জিএম কাদের ফের জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান

দলের নেতাকর্মীদের দাবির মুখে গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে (জিএম কাদের) জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করেছেন দলটির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

বৃহস্পতিবার রাতে এক সাংগঠনিক নির্দেশনায় তাকে ওই পদে পুনর্বহাল করেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।

২২ মার্চ জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেন এরশাদ। পরে সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার পদ থেকেও সরিয়ে দেয়া হয় তাকে। ১৩ দিনের মাথায় নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন এরশাদ। এর আগে বুধবার রংপুর বিভাগের নেতারা জিএম কাদেরকে পুনর্বহালে এরশাদকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন।

কো-চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহালের বিষয়ে কথা বলতে জিএম কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিএম কাদেরকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার দাবিতে বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে জাতীয় পার্টি ঐক্যজোট ও তৃণমূল জাতীয় পার্টি। সেখানে নেতাকর্মীরা দাবি করেন, ‘উত্তরবঙ্গের অহঙ্কার, মিস্টার ক্লিন ম্যান খ্যাত জিএম কাদেরের মতো পরিচ্ছন্ন মানুষকে জাতীয় পার্টির সর্বোচ্চ দায়িত্বে দেখতে চাই। দেশের শান্তির জন্য জাতীয় রাজনীতিতে ভালো মানুষের বিকল্প নেই।’

এ সময় নেতাকর্মীরা বলেন, এরশাদ জেলে গেলে জাতীয় পার্টির দুঃসময়ে জিএম কাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে নেতাকর্মীদের পাশে এসে ছায়া হয়ে দাঁড়ান। পরে শেখ হাসিনার মহাজোট আমলে মন্ত্রী হয়েও তিনি অতি সাধারণ জীবনযাপন করেছেন। নীতি-আদর্শে সফলতার সঙ্গে রাষ্ট্রের দায়িত্বও পালন করেছেন। তাই তৃণমূলের দেয়া সময়ের মধ্যে দলের আগামী দিনের অভিভাবক জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করতে হবে।

নেতাকর্মীরা বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই যে- জিএম কাদের একজন সাবেক পেশাজীবী ইঞ্জিনিয়ার, জাতীয় পার্টির দুঃসময়ে এরশাদ মুক্তি আন্দোলনেও তার রয়েছে উজ্জ্বল ভূমিকা। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা রয়েছে। দশম জাতীয় সংসদে দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশক্রমে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। দীর্ঘ সময় সরকারের মন্ত্রী ছিলেন জিএম কাদের। কিন্তু দুর্নীতির কালিমা তাকে সামান্যতম স্পর্শ করেনি। নেতারা বলেন, গণতন্ত্রের বিকাশ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বিভিন্ন সময়ের ঘটনাবলী ও সমস্যা নিয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় তার অসংখ্য কলাম বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। লেখক হিসেবেও তার যথেষ্ট সুনাম আছে। জাতীয় পার্টির অনেক নেতাকর্মীর কাছে বিশ্বস্ত এবং আস্থাভাজন নেতা হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন ক্রমান্বয়ে। একজন পেশাজীবী থেকে সফল রাজনীতিবিদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন এভাবেই।

নেতারা বলেন, জিএম কাদেরকে সফল রাজনীতিবিদ বলছি এ কারণে যে, তার আচার-আচরণে সরলতা আছে। নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে সবাইকে তিনি তার পরিবারের সদস্য মনে করেন। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের জন্য তার দরজা ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে এবং থাকবে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে তার বাড়ির আঙিনা। তিনি আজ নেতাকর্মীদের মুখের দিকে তাকালেই বুঝতে পারেন কার কী সমস্যা।

সমাবেশ শেষে জিএম কাদেরকে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান পদে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে পার্টির চেয়ারম্যানের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। এরশাদের বারিধারার বাসভবন প্রেসিডেন্ট পার্কে রংপুরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এরশাদ।

বৈঠক শেষে মেয়র মোস্তফা বলেন, আমার সঙ্গে একান্তে চেয়ারম্যানের আট মিনিট কথা হয়েছে। স্যার (এরশাদ) আমাকে বলেছেন, তুমি যখন বলছো, করে দেব। আমার ধারণা, দুই-এক দিনের মধ্যেই কাদের ভাইকে (জিএম কাদের) কো-চেয়ারম্যান পদে বহাল করা হবে। তিনি আরও বলেন, কিছু দালাল স্যারকে কাদের ভাই সম্পর্কে বিভ্রান্ত করেছে। ৫ তারিখের মধ্যে ব্যবস্থা না হলে ৬ এপ্রিল গণপদত্যাগ হবে। রংপুরের আট জেলায় কোথাও জাতীয় পার্টির কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হবে না। কিছু নেতা সম্ভবত স্যারকে বলেছে, আমরা পদত্যাগ করলে কোনো সমস্যা হবে না। তাদের উদ্দেশে হুশিয়ারি দিয়ে মেয়র বলেন, ‘বাড়াবাড়ি করলে এসব নেতার চামড়া থাকবে না।’-যুগান্তর