জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং প্রাণ প্রকৃতি বিনাশী প্রকল্প বন্ধের দাবি

36

যুগবার্তা ডেস্কঃ তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সুন্দরবনবিনাশী সকল বাণিজ্যিক তৎপরতা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া সকল রাজনৈতিক দলের কাছে সুন্দরবন রক্ষায় রামপালসহ বিভিন্ন বিষাক্ত প্রকল্প বন্ধের দাবিকে তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারে অন্তর্ভুক্ত করার আহবান জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শুধু রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়, এই কেন্দ্রের কারণে প্রলুব্ধ হয়ে দেশের বনগ্রাসী ভ‚মিগ্রাসী কতিপয় গোষ্ঠী তিন শতাধিক বাণিজ্যিক প্রকল্প নিয়ে সুন্দরবন ঘিরে ফেলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, গত কয়েক বছরে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, উন্মুক্ত কয়লা খনি, এলএনজি এবং এলপিজি’র লবিস্ট কোম্পানীর স্বার্থে কাজ করে যাওয়া ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর দৌরাতś আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। মন্ত্রণালয় এখন তাদেরই দখলে। সুন্দরবন ধ্বংকারী রামপাল কয়লাভিত্তিক প্রকল্প তাই এখনও বাতিল হয়নি, উপরন্তু কোনো প্রকার পরিবেশ সমীক্ষা না করে দেশের বিদ্যমান পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে উপক‚ল রক্ষাকারী বন বিনাশ করে মহেশখালি, বরগুনা ও পটুয়াখালিতেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সুন্দরবনের ঘাড়ের ওপর বসানো হচ্ছে এলএনজি প্লান্ট।
আজ সকালে পুরানা পল্টনস্থ মুক্তিভবনের ˆমৈত্রী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠন করেন সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। বক্তব্য রাখেন আহবায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও সংগঠক রুহিন হোসেন প্রিন্স। এসময় টিপু বিশ্বাস, বজলুর রশীদ ফিরোজ, নজরুল ইসলাম, বহ্নি শিখা জামালী, প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা, জাহাঙ্গীর আলম ফজলু, শামসুদোহা, নাসিরউদ্দিন নসু, মহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটন, শহীদুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে রুপপুর প্রকল্পের ব্যয়, পরিবেশ সমীক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের শ্বেতপত্র দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় দুটো দায়মুক্তি আইন বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে রাহুর মতো চেপে আছে। এর একটি ২০১০ সালে প্রথমে ৪ বছরের জন্য বহাল করা হয়, এরপর তার মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে গৃহিত সকল প্রকল্প দরপত্র ছাড়া, বিদ্যমান আইনী বাধ্যবাধকতার বাইরে গিয়ে বাস্তবায়ন করার এখতিয়ার নেয়া হয়েছে। এ সম্পর্কে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক আদালতের দারস্থ হতে পারবে না। এই দুর্নীতি অনিয়মের কারণেই একের পর এক অসম্ভব ব্যয়বহুল ক্ষতিকর প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের তফসিলের আগে এসব দায়মুক্তি আইন বাতিল, সকল রাজনৈতিক দলকে তাদের ইশতেহারে দায়মুক্তি আইন বাতিল করে সর্বজনের সম্পদ ব্যবহারে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার দাবি যুক্ত করার আহবান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ফুলবাড়ীতে জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় সরকার দেশি-বিদেশি লুটেরাদের স্বার্থে জাতীয় সম্পদ ধ্বংসের কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে। একমাত্র গণআন্দোলনই জাতীয় সম্পদ সুরক্ষায় সরকারকে বাধ্য করতে পারে। সচেতন মানুষকে এই আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহবান জানান।