জামায়াত–সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘ব্যবস্থা’ নেওয়ার নির্দেশ ৫৬১টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে

যুগবার্তা ডেস্কঃ জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। চিঠির সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন আর্থিক, সেবামূলক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ৫৬১টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা দেওয়া হয়।
গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে পুলিশও জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ১২৭টি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে ৩৭৩ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছিল।
গত রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমানকে দেওয়া এই চিঠিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা পরিষ্কার করে বলা হয়নি।
­যোগাযোগ করা হলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলম গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দেখার বিষয়, কেউ জঙ্গি অর্থায়ন করছে কি না। জঙ্গি অর্থায়ন প্রতিরোধের অংশ হিসেবেই বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’
যেকোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান (লিজিং কোম্পানি) ও মানি এক্সচেঞ্জ কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নিবন্ধন নিতে হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় তাই বাংলাদেশ ব্যাংককে এই চিঠি দিয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই চিঠির উৎপত্তিস্থল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দুই পৃষ্ঠার চিঠির সঙ্গে ২১৬ পৃষ্ঠার সংযোজনীসহ (প্রতিষ্ঠানের তালিকা) তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ২৯ অক্টোবর একই চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে পাঠায়।
সূত্রগুলো জানায়, এর আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতামূলক ঘটনার পেছনে কারা অর্থ-সহায়তা করছে, তা অনুসন্ধান করতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নির্দেশে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন বা নাশকতার আর্থিক মদতদাতাদের চিহ্নিত করতে বলা হয়।
যোগাযোগ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধের একটা সিদ্ধান্ত সরকারের আছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনটিতে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম-ঠিকানা উঠে এসেছে। এর মধ্যে যেগুলো জঙ্গি অর্থায়ন করে থাকে, বাংলাদেশ ব্যাংক সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’
এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার কোনো উদ্যোগ আছে কি না, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অপরাধের ধরন দেখে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত আসবে।’
কী ব্যবস্থা নেবে জানতে চাইলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসলাম আলম বলেন, ‘সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব বিধিবিধান আছে।’
৫৬১টি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে বিমা, সমবায় সমিতি, হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কোচিং সেন্টার, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর ঠিকানা এবং পরিচালনা পর্ষদ সদস্যদের নাম-পরিচয়ও তুলে ধরা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী, বিমা কোম্পানির সঙ্গে জামায়াত-সংশ্লিষ্টতা থাকলেও বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) কোনো চিঠি দেয়নি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। আইডিআরএর চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদও প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন যে তাঁরা এ ধরনের কোনো চিঠি পাননি।
যোগাযোগ করা হলে যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের কার্যালয়ের (আরজেএসসি) সদ্যবিদায়ী নিবন্ধক বিজন কুমার বৈশ্য বলেন, ‘বিদ্যমান কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো কোম্পানির বন্ধ হওয়ার দুটি উপায় রয়েছে। পর্ষদ সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বেচ্ছাবিলুপ্তি বা স্বেচ্ছা অবসায়ন এবং কারও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের মাধ্যমে অবসায়ন।’ তবে সমাজ বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে কোনো কোম্পানি জড়িত থাকলে নির্বাহী আদেশে সরকার যেকোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
তালিকার উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান: ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স, তাকাফুল ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স, ইবনে সিনা ক্লিনিক, ফার্মাসিউটিক্যালস ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ও কমিউনিটি হাসপাতাল, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, সোনারগাঁও হাউজিং, পাঞ্জেরী বাস সার্ভিসসহ কেয়ারী গ্রুপের সব প্রতিষ্ঠান।প্রথম আলো