারবেন না ওরা কেড়ে নিয়ে গেছে।

বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আখতার হোসেন। বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, আইন বিভাগের অধ্যাপক এবিএম বোরহানউদ্দিন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, সাংবাদিক এমএ আজিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ।-যুগান্তর