জিয়া মোস্তাকের সবচেয়ে বিশ্বস্ত লোক ছিলেন–প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

3

যুগবার্তা ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জিয়া মোস্তাকের সবচেয়ে বিশ্বস্ত লোক ছিলেন বলেই তিনি তাকে সেনা প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। যদি বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সঙ্গে জিয়া জড়িত না-ই থাকবেন, তবে খন্দকার মোস্তাক তাকে কেন সেনাপ্রধান বানিয়েছিলেন?’

প্রধানমন্ত্রী আজ বিকেলে রাজানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, দেশবাসীকে মনে রাখতে হবে যে বাংলাদেশের মাটিতে মীর জাফর ও খন্দকার মোস্তাকের মতো বিশ্বাসঘাতকরা জন্মেছিলেন এবং যুগে যুগে ‘খুনী জিয়ার’ মতো মানুষ আসতেই থাকবে। তাই যুবসমাজসহ বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম দায়িত্ব নিতে হবে এবং কেউ যেন মানুষের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলতে না পারে সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে।
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনের পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন শহীদ আলতাফ মাহমুদের মেয়ে শাওন মাহমুদ, ঢাকা উত্তর নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ঢাকা দক্ষিণ নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৫ আগস্ট হত্যাকান্ডে অন্যান্য শহীদ, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খন্দকার মোস্তাক বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার বন্ধ করতে কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ ঘোষণা করেছিলেন। আর জিয়াউর রহমান সেই অধ্যাদেশকে আইন হিসেবে পাস করেন।
তিনি বলেন, ‘সংবিধান লংঘন করে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত শুরু হয়। তিনি জেল থেকে যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করেন এবং ৭ খুনের দন্ডপ্রাপ্ত আসামী শফিউল আলম প্রধানকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন।
শেখ হাসিনা ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষকে মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ উল্লেখ করে বলেন, তৎকালীন খাদ্য সচিব আব্দুল মোমেন ছিলেন এ দুর্ভিক্ষের মূলহোতা। ‘আব্দুল মোমেনকে জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য করা হয়’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পরে এ ধরনের আরো অনেক ষড়যন্ত্র করা হয়। এর কারণ ছিল বাংলাদেশকে আবারো পাকিস্তানের একটি প্রদেশে পরিণত করা।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর হত্যাকারীরা বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ইসলামিক প্রজাতন্ত্র রাখে। কিন্তু জনগণ এটি গ্রহণ না করায় তারা তা ধরে রাখতে পারেনি।