জি-২০ সম্মেলনে পুতিনে মনোযোগ ছিল না মের্কেলের

যুগবার্তা ডেস্কঃ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে দেখে বিরক্ত হয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মের্কেল। শুক্র ও শনিবার জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হামবুর্গে জি-২০ সম্মেলন হয়। সেখানে মুখোমুখি হন দুই নেতা।
মের্কেলকে দেখে এগিয়ে আসেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। কোনও একটি বিষয় নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। তবে তাতে আগ্রহ দেখাননি জার্মান চ্যান্সেলর। তাই পুতিন কথা শুরু করতেই চোখ উল্টে বিরক্তি প্রকাশ করেন। সংবাদমাধ্যমের নজর এড়ায়নি সেই দৃশ্য। যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় সেই দৃশ্য প্রকাশিত হয়েছে।
সিরিয়ায় আসাদ বাহিনীকে সমর্থন করায় রাশিয়ার ওপর চটে আছে অনেক দেশ। যার মধ্যে অন্যতম জার্মানি। সেই জন্যই কি পুিতনকে দেখে বিরক্তি প্রকাশ করেন জার্মান চ্যান্সেলর? তার সদুত্তর মেলেনি।
তাদের সেই দৃশ্যের ভিডিওটিও ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় সাড়া জাগিয়েছে। সেখানে নানা মন্তব্য চোখে পড়েছে। যেমন, ফিলিপ হার্টাপ নামের এক ব্যক্তি টুইটারে লিখেছেন, ‘ মের্কেলকে মিগ ওড়ানোর গল্প শোনাচ্ছেন পুতিন। বলছেন, একবার উল্টো করে মিগ ওড়াচ্ছিলেন। সেই সময় একটি মার্কিন বিমান চোখে পড়ে। বিমান ঘুরিয়ে দেশে ফিরে না গেলে চড় কষাবেন বলে পাইলটকে হুমকি দেন তিনি।’
তবে মের্কেল ও পুতিন যে জার্মান ভাষায় কথা বলছিলেন তা নিশ্চিত সংবাদমাধ্যম। কারণ ১৯৮৫-১৯৯০ সাল পর্যন্ত পূর্ব জার্মানিতে ছিলেন পুতিন। ঝরঝরে জার্মান বলতে পারেন তিনি।
রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এর আগেও অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন এ্যাঞ্জেলা মের্কেল।
২০১৪ সালে ‘দ্য নিউ ইয়র্কার’ এর এক প্রতিবেদনে তেমনই একটি ঘটনা তুলে ধরেন মার্কিন সাংবাদিক জর্জ প্যাকার। তিনি লেখেন, জ্বালানি শক্তি সরবরাহ নিয়ে আলোচনা করতে ২০০৭ সালে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মের্কেল।
সোচিতে পুতিনের বাসভবনে বৈঠক চলছিল। সেই সময় আচমকাই নিজের পোষ্য ল্যাব্রাডর কোনিকে ডেকে পাঠান রুশ প্রেসিডেন্ট। ঘরে ঢুকেই মের্কেলের পায়ের কাছে ঘুরঘুর করতে শুরু করে সে। জামাকাপড় শুঁকতে শুরু করে।
১৯৯৫ সালে মের্কেলকে কুকুরে কামড়েছিল। সেই থেকে পোষ্য কুকুরের প্রতি ভীতি মের্কেলের। তা সবার মনে আছে। তাই পুতিনের এমন ব্যবহারে হকচকিয়ে যান মের্কেল।
কুকুরটি যতক্ষণ সেখানে ছিল, ভীতিতে ছিলেন তিনি। ভয় পাওয়ার কিছু নেই বলে তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন পুতিন। এই ঘটনায় জার্মান সংবাদমাধ্যম রুশ প্রেসিডেন্টকে একহাত নিতে ছাড়েনি। সেই নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়। ক্ষোভ উগড়ে দেন মের্কেলও।
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমার আতঙ্কের কথা জেনেও পুতিন কেন পোষা কুকুরটিকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন জানি। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে রাশিয়া অত্যন্ত দুর্বল। পুতিন নিজের দুর্বলতার কথা ভালমতোই জানেন। আমাকে ভয় পাইয়ে আদতে নিজেকে জাহির করতে চেয়েছিলেন।-আমাদের সময়.কম